সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় খুলনার হোটেল সিটি ইনে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আয়োজিত অংশীজন সম্মেলন-২০২৬-এ এসব কথা বলেন তিনি।
সম্মেলনে খুলনা-২ আসনের এমপি জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত, খুলনা রেল ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
.png)
মোংলা বন্দরকে দেশের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, খুলনা-মোংলা যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে পরবর্তী পর্যায়ে প্রকল্প নেওয়া হবে। এ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রকল্পে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হওয়ায় এর সুফল এবং মোংলা বন্দরের রাজস্ব সক্ষমতাও বিবেচনা করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
মোংলায় এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগের বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে এলএনজি সরবরাহ অনেকটাই চট্টগ্রামনির্ভর। চট্টগ্রামের দুটি এফএসআরইউর একটিতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মোংলায় এলএনজি সরবরাহের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তার সম্মতির পর বিষয়টি নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এফএসআরইউ স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে মোংলার আকরাম পয়েন্ট পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেখানে সম্ভাবনা দেখা গেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই ও হাইড্রোমরফোলজি সমীক্ষা করতে হবে।
মোংলা বন্দরের নাব্যতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নদীর বিভিন্ন অংশে সাত মিটার, সাড়ে ছয় মিটার এবং কোথাও ২২, ২৫ এমনকি ৩০ মিটার পর্যন্ত গভীরতা পাওয়া গেছে। তবে জাহাজ চলাচলের জন্য নিরবচ্ছিন্ন নাব্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, ‘১০ মিটার ড্রাফট নিশ্চিত করা গেলে বড় জাহাজ মোংলা বন্দরে আসতে পারবে।’ নাব্যতা ধরে রাখতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং, রক্ষণাবেক্ষণ ও স্পট ড্রেজিং—যেখানে যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে। বিষয়টি তাঁর বিশেষ নজরে থাকবে বলেও জানান তিনি।
ড্রেজিং কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, নাব্যতা ধরে রাখতে ড্রেজিংয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ড্রাফট পাওয়া যায় না। কোথাও সঠিকভাবে ড্রেজিং না করেই বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করে ড্রেজিং কার্যক্রম আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে হবে।
বন্দরের নৌপথে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত জাহাজ বা রেক অপসারণের বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। প্রয়োজন হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেক অপসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
অংশীজন সম্মেলনে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, একটি প্রতিষ্ঠান আগামী ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের কাজ শুরু করতে আগ্রহী। এ ধাপে শিল্প ও সেবা খাতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
দ্বিতীয় ধাপের কাজ তিন বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ পর্যায়ে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ওই উদ্যোগের আওতায় মোংলায় দুটি বা তিনটি জেটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে বন্দরের নাব্যতা নিশ্চিত করার কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, মোংলাকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বাণিজ্যিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা শুধু আঞ্চলিক নয়, এটি জাতীয় পরিকল্পনার অংশ। বন্দরকে ঘিরে শিল্প, সেবা, আমদানি-রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে তার জন্ম হওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। তবে বর্তমানে তিনি ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য। একজন মন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পুরো বাংলাদেশের প্রতি। দেশের যেসব অঞ্চলে উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চল অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। উপযুক্ত নেতৃত্ব ও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে এ অঞ্চল এত দিন পিছিয়ে ছিল। এখন আর পিছিয়ে থাকার সময় নেই। দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সময় এসেছে।
মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বন্দরের অবকাঠামো, নাব্যতা, জেটি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এর মাধ্যমে মোংলা শুধু দেশের একটি বন্দর নয়, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে।