যুক্তরাষ্ট্রের রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ত্বকে কার্বক্সিলিক অ্যাসিড বেশি থাকে, তারা মশার কাছে অধিক আকর্ষণীয়। এছাড়া গর্ভবতী নারীরা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করেন, যা মশাকে আকৃষ্ট করে। এসবই মশার ‘টার্গেট’ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
মশা সম্পর্কিত কিছু অজানা তথ্য
.png)
- মশার প্রায় ৩,৫০০ প্রজাতি আছে। এর মধ্যে অল্প কিছু প্রজাতিই কেবল মানুষসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীকে কামড়ায়। বাকিরা নির্ভর করে ফুলের মধুর উপর! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও তা সত্যি! মশাও ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে!
- পৃথিবীর সবচাইতে মারাত্মক প্রাণী মশা। প্রতিবছর মশার কারণে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
- একটি মশা সেকেন্ডে প্রায় ৩০০-৬০০ বার ডানা ঝাপটাতে পারে। তাই মশা কানের কাছে আসলে আমরা যে শব্দ শুনি তা মূলত মশার ডানা ঝাপটানোর শব্দ।
- কোন মশা যদি আপনাকে কামড়িয়ে থাকে তাহলে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারে যে সেটা স্ত্রী মশা! কারণ কেবলমাত্র স্ত্রী মশাই মানুষকে কামড়ায়। মানুষের রক্ত ভালো প্রোটিনের উৎস, আর স্ত্রী মশার সেটা দরকার পরে তার ডিমের জন্যে। আর পুরুষ মশারা আপনার চারপাশে থেকে আপনাকে ব্যতিব্যস্ত রাখবে যাতে স্ত্রী মশাটি নির্বিঘ্নে রক্ত শুষে নিতে পারে।
- একটি মশা ঘণ্টায় প্রায় ১-১.৫ মাইল বেগে উড়ে যেতে সক্ষম !
- মশা অতি অল্প সময়েই কামড়ানোর উপযোগী হয়ে উঠে। ডিম থেকে বের হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি পূর্ণবযস্ক মশার মত আচরণ করতে শুরু করে।
- নিয়মিত গোসল না করলে, অতিরিক্ত ঘামলে, শরীরের উত্তাপ বেশি হলে মশা কাউকে সহজেই ভিক্টিম হিসেবে চিহ্নিত করে নিতে পারবে।
সব অঞ্চলে মশা থাকে না কেন?
পৃথিবীর কিছু অঞ্চলে- যেমন আইসল্যান্ড বা অ্যান্টার্কটিকা- মশা একেবারেই নেই। কারণ, সেখানে প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয় উষ্ণতা ও জমে থাকা পানি নেই। এসব অঞ্চলের জলবায়ু মশার বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত নয়।
বাংলাদেশে চিহ্নিত ১২৬ প্রজাতির মশা
গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১২৬টি মশার প্রজাতি চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই পাওয়া যায় ১৬ প্রজাতি। বাংলাদেশে যে মশাবাহিত রোগগুলো বেশি দেখা যায়, সেগুলো হলো- ডেঙ্গু (এডিস ইজিপ্টি ও অ্যালবোপিকটাস মশা), চিকুনগুনিয়া (এডিস মশা), ম্যালেরিয়া (অ্যানোফিলিস মশা), ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ (কিউলেক্স ও ম্যানসোনিয়া মশা), জাপানিজ এনকেফালাইটিস (কিউলেক্স মশা)।