ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

রাজার রাজ্যে, রাজাই রাজা!

এস আই রাসেল
প্রকাশিত: ১৮:৩৩, ৮ আগস্ট ২০২২
রাজার রাজ্যে, রাজাই রাজা!
সিকান্দার রাজার উল্লাস -ছবি: ক্রিকইনফো

জিম্বাবুয়ে সফরে স্বাগতিক দলের ব্যাটার সিকান্দার রাজার কাছেই নাস্তানাবুদ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।  তিনি একাই টি-২০ ও ওয়ানডে সিরিজে টাইগারদের নাকানিচুবানি খাইয়েছেন। পরপর টি-২০ ও এক ম্যাচ হাতে রেখেই ওয়ানডে সিরিজ করে নিয়েছেন নিজেদের। ৯ বছর ১৯ ম্যাচ পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ জিতল জিম্বাবুয়ে। তাও পর পর দুইটি। টি-২০ সিরিজ ২-১ জিতে ওয়ানডে মিশনে ২-০ তো এগিয়ে থেকে সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। আর এক ম্যাচ জিততে পারলেই ২১ বছরপর বাংলাদেশকে হোয়াটওয়াশ করার স্বাদ পাবে সিকান্দার রাজার দল। এ যেন নিজের রাজ্যে সিকান্দার রাজা নিজেই রাজা।

জন্মগতভাবে পাকিস্তানি সিকান্দার রাজা জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের নেতা না হলেও মাঠের নিজের অবস্থান বার বার প্রমাণ করেছেন। ব্যাটে-বলে একাই ক্ষতবিক্ষত করেছেন বাংলাদেশ দলকে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়ছেন সিকান্দার রাজা           -ছবি: ক্রিকইনফো

Advertisement

টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ে কাছে ১৭ রানে হারে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের ছুঁড়ে দেয়া ২০৬ রানের টার্গেটে ৬ উইকেটে ১৮৮ রান তুলতে সক্ষম হয়ত টিম বাংলাদেশ। এ ম্যাচে জয়ের নায়ক সিকান্দার রাজা।  খেলেছেন ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ২৬ বলে অপরাজিত ৬৫ রানের ইনিংস। ৩ ওভার বলে করে ৩০ রানে নেন এক উইকেট।

এ ম্যাচে ১৩তম ওভারে দলীয় ৯৯ রানে উইলিয়ামসন ফিরলে তার জায়গায় উইকেটে আসেন সিকান্দার রাজা। নিজের মুখোমুখি হয়ে প্রথম ৬ বল থেকে ৮ রান নেন রাজা। সপ্তম বলে পেসার তাসকিন আহমেদকে ছক্কা মারেন রাজা। এরপর থেকেই শুরু হয় রাজার চার-ছক্কার ঝড়।  ১৭তম ওভারের প্রথম বলে ৩৪ ম্যাচের টি-২০ ক্যারিয়ারে সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মাধভেরে। এজন্য ৩৭ বল খেলেন তিনি। ১৭তম ওভারে ১৩, ১৮তম ওভারে ১৪ রান উঠে। আর ১৯তম ওভারের প্রথম তিন বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন রাজা। শরিফুলের করা ঐ ওভার থেকে ১৯ রান আসে। ঐ সময় ৩ উইকেটে ১৮৬ রান ছিলো জিম্বাবুয়ে। 

মুস্তাফিজের করা শেষ ওভার থেকে ১৯ রান তুলে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২০০ পার করেন রাজা ও মাধভেরে। তৃতীয় বলে ২ রান নিয়ে ২৩ বলে টি-২০ ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান রাজা। আর শেষ তিন বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন রাজা। ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ২৬ বলে অপরাজিত ৬৫ রান করেন রাজা। ৯টি চারে ৪৬ বলে ৬৭ রান করে আহত অবসর হন মাধভেরে। চতুর্থ উইকেটে মাধভেরে-রাজার ৪৩ বলে অবিচ্ছিন্ন ৯১ রানের জুটিতে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২০৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি সর্বোচ্চ দলীয় রান জিম্বাবুয়ে।

শুম্বার কাছে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান আনামুল হক বিজয়কে। এতেই ৩ ওভার বল করে ৩০ রানের বিনিময়ে তুলে নেন এক উইকেট। হন ম্যাচসেরাও। 

সিকান্দার রাজার উড়ন্ত উল্লাস    -ছবি: ক্রিকইনফো

দ্বিতীয় টি-২০তে মোসাদ্দেক হোসেনের দূরন্ত বোলিংয়ে জিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে সমতা আনে সফরকারী বাংলাদেশ।  জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। ২০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন মোসাদ্দেক।  এ ম্যাচেও ৬২ রানের ইনিংস খেলেন সিকান্দার রাজা। 

