বেটউইনার মূলত একটি অনলাইন বেটিং ও ক্যাসিনো ঘরানার ওয়েবসাইট। গুগলে বেটউইনার লিখে সার্চ দিলেই সবার প্রথমে এর ওয়েবসাইট সামনে আসে। যেখানে নামের পাশে লেখা আছে, অনলাইন স্পোর্টস বেটিং অ্যান্ড ক্যাসিনো।
সেই বেটউইনারেরই একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বেটউইনার নিউজ। বিবৃতি অনুযায়ী সাকিব আল হাসান এই বেটউইনার নিজেরই ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছিলেন। যারপর শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। এ সময় বেটউইনার নিউজ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, এটা খেলাধুলার খবরের একমাত্র উৎস।
.png)
সাকিবের এমন ঘোষণায় অনেকেই চমকে যান। কারণ বেটউইনার বলতেই মূলত খেলা বিষয়ক বেটিং, বাজি বা জুয়ার সাইট। যে সাইটে অনলাইন ক্যাসিনো খেলার মতো সুযোগ রয়েছে। যদিও বেটউইনার নিউজে সরাসরি জুয়ার অপশন নেই।
শুরুতে সাকিব এই চুক্তি থেকে সরে আসতে চাননি। দেশসেরা এই অলরাউন্ডারের যুক্তি ছিল, সরাসরি বেটিং সাইট নয়, বেটিং সাইটের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছেন তিনি। কিছু সূত্র জানায়, ঐ প্রতিষ্ঠান তাকে ১০ কোটি টাকাও দিয়েছে।
তবে সাকিবের যুক্তি মেনে না নিয়ে যায় কঠোর অবস্থানে। বোর্ড সভাপতি জানিয়েছিলেন, কোনভাবেই এই ধরনের চুক্তি মেনে নেবেন না তারা।
সাইটটিতে ঢুকলে দেখা যায় লাল রঙের অক্ষরে লেখা নির্দেশনা, সতর্কতা! সন্দেহ এড়াতে জানানো হচ্ছে, এই সাইটের সঙ্গে কোনো ধরনের বাজি বা জুয়া কার্যক্রমের সম্পর্ক নেই! এটা শুধু ক্রীড়া বিষয়ক নিউজ পোর্টাল!
সেখানে আরো লেখা আছে, শিগগিরই ম্যাচ সম্প্রচারের পাশাপাশি বিশ্লেষণধর্মী অনুষ্ঠান আমাদের প্ল্যাটফর্মে থাকবে! আপনি যদি বাজি বা জুয়া খেলার সুযোগ খুঁজতে এই সাইটটি পরিদর্শন করেন, দয়া করে এখনই বেরিয়ে যান! বোঝার জন্য ধন্যবাদ।
যেকোনো নিউজ পোর্টালে এমন নির্দেশনা থাকা বিরল। আবার বিসিবির শুরু থেকেই বলে আসছিল বেটউইনার ও বেটউইনার নিউজ একই ব্যাপার। কৌশলগত কারণে তারা বিভিন্ন নাম নিয়ে থাকে।
বাংলাদেশের আইন আর বিসিবির নীতি দুটোতেই জুয়া সংশ্লিষ্ট যেকোন কাজ অবৈধ। শেষ পর্যন্ত সাকিব বেটউইনারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছেন বলেই জানা গেছে।