ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

ভারতে আরেক আইপিএল, যেখানে সবই নকল, জুয়াটাই আসল!

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৫৩, ১২ জুলাই ২০২২
ভারতে আরেক আইপিএল, যেখানে সবই নকল, জুয়াটাই আসল!
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের গুজরাটে প্রত্যন্ত গ্রামে রমরমিয়ে চলছিল ‘আইপিএল’! ছদ্মবেশী ক্রিকেটার, ভুয়া আম্পায়ার এবং ধারাভাষ্যকার, ভুয়া দর্শক - সব মিলিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল একটি কমপ্লিট ‘প্যাকেজ’। যা দেখে রাশিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে ক্রিকেট ম্যাচে টাকা লাগাতেন সে দেশের মানুষরা।

অবশেষে খবর পেয়ে গুজরাট পুলিশ সেই নকল আইপিএল আয়োজকদের গ্রেফতার করেছে। তবে যে পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে তারা এমন একটি প্রতিযোগিতা চালাচ্ছিলেন, তা দেখে পুলিশ কর্তাদের চোখ রীতিমতো কপালে উঠেছে।

গুজরাটের মেহসানা জেলার মোলিপুর গ্রামের একটি প্রত্যন্ত অংশে চলছিল এই ‘আইপিএল’। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ’। রাশিয়ার ভিয়ের, ভোরোনেঝ, এমনকি মস্কোর মতো শহর থেকেও লাগানো হত টাকা। গত দু’সপ্তাহ ধরে এই কাণ্ড চলার পর পুলিশ মূল চক্রকে খুঁজে পেয়েছে।

Advertisement

কী ভাবে আয়োজন করা হচ্ছিল এই ভুয়া প্রতিযোগিতা?

পুলিশ জানিয়েছে, আয়োজক শোয়েব দাবদা আট মাস রাশিয়ার একটি পানশালায় কাজ করেছেন। সেখানে কাছ থেকে দেখেছেন কী ভাবে বিভিন্ন ম্যাচে টাকা লাগানো হয়। সেই সময় আসিফ মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। আসিফই রাশিয়ার কিছু জুয়াড়ির সঙ্গে কথা বলে ক্রিকেট ম্যাচে টাকা লাগানোর টোপ দেন। রাশিয়ার জুয়াড়িরা রাজি হয়ে যান।

তারপর শুরু হয় আসল কাজ। দেশে ফিরে মোলিপুর গ্রামে গিয়ে স্থানীয় ২১ জন চাষী এবং কিছু ছেলেকে ভাড়া করেন শোয়েব। তাদের ম্যাচ প্রতি ৪০০ টাকা করে দেওয়া হত। এরপর তারা বাজার থেকে চেন্নাই সুপার কিংস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং গুজরাট টাইটান্সের জার্সি কিনে আনেন।

এছাড়া স্থানীয় লোককেই আম্পায়ার বানানো হয়। তারা আবার ওয়াকিটকিতে কথা বলার অভিনয় করতেন। পাঁচটি উচ্চমানের ক্যামেরা ভাড়া করা হয়, যার সাহায্যে ম্যাচ দেখানো হত ইউটিউব চ্যানেলে। ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা হয়েছিল দর্শকদের আওয়াজ, যা শোনানো হত ম্যাচের সময়।

শুধু তাই নয়, মিরাট থেকে এক ব্যক্তিকে দিয়ে ধারাভাষ্য দেওয়া হত। তিনি ভারতের এক নামী ধারাভাষ্যকারের গলা নকল করতেন। এক আম্পায়ারও ধারাভাষ্য দেওয়ার কাজে নিযুক্ত ছিলেন। একটি জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে চলত জুয়া খেলা।

ম্যাচের সময় ওয়াকিটকিতে পরের বলে চার অথবা ছয় দেওয়ার জন্য আম্পায়ারদের নির্দেশ দেওয়া হত। আম্পায়াররা সেই নির্দেশ ব্যাটার এবং বোলারকে দিয়ে দিতেন। অবধারিত ভাবে নির্দেশ পালন করা হত। রাশিয়ার জুয়াড়িরা এতে আরও উৎসাহিত হয়ে পড়তেন।

পুলিশের ধারণা, আসল আইপিএল সম্পর্কে রাশিয়ার এই জুয়াড়িদের ধারণা প্রায় ছিলই না। তাই আসল এবং নকল আইপিএলের পার্থক্য তারা ধরতে পারেননি। পুলিশ মোট চার জনকে গ্রেফতার করেছে। কী ভাবে এই জুয়াড়িদের থেকে টাকা আদায় করা হত, তা খতিয়ে দেখা চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!