যখন মোসাদ্দেকের ঘুর্ণিতে ৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে ঘুড়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখান গত ম্যাচের নায়ক সিকান্দার রাজা। প্রথম টি-২০তে ২৬ বলে অনবদ্য ৬৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলা রাজা  দলের চরম বিপর্যয়ের মাঝে আরো একবার নিজেকে মেলে ধরেন। রায়ান বার্লকে নিয়ে লড়াই শুরু করেন তিনি। প্রথম ৩২ বলে কোন বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি মারতে ব্যর্থ হন তারা। আফিফের করা ১৩তম ওভারে ১টি করে চার ও ছক্কা মারেন রাজা-বার্ল। মুস্তাফিজের করা ১৫তম ওভারে রাজার ব্যাট থেকে পরপর দু’টি চার আসে। ঐ ওভারের শেষ বলে টি-২০ ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন রাজা। ৪৪ বলে অর্ধশতকের দেখা পান তিনি।

১৭তম ওভারে রাজার ছক্কায় শতরানে পৌঁছায় জিম্বাবুয়ে। ১৮তম ওভারে বার্লকে শিকার করে জুটি ভাঙ্গেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। ষষ্ঠ উইকেটে ৬৫ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৮০ রান যোগ করেন রাজা ও বার্ল। ৩১ বলে ৩২ রান করেন বার্ল। পরের ওভারে রাজার লড়াকু ইনিংসের ইতি টানেন মুস্তাফিজ। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৩ বলে ৬২ রান করেন রাজা। তার ইনিংসের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৫ রানের সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে।

এ ম্যাচে লিটন দাসের ৫৬ ও আফিফ হোসেনের অপরাজিত ৩০ রানের ইনিংসে ১৫ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।  ৭ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন আফিফ ও শান্ত। এতে টি-২০ সিরিজে ১-১ সমতায় আসে।

 উইকেট নিয়ে সতীর্থের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উল্লাস প্রকাশ করছেন সিরিজ জয়ের নায়ক সিকান্দার রাজা      -ছবি: ক্রিকইনফো

তৃতীয় টি-২০তে হেরে জিম্বাবুয়ের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজ হারের লজ্জা পায় বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ১০ রানে হারে বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের সিরিজ জয়ের পেছনে বড় অবদান রাখেন রায়ান বার্ল। এ ম্যাচে ২৮ বলে ৫৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। এতে ম্যাচ সেরা হন বার্ল।   যদিও এ ম্যাচে রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন গত দুই ম্যাচে অর্ধশতক পাওয়া সিকান্দার রাজা। ষষ্ঠ ওভারে দ্বিতীয়বার আক্রমনে এসে সিকান্দার রাজাকে খালি হাতে থামান মাহেদি।

তারপরও ১০ রানের জয়ে সিরিজ জেতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। তৃতীয় ম্যাচে রানের খাতা খুলতে না পারলেও ১২৭ রান ও ২ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হন জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা। 

বল রুখতে ছুটছেন সিকান্দার রাজা                                 -ছবি: ক্রিকইনফো

টি-২০ সিরিজ খুয়িয়ে নিজেদের সেরা ফরম্যাট ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবল সম্ভবনা নিয়ে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামে টিম বাংলাদেশ। তবে এখানেও বাঁধ সাধে টি-২০ সিরিজ সেরা জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা। 

দুই ব্যাটার ইনোসেন্ট কাইয়া ও সিকান্দার রাজার জোড়া সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের কাছে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে অসহায়ভাবে হারে সফরকারী বাংলাদেশ। কাইয়ার ১১০ ও রাজার অপরাজিত ১৩৫ রানের উপর ভর করে ৫ উইকেটের জয় পায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। এতে নয় বছর ও ১৯ ম্যাচ পর জিম্বাবুয়ে কাছে হার বরণ করলো তামিম ইকবালের দল। ২০১৩ সালের মে’তে বুলাওয়েতে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছিলো বাংলাদেশ। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

