মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মাজাহারুল ইসলাম।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইরফান পাইকগাছা উপজেলার শ্রীকণ্ঠপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মো. কামরুল মোড়লের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি খুলনা বিএল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
.png)
মামলার নথি থেকে জানা যায়, পারিবারিক সম্পত্তি ইরফানের নামে লিখে দেওয়ার জন্য তার মা ফাতেমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে নুর জাহানের ওপর চাপ দিতেন। এ নিয়ে পরিবারে প্রায়ই বিরোধ হতো। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইরফান মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকা না পেলে তিনি দাদিকে মারধর করতেন। ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর সকালে মাদকের টাকা জোগাড় করতে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন তিনি। এ সময় দাদি নুর জাহান বাধা দেন।
পরে ওই দিন দুপুরে ডাব পাড়ার জন্য গাছে উঠলে নুর জাহান তাকে বাধা দেন। দুপুর সাড়ে ১টার দিকে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে ধারালো দা দিয়ে দাদিকে আঘাত করে পালিয়ে যান ইরফান। ঘটনাস্থলেই নুর জাহানের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফুলি বেগম বাদী হয়ে ওই দিন আদালতে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (অপারেশন) দেবাশীষ দাশ ইরফানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র দায়রা জজ মোশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলাটি খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালত ইরফানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।