জঙ্গলে এক গাধা ছিল। সরল-সোজা, কিন্তু একটা সমস্যা—নিজেকে অবমূল্যায়ন করা তার স্বভাব।
একদিন পথে পড়ে থাকা একখানা সিংহের চামড়া পেল।
.png)
গাধা ভাবল, “এই তো সুযোগ! আজ আমি সবাইকে দেখাব আমি কত বড় শক্তিশালী!”
চামড়া পরে গাধা আয়নায় তাকালো—নিজেকে সিংহ সিংহ লাগছে!
সাহস উঠে গেল মাথায়।
সে জঙ্গলের ভেতর হাঁটতে হাঁটতে ভয় দেখাতে শুরু করল।
হরিণ দৌড়ায়, বন্য ছাগল পালায়, বানর গাছে উঠে যায়—সবাই ভয়ে কাঁপে।
গাধার বুকটা হাপরের মতো ফুলে ওঠে।
“আমি তো দারুণ!”
একটা শিয়াল বহু দূর থেকে পুরো দৃশ্য দেখছিল।
দেখেই ভাবল,
“সিংহ তো ঠিক আছে, কিন্তু হাঁটার ছন্দটা যেন একটু… গাধার মতো লাগে?”
শিয়াল গাছে উঠে লুকিয়ে রইল আর অপেক্ষা করতে লাগল।
গাধা এতটাই উত্তেজিত হয়ে যায় যে সিংহের ভীতি বজায় রাখার নিয়মটাই ভুলে যায়।
অতঃপর গাধা জোরে চিৎকার দিল—
“হি ই ই ই হা আ আ আ!”
চিৎকারটা শোনামাত্র শিয়ালের হাসি থামতেই চায় না।
সে নেমে এসে বলে,
“বন্ধু, সিংহের চামড়া পরে সিংহ হওয়া যায়,
কিন্তু গলা বদলানো যায় না।”
গাধা লজ্জায় মাথা নিচু করে।
কেউ যত বড় সাজপোশাকই পরুক, আসল পরিচয় বের হয়ে যায় আচরণ আর কথায়।
নিজেকে বদলে বড় হতে চাইলে চামড়া নয়, চরিত্র বদলাতে হয়।আর মুখ বন্ধ রাখতে হবে , মুখ যত খুলবেন , তত বিপদ ।