টস হেরে আগে ব্যাট করে লিটন দাসের ৮১, আনামুল হক বিজয়ের ৭৩, তামিম ইকবালের ৬২, মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৫২ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদে অপরাজিত ২০ রানের ইনিংসের ৩০৩ রানের বড় স্কোর দাড় করায় টিম বাংলাদেশ।   এ ম্যাচে নিয়ুচি ও রাজা ১টি করে উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ৩০৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের সম্মুখিন হয় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। ১৪তম ওভারে দলীয় ৬২ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর জিম্বাবুয়ের হাল ধরেন কাইয়া ও রাজা। উইকেটে সেট হতে সময় নেননি তারা। ৩১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মুস্তাফিজকে ছক্কা মেরে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২১তম হাফ সেঞ্চুরি তুলেন রাজা।  দু’ বার জীবন পেয়ে ৩৯তম ওভারের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচেই প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান কাইয়া। ঐ ওভারের শেষ বলে ১১৫তম ওয়ানডেতে চতুর্থ সেঞ্চুরি করেন রাজা। শেষ ১০ ওভারে ৬২ রানের দরকার পড়ে জিম্বাবুয়ের। অবশেষে ৪২তম ওভারে কাইয়া-রাজা জুটি ভাঙ্গেন মোসাদ্দেক। শর্ট ফাইনে শরিফুলকে ক্যাচ দেন কাইয়া। ১১টি চার ও ২টি ছক্কায় ১২২ বলে ১১০ রান করেন কাইয়া। চতুর্থ উইকেটে ১৭২ বলে ১৯২ রানের ম্যাচজয়ী জুটি গড়েন তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি কাইয়া ও রাজার। কাইয়া যখন ফিরেন তখন ৪৯ বলে ৫০ রান দরকার ছিলো জিম্বাবুয়ের। বাকী কাজটুকু সাড়তে সাবধানে এগোতে থাকেন রাজা ও লুক জংওয়ে।

৪ ওভার বাকি থাকতে ২১ রান দরকার ছিলো জিম্বাবুয়ের। মুস্তাফিজের করা ৪৭তম ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মারেন জংওয়ে। দ্বিতীয় বলে লং-লেগে তাসকিনকে ক্যাচ দিয়ে জীবন পান জংওয়ে। তৃতীয় বলে চার মারলেও পরের ওভারের প্রথম মিরাজের শিকার হন তিনি। ১৯ বলে ২৪ রান করেন তিনি। এরপর দলের বাকী ৮ রানের প্রয়োজন মিটিয়েছেন রাজা ও শুম্বা। ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১০৯ বলে অপরাজিত ১৩৫ রান করে ম্যাচ সেরা হন রাজা। ১ রানে অপরাজিত ছিলেন শুম্বা। বল হাতে ১টি করে উইকেট নেন মুস্তাফিজ-শরিফুল-মিরাজ ও মোসাদ্দেক।
১০ বল বাকী রেখে ৩০৪ রানের টার্গেট স্পর্শ করে বাংলাদেশের বিপক্ষে রেকর্ডই গড়ে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে রান চেজ করে এর আগে ১৯৯৯ সালে ২৫৮ রানের টার্গেট স্পর্শ করার নজির আছে জিম্বাবুয়ের।

দুই সিরিজ জিতে উড়ছেন রাজা         -ছবি: ক্রিকইনফো

বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে দুই ব্যাটার সিকান্দার রাজা ও অধিনায়ক রেগিস চাকাবভার জোড়া সেঞ্চুরিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।  রাজা অপরাজিত ১১৭ ও চাকাবভা ১০২ রান করেন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশকে।  সিরিজ জয়ের সাথে ২-০ ব্যবধানে এগিয়েও গেল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। প্রথম ম্যাচেও ৫ উইকেটে জিতেছিলো জিম্বাবুয়ে। ২০১৩ সালের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ নিলো জিম্বাবুয়ে। ঐবার ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিলো জিম্বাবুয়ে। আর ২০২১ সালের মে থেকে টানা পাঁচটি সিরিজ জয়ের পর অবেশেষে হার বরণ করলো তামিমের দল। এ ম্যাচেও সেরা হন জিম্বাবুয়ের সেকন্দার রাজা।

এ ম্যাচেও টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ।  আগে ব্যাট করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অপরাজিত ৮০, তামিম ইকবালের ৫০, ও আফিফ হোসেনের ৪১ রানের ইনিংসে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশের ব্যাটাররা।  এই সিরিজে ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের জন্য যমদূত হয়ে ওঠা সিকান্দার রাজা তার স্পিন ভেল্কিও দেখিয়েছেন। ব্যাট হাতে রাজত্ব কায়েম করার আগে ডানহাতি এই অফ স্পিনার জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। ২টি উইকেট পান ওয়েসলে মাধেভেরে। 

২৯১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে আগের ম্যাচের মত এবারও শুরুতেই বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে। পেসার হাসান ও দুই স্পিনার মিরাজ-তাইজুলের বোলিং তোপে ৪৯ রানে ৪ ব্যাটারকে হারায় জিম্বাবুয়ে।  এ পরিস্থিতিতেও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ছিলো জিম্বাবুয়ের। কারণ ক্রিজে ছিলেন ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে সিকান্দার রাজা। বাংলাদেশকে হারানো টি-২০ সিরিজে সেরা খেলোয়াড়ের হবার পর প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করেন রাজা। অধিনায়ক রেগিস চাকাবভাকে নিয়ে লড়াই শুরু করেন এ ব্যাটিং অলরাউন্ডার।  ২৫তম ওভারে ১০০তে পৌঁছায় জিম্বাবুয়ের স্কোর। মিরাজের ভুলে রান আউটের হাত থেকে বাঁচেন রাজা। তখন তার রান ছিলো ৪২ রানে। ২৮তম ওভারে মিরাজকে ছক্কা মেরে ৬৭ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রাজা। 

