ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

বাবা-ছেলে হত্যা, ৩০ বছর পর ফাঁসির আসামি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:২৪, ১ ডিসেম্বর ২০২৩
বাবা-ছেলে হত্যা, ৩০ বছর পর ফাঁসির আসামি গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আরিফ ওরফে সরিফুল ইসলাম

১৯৯৩ সালের ১৩ জুলাই কেরাণীগঞ্জের মালোপাড়া বারিশুর বাজারে একটি মুদি দোকানে পিতা-পুত্রকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আরিফ ওরফে সরিফুল ইসলাম (৫২) ৩০ বছর দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে র‍্যাব-১০ তাকে গ্রেফতার করে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ঘটনার পর আরিফ বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এসে নাম ও পরিচয় গোপন করে সরিফুল ইসলাম নামে একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে ঢেউটিন ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। পরে ঢেউটিন ফ্যাক্টরিটি বন্ধ হয়ে গেলে আরিফ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরিফুল পরিচয়ে মুদি ও লন্ড্রি দোকানের ব্যবসা চালাচ্ছিলেন।

Advertisement

র‍্যাবের ঐ কর্মকর্তা জানান, হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০০৪ সালের ২১ জুলাই আদালত আরিফসহ ৫ জনকে ডাবল মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন। ২০০৮ সালে হাইকোর্ট কর্তৃক পুনর্বিচারের জন্য মামলাটি নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়। নিম্ন আদালত সকল বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরিফসহ ৫ জনের ডাবল মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। রায় ঘোষণার সময় আরিফ ও মাসুদ পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত সাজা পরোয়ানা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

ঘটনার বর্ণনায় খন্দকার আল মঈন জানান, ঘটনার দিন শরিফ রাতে দোকানের কাজ শেষ করে বন্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং দোকানের পিছনের অংশে তার দুই ছেলে ঘুমাচ্ছিল। তখন শরিফের দোকানে গ্রেফতা আরিফ ও তার অন্যান্য সহযোগীরা এসে সিগারেট ও অন্যান্য মালামাল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিলে বাকবিতণ্ডা বাঁধে। পরে তারা দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে শরিফ বাধা দেয়। এ সময় আরিফ ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। চিৎকার শুনে দোকানের পিছনের অংশে ঘুমিয়ে থাকা তার দুই সন্তান বাবাকে বাঁচাতে আরিফ ও তার সহযোগীদের হাতেপায়ে ধরে আকুতি-মিনতি করতে থাকে। কিন্তু তারা ভিকটিমের দুই সন্তানকেও নৃশংসভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ৩ জনই মারা গেছে ভেবে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

পরদিন ভোরে স্থানীয়রা নিহত শরিফের দোকান খোলা দেখে সেখানে আসে এবং দোকানের ভিতরে তিনটি নিথরদেহ পড়ে থাকতে দেখে শরিফের বড় ছেলেকে খবর দেয়। বড় ছেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায় তার বাবা ও তার ছোট ভাই খোকন মারা গেছেন এবং তার অপর ভাই শাহজাহান গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে আছে। এ সময় শাহজাহানকে বড় ছেলে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, ভিকটিম শরিফুল কেরানীগঞ্জের মালোপাড়া বারিশুর বাজারে মুদি দোকানের ব্যবসা করতেন। গুদারাঘাট সংলগ্ন দোকান হওয়ায় শরিফ প্রায়সময়ই মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্রি করতেন। তার দুই ছেলে খোকন (তৎকালীন বয়স ৯) ও শাহজাহান (তৎকালীন বয়স ১২) নিয়মিত শরিফের রাতের খাবার বাসা থেকে নিয়ে আসতো। তারা তার বাবার সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে পড়াশোনা করে দোকানেই ঘুমিয়ে পড়তো। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!