ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

৩২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া টেনিস ফেডারেশনের

এস আই রাসেল
প্রকাশিত: ১৯:৫৩, ২০ জুলাই ২০২২
৩২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া টেনিস ফেডারেশনের
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দীর্ঘদিন পর নির্বাচিত একটি কমিটি পায় বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন। সাধারণ সম্পাদক হয়ে যার দায়িত্ব পান ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ মোহাম্মদ হায়দার। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই যেন অন্ধকার দেখছেন ফেডারেশনের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। 

কারণ অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের বকেয়া আনুমানিক ৩২ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিলের বোঝা তার কাঁধে।

নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত ফেডারেশনের এডহক কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোর্শেদ নারী খেলোয়াড়কে হয়রানির অভিযোগে বহিষ্কৃত হন। তখন ফেডারেশনের দায়িত্ব নেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তৎকালীন সচিব মাসুদ করিম। তিনিও বিদেশ ভ্রমণ ও নানারকম আশ্বাসে পার করতে থাকেন সময়, পারেননি নির্বাচন দিতে। এর মধ্যেই আনুমানিক গত ৫ বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে প্রায় ৩২ লাখ টাকা।

Advertisement

এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিবের দায়িত্ব পান পরিমল সিংহ। দায়িত্ব নেয়ার ছয় মাসের কম সময়ের মধ্যে তিনি সম্পন্ন করেন সুষ্ঠু নির্বাচন। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আবু সাঈদ মোহাম্মদ হায়দার।

এখন তার ও তার নির্বাচিত কমিটির ঘাড়েই পড়েছে এডহক কমিটির এত বড় বকেয়া বিদ্যুৎবিলের দায়।

বকেয়া থাকার কারণে বর্তমানে বিদ্যুৎ সংযোগও নেই ফেডারেশনে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব পরিমল সিংহ চেষ্টা করেছিলেন বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিক করার। কিন্তু ব্যর্থ হন।

এত বড় বিদ্যুৎ বিল বকেয়া প্রসঙ্গে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ হায়দার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আগের এডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদকরা এদিকে নজর দেননি। তাই এত বকেয়া হয়েছে। এখন পুরো দায় আমাদের নির্বাচিত কমিটির ওপর পড়েছে। এই টাকা কে পরিশোধ করবে? আমি আসলে অন্ধকার দেখছি।

তিনি আরো জানান, নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফেডারেশনের নয়টি রুম ভাড়া দেওয়া। তারাও দীর্ঘদিন ভাড়া দিচ্ছে না। তাদের নামানোও যাচ্ছে না। এটাও একটা বড় সমস্যা।

কীভাবে এত টাকা পরিশোধ করা হবে জানতে চাইলে হায়দার বলেন, আমাদের যারা ভাড়াটিয়া আছেন, তাদের কাছে প্রায় ৪২ লাখ টাকা পাওনা আছে। সেই টাকা উদ্ধার করা গেলেই বকেয়া বিল পরিশোধ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমি ৩ লাখ টাকা খরচ করে ফেডারেশনে একটি জেনারেটর কিনে দিয়েছি। সেটা দিয়ে আপাতত দিনের ২-৩ ঘণ্টা করে দাফতরিক কাজ চলছে।

তিনি আরো যোগ করেন, লন্ডন থেকে অস্ত্রপচার শেষে গত পরশু দেশে ফিরেছি। আজকে কমিটির সভা ডেকেছি। ভাড়াটিয়াদের সঙ্গেও বসবো। তারপর দেখি কী করা যায়। দায়িত্ব যেহেতু নিয়েছি; কিছু একটা তো করতে হবে।

দেশের ক্রিকেট, ফুটবল ও হকির পরই টেনিসের অবস্থান। রমনায় ঢাকা ক্লাবের পাশেই বড় টেনিস কমপ্লেক্স। সব সুবিধা থাকলেও গত ১০ বছরে সঠিক নেতৃত্বের অভাবে সেভাবে এখনো এগোতে পারেনি সম্ভাবনাময় টেনিস।

এখন দেখার অপেক্ষা, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ মোহাম্মদ হায়দার ও তার নতুন কমিটি বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে টেনিসকে কতদূর এগিয়ে নিতে পারেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!