ইএসপিএন ক্রিকইনফোর অ্যাওয়ার্ডের ১৫তম সংস্করণে সেরা ব্যাটিং ইনিংস ভারতের রিশাভ পান্টের। গেল বছরের জানুয়ারিতে ব্রিজবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে অপরাজিত ৮৯ রান করেছিলেন পান্ট। তার ঐ ইনিংসের সুবাদেই ঐ টেস্টটি ৩ উইকেটে জিতেছিলো ভারত। পান্টের ১৩৮ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। ঐ টেস্ট জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজও জয় করেছিলো টিম ইন্ডিয়া।
সেরা হবার লড়াইয়ে পান্টের প্রতিন্দ্বন্দি ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইল মায়ার্স ও ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুটের দু’টি ইনিংসও। বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রামে অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচ জয়ী অপরাজিত ২১০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মায়ার্স।
.png)
গেল বছর টেস্টের সবোর্চ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন রুট। ১৫ ম্যাচের ২৯ ইনিংসে ৬টি সেঞ্চুরি ও ৪টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৭০৮ রান করেন তিনি। বছরের শুরুতে গল টেস্টে শ্রীলংকার বিপক্ষে ২২৮ রান করেছিলেন রুট। সেটিও সেরা হবার দৌঁড়ে ছিলো।
সেরা বোলিংয়ের সম্মাননা পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের পেসার কাইল জেমিসন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরের ফাইনালে প্রথম ইনিংসের ভারতের বিপক্ষে ৩১ রানে ৫ উইকেটে নিয়েছিলেন জেমিসন। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩০ রানে ২ উইকেট নেন তিনি। ফাইনালে ৬১ রানে ৭ উইকেট নিয়ে, ম্যাচ সেরা হন জেমিসন। নিউজিল্যান্ডের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন জেমিসন। ৮ উইকেটে শিরোপা নিধার্রনী ম্যাচ জিতেছিলো নিউজিল্যান্ড।
জেমিসনের সাথে সেরা হবার দৌঁড়ে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের স্পিনার আজাজ প্যাটেল। মুম্বাইয়ে ভারতের বিপক্ষে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। বিশ্বের তৃতীয় বোলার হিসেবে ইনিংসে ১০ উইকেট নেন প্যাটেল।
বছরের সেরা অধিনায়ক নিবার্চিত হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন। উইলিয়ামসনের নেতৃত্বে প্রথমবারের মত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয় ও টি-২০ বিশ্বকাপে রানার্স আপের স্বাদ পায় নিউজিল্যান্ড।
ওয়ানডে ক্রিকেটে সেরা ইনিংসের তকমা পেয়েছেন পাকিস্তানের ফখর জামান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক ইনিংসে ১৯৩ রান করেছিলেন তিনি। সেরা বোলিং ইংল্যান্ডের সাকিব মাহমুদের। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪২ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
আর টি-২০তে সেরা ইনিংস ইংল্যান্ডের জস বাটলারের। শ্রীলংকার বিপক্ষে গত বিশ্বকাপে শারজাহতে অপরাজিত ১০১ রান করেছিলেন তিনি।
সেরা বোলিং পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদির। বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে ভারতকে হারাতে প্রধান ভূমিকা ছিলো তার। শুরুতেই ৩ উইকেট নিয়ে ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন এই পেসার। আর ঐ ম্যাচটি ১০ উইকেটে জিতেছিলো পাকিস্তান। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মত ভারতকে হারানোর নজির গড়ে পাকরা।
নারীদের ক্রিকেটে সেরা ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনির। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অপরাজিত ১২৫ রানের দুদার্ন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। আর সেরা বোলিং ইংল্যান্ডের কেট ক্রসের। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ৩৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
সহযোগী সদস্য দলগুলোর মধ্যে সেরা ব্যাটিং ও বোলিং নামিবিয়ার গারহার্ড ইরাসমাস ও রুবেন ট্রাম্পেলম্যানের।
ডেবুট্যান্ট অব দ্য ইয়ার হয়েছেন ইংল্যান্ডের পেসার ওলি রবিনসন। লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টেই ৭ উইকেট নিয়েছিলেন রবিনসন।
বিজয়ীদের তালিকা:
পুরুষ টেস্ট ব্যাটিং: রিশাভ পান্ট (ভারত) অপরাজিত ৮৯ প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া
পুরুষ টেস্ট বোলিং: কাইল জেমিসন (নিউজিল্যান্ড) ৫/৩১ প্রতিপক্ষ ভারত
পুরুষ ওডিআই ব্যাটিং: ফখর জামান (পাকিস্তান) ১৯৩ প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা
পুরুষ ওডিআই বোলিং: সাকিব মাহমুদ (ইংল্যান্ড) ৪/৪২ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান
পুরুষ টি-২০ ব্যাটিং: জস বাটলার (ইংল্যান্ড) অপরাজিত ১০১ প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা
পুরুষ টি-২০ বোলিং: শাহিন আফ্রিদি (পাকিস্তান) ৩/৩১ প্রতিপক্ষ ভারত
মহিলা ব্যাটিং: বেথ মুনি (অস্ট্রেলিয়া) ১২৫ প্রতিপক্ষ ভারত
মহিলা বোলিং: কেট ক্রস (ইংল্যান্ড) ৫/৩৪ প্রতিপক্ষ ভারত
সহযোগী ব্যাটিং: গেরহার্ড এরাসমাস (নামিবিয়া) অপরাজিত ৫৩ প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড
সহযোগী বোলিং: রুবেন ট্রাম্পেলম্যান (নামিবিয়া) ৩/১৭ প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড
বর্ষ সেরা অভিষিক্ত: ওলি রবিনসন ( ইংল্যান্ড)।
বর্ষ সেরা অধিনায়ক: কেন উইলিয়ামসন(নিউজিল্যান্ড)