বোলারদের দাপটের সঙ্গে সামলে ৩৮তম ওভারে জিম্বাবুয়ের রান ২০০তে নিয়ে যান রাজা ও চাকাবভা। শেষ ১০ ওভারে ৭১ রান দরকার পড়ে জিম্বাবুয়ের। ৪২তম ওভার শেষে নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে যান রাজা ও চাকাবভা। পরের ওভারটি হয় রাজা ও চাকাবভার জন্য বড় আনন্দের। হাসানের করা ৪৩তম ওভারের প্রথম বলে ২ রান করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ও টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন রাজা। আর ঐ ওভারের চতুর্থ বলে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে ৫৫ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান চাকাবভা। রাজা ১১৫ বলে ও চাকাবভা ৭২ বলে সেঞ্চুরির পান। সেঞ্চুরি করার পরপরই প্যাভিলিয়নে ফেরেন চাকাবভা। মিরাজের বলে তামিমকে ক্যাচ দেন তিনি। ৭৫ বলে ১০টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০২ রান করেন চাকাবভা। চাকাবভার আউটে ভাঙ্গে জুটি। ১৬৯ বলে ২০১ রান যোগ করেন রাজা ও চাকাবভা। ফলে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির নয়া রেকর্ড গড়েন রাজা ও চাকাবভা। আর যেকোন উইকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটির রান জিম্বাবুয়ের।

চাকাবভা যখন ফিরেন তখন জিম্বাবুয়ের দরকার ৪১ বলে ৪১ রান।  শেষ ৪ ওভারে জয়ের জন্য সমীকরন দাঁড়ায় ২৫ রান। ৪৭তম ওভারে জিম্বাবুয়ের পথটা পানির মত সহজ করে ফেলেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা টনি মুনওঙ্গা। শরিফুলের করা ঐ ওভারে ২টি ছয় ও ১টি চারে ১৯ রান নেন মুনওঙ্গা। তাই জয়ের জন্য শেষ ৩ ওভারে ৬ রান দরকার পড়ে জিম্বাবুয়ের। ৪৮তম ওভারের প্রথম দুই বলে ২ রান। আর তৃতীয় ওভারে চার মেরে জিম্বাবুয়েকে ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের স্বাদ দেন মুনওঙ্গা। ১৬ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় অপরাজিত ৩০ রান করেন মুনওঙ্গা। 
অন্য প্রান্তে ১২৭ বলে অপরাজিত ১১৭ রান করেন রাজা। তার ইনিংসে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা ছিলো। বাংলাদেশের হাসান-মিরাজ ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন রাজা।

 মুস্তাফিজকে মোকাবিলা করছেন রাজা             -ছবি: ক্রিকইনফো

এখনো হাতে আছে এক ম্যাচ। এ ম্যাচেও কি রাজার তান্ডবে উড়ে যাবে টিম বাংলাদেশ। দেখার অপেক্ষা।

এ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের সামনে বাংলাদেশকে হোয়াইট ওয়াশ করার সুযোগ। গত ২১ বছর ধরে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারেনি তারা। সবশেষ ২০০১ সালে বাংলাদেশকে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করেছিল জিম্বাবুয়ে। এরপর তারা আরো চারটি সিরিজ জিতলেও প্রতিবার হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে টাইগাররা।

চলতি সিরিজের আগে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে ওয়ানডে সিরিজ হয়েছে মোট ১৮টি। যার মধ্যে বাংলাদেশই জিতেছে ১২টি, জিম্বাবুয়ের জয় ছয়টিতে। চলতি সিরিজসহ এ সংখ্যাকে সাতে উন্নীত করলো জিম্বাবুয়ে। আগের ছয় সিরিজ জয়ের মধ্যে মাত্র বাংলাদেশকে সব ম্যাচে পরাজিত করতে পেরেছিল তারা।

সর্বপ্রথম ২০০১ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের সবকয়টি হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই তিন ম্যাচে যথাক্রমে ৭ উইকেট, ১২৭ রান ও ৩৬ রানের ব্যবধানে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। একই বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশে এসে ৫ উইকেট, ৪২ রান ও ৭ উইকেটে জিতে হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পেয়েছিল সফরকারীরা।

এ দুটিই ছিল বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার প্রথম দুই সিরিজ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের পরের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। অর্থাৎ প্রথম তিন সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু এরপরই। ২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়েকে ৩-২ ব্যবধানে হারায় টাইগাররা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!