ঢাকা,  রোববার   ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

রাসুল (সা.) শেখানো বেশি সওয়াবের ২০ আমল

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৫৬, ৪ অক্টোবর ২০২৬
রাসুল (সা.) শেখানো বেশি সওয়াবের ২০ আমল
সংগৃহীত ছবি

রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে এমন অনেক আমলের শিক্ষা দিয়েছেন, যেগুলো পালন করা তুলনামূলক সহজ হলেও এর মাধ্যমে অনেক সওয়াব অর্জন করা যায়। এসব আমল মানুষের জীবনে বরকত বয়ে আনার পাশাপাশি পরকালের পাথেয় সমৃদ্ধ করার সুযোগ করে দেয়।

নেক আমলের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এবং একে অন্যের সঙ্গে ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করতে এমন কিছু আমল সম্পর্কে জানা জরুরি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০টি আমল হলো—

Advertisement

১. উত্তম চরিত্র

আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মিজানে উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী কোনো আমল নেই।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭৯৯)

২. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি করা হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৬৭)

৩. জামাতে নামাজ আদায় করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জামাতে নামাজ একাকী নামাজের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৬)

৪. ঘরে নফল নামাজ পড়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজ ছাড়া মানুষের সর্বোত্তম নামাজ হলো তার ঘরে আদায় করা নামাজ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২৯০)

৫. মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে নামাজ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তাঁর মসজিদে এক নামাজ অন্য মসজিদে এক হাজার নামাজের চেয়ে উত্তম। তবে মসজিদুল হারাম এর ব্যতিক্রম; সেখানে এক নামাজ অন্যত্র এক লাখ নামাজের চেয়ে উত্তম। (মুসনাদ আহমদ, হাদিস: ১৬১১৭; ইবনু হিব্বান, হাদিস: ১৬২০)

এ ছাড়া মসজিদে কুবায় নামাজ আদায়েরও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করে মসজিদে কুবায় এসে নামাজ আদায় করে, তার জন্য একটি ওমরাহর সমান সওয়াব রয়েছে। (নাসায়ি ও ইবনু মাজাহ)

৬. জুমার দিনের আদব পালন করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি গোসল করে উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে, সকালেই মসজিদে যায়, আগে আগে উপস্থিত হয়, ইমামের কাছাকাছি বসে এবং অনর্থক কথা বলে না, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও রাতের নামাজের সওয়াব রয়েছে। (ইবনু মাজাহ, হাদিস: ১০৮৭)

৭. সালাতুদ দুহা বা চাশতের নামাজ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের শরীরের প্রতিটি জোড়ের ওপর প্রতিদিন সদকা রয়েছে। তাসবিহ, তাহমিদ, তাহলিল, তাকবির, সৎকাজের নির্দেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ—সবই সদকা। আর চাশতের দুই রাকাত নামাজ এসবের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২০)

৮. মসজিদে গিয়ে ফরজ নামাজ আদায় করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ফরজ নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে বের হয়, তার সওয়াব ইহরাম পরিহিত হাজির সওয়াবের মতো। (আবু দাউদ, হাদিস: ৫৫৮)

৯. প্রথম কাতারে থাকার চেষ্টা করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম কাতারের মুসল্লিদের জন্য তিনবার এবং দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। (ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৯৯৬)

১০. আজানের জবাব দেওয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তারা (মুয়াজ্জিনরা) যা বলে, তোমরাও তা বলো। এরপর যখন শেষ করবে, তখন দোয়া করবে; তোমাকে তা দেওয়া হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৫২৪)

১১. হজ-ওমরাহ করা বা এতে সহযোগিতা করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পরপর হজ ও ওমরাহ পালন করো। কারণ এগুলো দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৮১০)

১২. মসজিদে ইলমের মজলিসে অংশ নেওয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি শুধু কোনো কল্যাণকর বিষয় শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে সকালে মসজিদের দিকে যায়, তার জন্য পূর্ণ হজ আদায়কারী ব্যক্তির সমান সওয়াব রয়েছে। (সহিহুত তারগিব, হাদিস: ৮৬; তাবারানি, হাদিস: ৭৪৭৩)

১৩. প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখে, তা যেন সারা বছর রোজা রাখার মতো।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৭৬২)

কারণ একটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে।

১৪. কোরআন তিলাওয়াত করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে। আর প্রতিটি নেকি ১০ গুণ করা হয়।’ এরপর তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর নয়; আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মিম একটি অক্ষর। (তিরমিজি, হাদিস: ২৯১০)

১৫. বেশি সওয়াবের জিকির করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি বাক্য জিহ্বায় হালকা, মিজানে ভারী এবং রহমানের কাছে প্রিয়—সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৬৮২)

১৬. মুমিনদের জন্য ইস্তিগফার করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তার জন্য প্রত্যেক মুমিন পুরুষ ও নারীর বিনিময়ে একটি করে নেকি লিখে দেন।’ (সহিহুল জামি, হাদিস: ৬০২৬; তাবারানি, আল-মুজামুল কাবির, ২৩/৩৭০)

১৭. মানুষের প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। কাজেই সে তার ওপর নির্যাতন করবে না এবং তাকে অসহায় অবস্থায়ও ছেড়ে যাবে না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন মেটাবেন।’ একইভাবে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির বিপদ দূর করা এবং তার দোষ গোপন রাখারও বিশেষ ফজিলতের কথা হাদিসে এসেছে। (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৯৩)

আরেক হাদিসে এসেছে, কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে তার সঙ্গে হাঁটা মসজিদে এক মাস ইতিকাফ করার চেয়েও প্রিয়। (সহিহুত তারগিব, হাদিস: ২৬২৩)

১৮. মৃত্যুর পরও যে আমলের সওয়াব চলতে থাকে

কিছু আমলের সওয়াব মানুষের মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকতে পারে। হাদিসে এমন কয়েকটি আমলের কথা এসেছে—আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে মারা যাওয়া, এমন জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া যার মাধ্যমে মানুষ আমল করে, সদকার ব্যবস্থা করে যাওয়া এবং এমন নেক সন্তান রেখে যাওয়া যে তার জন্য দোয়া করে। (সহিহুত তারগিব, হাদিস: ১১৪)

১৯. ইশরাকের নামাজ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে, এরপর সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে বসে থাকে এবং পরে দুই রাকাত নামাজ পড়ে, তার জন্য পূর্ণ হজ ও ওমরাহর সমান সওয়াব রয়েছে। (তিরমিজি, হাদিস: ৫৮৬)

২০. সবর বা ধৈর্য ধারণ করা

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘ধৈর্যশীলদের অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হবে।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ১০)

তাই ছোট বা সহজ কোনো নেক আমলকেই তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়। আন্তরিকতা, নিষ্ঠা এবং সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে অল্প পরিশ্রমেও অনেক সওয়াব অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!