২২ বছরে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২৯৫৭ জন
২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ মোট ২ হাজার ৯৫৭ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে পুলিশের অভিযানে। এ সময়ে পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭১ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৬ শতাংশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আসকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অভিযানে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০ জন। এ ছাড়া পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে একই ধরনের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৬৯ জন। সব মিলিয়ে পুলিশ, র্যাব ও তাদের যৌথ অভিযানে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৬৪০।
দীর্ঘ সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এসব মৃত্যুর ঘটনা মানবাধিকার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণিত ঘটনাগুলোর প্রকৃত পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে আসকের পরিসংখ্যান মূলত নথিভুক্ত মৃত্যুর সংখ্যা তুলে ধরে। প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও দায় নির্ধারণে পৃথক তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
আসকের বার্ষিক প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর থেকে পুলিশ বা র্যাবের হাতে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ কোনো মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়নি। তবে এ সময় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এমন মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে একজন নিহত হন। ২০২৫ সালে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। আর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে একজন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ, পুলিশ ও র্যাবের ক্ষেত্রে এমন মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত না হলেও অন্যান্য বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
আসকের হিসাবে, ২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ, র্যাব, তাদের যৌথ অভিযান এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ মোট ২ হাজার ৯৫৭ জন নিহত হয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ের পরিসংখ্যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি এসব ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার গুরুত্বও সামনে এনেছে।