ভেনেজুয়েলার পাহাড়ী অঞ্চলের অধিবাসীরা ঐ গাছ থেকে দুধের মতো রস সংগ্রহ করে এবং পানীয় হিসেবে ব্যবহার করে। পুষ্টিগুণ গরুর দুধের সমান। এই গাছগুলোকে 'Cow tree' বলা হয়। ফরেসথিয়া ফুলের রসও ভালোই ল্যাক্টোজ গুণ সম্পন্ন। এর রসও দুধের বিকল্প হিসেবে পান করা যায়।
আর আছে সয়া দুধ, সয়াবিন থেকে পাওয়া যায়। সয়া দুধ হলো সয়াবিন ভিজিয়ে, পিষে ও ছেঁকে তৈরি করা একটি পুষ্টিকর উদ্ভিদ-ভিত্তিক পানীয়। এটি সাধারণ গরুর দুধের একটি দারুণ বিকল্প। ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা যারা ভেগান জীবনধারা মেনে চলেন, তাদের জন্য এটি বেশ উপযোগী। পৃথিবীর বহু মানুষ সয়া দুধ পান করে এবং সেই দুধ থেকে নানা খাবার প্রস্তুত করা হয়।
.png)
চালের দুধ (Rice milk), চালের দুধ হলো চাল ও পানি দিয়ে তৈরি একটি উদ্ভিদভিত্তিক পানীয়। যা তৈরি করা হয় বাদামী চাল ও তার সিরাপ থেকে। বেশ সুস্বাদু। প্রোটিন এবং বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ পদার্থে ভরপুর। এটি ল্যাকটোজ মুক্ত হওয়ায় গরুর দুধের বিকল্প হিসেবে দারুণ জনপ্রিয়। এটি সহজে হজম হয় এবং ভেগান ডায়েটে খাওয়া যায়।
বাদাম দুধ। তৈরি করা হয় অ্যালমন্ড থেকে। এটির স্বাদে অ্যালমন্ডের মতো। অনেক সময় স্বাদে ও গন্ধে গোরুর দুধের মতো করা হয়। এতে থাকে না কোলেস্টেরল, থাকেনা ল্যাকটোজ, সম্পৃক্ত স্নেহ থাকে কম। এই দুধ বানিয়ে নিতে পারেন বাড়িতেও, রেসিপিটা শুধু জেনে নেবেন। বাদাম দুধ, ওজন হ্রাস, শক্তিশালী হাড়, ভাল দৃষ্টি এবং একটি সুস্থ হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী। এর স্বাদ মাটির মতো এবং মসৃণ। এতে কোনো ল্যাকটোজ নেই, ফলে ল্যাকটোজ-অসহিষ্ণু শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটি আদর্শ।
শনের ( তন্তুজ উদ্ভিদ) দুধ, নাম শুনে অনেকেই অবাক হয়ে যাবেন। কিন্তু সত্যিই শনের বীজ থেকেও দুধ পাওয়া যায়। শনের বীজ থেকে তৈরি উদ্ভিজ্জ দুধকে হেম্প মিল্ক (Hemp Milk) বলা হয়, যা পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং প্রাকৃতিকভাবে ল্যাকটোজমুক্ত। পুষ্টিগুণ মন্দ নয়।
নারকেলের দুধের সঙ্গে আমাদের পরিচয় তো ভালো রকম আছে । এতে থাকে প্রচুর ফ্যাট, তাই তেমন নিশ্চিন্তে খাওয়া চলে না ।তবে চিংড়ির মালাইকারিটা নারকেলের দুধ ছাড়াতো চলে না।তবে মাঝে মধ্যে অল্পস্বল্প খাওয়া চলতে পারে।
দুধে ভাতের কথাটা আমাদের মুখে মুখে ঘুরলেও জাপানের জনপ্রিয় 'ভাতের দুধ' -এর খবর আমরা অনেকেই জানিনা, নাম তার অ্যামাজাক(Amazake)।
সেই রকম দুধ কলার কথা আমরা শুনলেও 'কলার দুধে'র কথাও অনেকেই জানিনা। দক্ষিণ কোরিয়ায় এই দুধ দারুন জনপ্রিয়। কুমড়ো বীজের দুধের (Pumpkin seed milk ),উপকারিতাও কিন্তু দারুন!
আরো এই রকম অনেক গাছের দুধ আছে। সামনের সারিতে স্থান করে নিয়েছে প্রায় 17 রকমের উদ্ভিদ। যাক গাছের দুধ বলতে সাধারণত উদ্ভিজ উপাদানের জলীয় দ্রবণকে বোঝায়।
শরীরকে সুস্থ রাখতে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেতেই পারেন, প্রাণীজ বা উদ্ভিজ্জ যাই হোক,অবশ্যই ভেবে চিন্তে । তবে ভুল বুঝে পেঁপে, কল্কে, ধুতুরা, আকন্দ, বট এইসব গাছের রস সাদা দুধের মতো হলেও খেতে যাবেন না, ঘটে যেতে পারে বিপদ।
সুস্থ থাকুন।