কোনোভাবে আফগানিস্তানকে হারিয়ে সেমির দৌড়ে টিকে থাকল অস্ট্রেলিয়া
ম্যাচটি আফগানিস্তান জিতলে জন্ম হতো নতুন রূপকথার। শেষদিকে এমন কিছুর বাস্তবায়ন ঘটাতে সর্বোচ্চটাই ঢেলে দিয়েছেন রশিদ খান। তবে শেষে এসে আর পারেননি। সুপার টুয়েলভে নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে মাত্র ৪ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
অ্যাডিলেইডে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৮ রান সংগ্রহ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ৭ উইকেটে ১৬৪ রানে থামে আফগানিস্তানের ইনিংস। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকল অজিরা।
গ্রুপের শেষ ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ইংল্যান্ড জয় পেলে তারাই সেমিফাইনালে উঠে যাবে। আর ইংলিশরা হারলে সেমিফাইনাল খেলবে অজিরা।
.png)
আফগানদের হয়ে রান তাড়া করতে নামেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও উসমান ঘানি। গুরবাজ ৩০ ও ঘানি ফেরেন ২ রান করে। এরপর ৫৯ রানের বড় জুটি গড়ে ম্যাচ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়ে আসেন ইব্রাহিম জাদরান ও গুলবাদিন নাইব।
ম্যাচ যখন অনেকটাই আফগানদের দিকে হেলে পড়েছে, এ অবস্থায় দৃশ্যপট পাল্টে দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তার দুর্দান্ত থ্রো-তে ৩৯ রানে ফেরেন নাইব। এরপরই ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে আফগানরা।
আফগানিস্তানের স্কোরবোর্ড ৯৯ রানে দুই উইকেট থেকে কিছুক্ষণের মাঝেই ১০৩ রানে ছয় উইকেটে পরিণত হয়। যেখানে একে একে সাজঘরে ফেরেন ইব্রাহিম (২৬), নাজিবুল্লাহ জাদরান (০) ও মোহাম্মদ নবী (১)।
শেষদিকে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন রশিদ খান। পরিচিত মাঠ অ্যাডিলেইডে তার চার ছক্কা ও তিন চারে সাজানো ২৩ বলে ৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংসটি শুধু হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে।
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আফগানিস্তান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী। ইনজুরির কারণে এ ম্যাচে খেলেননি অজিদের নিয়মিত অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে শুরুতেই ফেরেন ক্যামেরন গ্রিন। অল্প সময়ের ব্যবধানে ফেরেন ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভ স্মিথও। এর আগে তিনজন করেন যথাক্রমে ৩, ২৫ ও ৪ রান। শন মার্শ ফেরেন ৪৫ রানে।
পঞ্চম উইকেটে ৫৩ রানের জুটি গড়েন মার্কাস স্টয়নিস ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ২৫ রানে স্টয়নিস ফেরার পর দ্রুতই আউট হন ম্যাথু ওয়েড ও প্যাট কামিন্স। শেষদিকে অজিদের হয়ে অনেকটা একাই লড়াই করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথে দশম আন্তর্জাতিক টি-২০ ফিফটির দেখা পান ম্যাক্সওয়েল। আফগানদের হয়ে নাভিন উল হক তিনটি, ফজল হক ফারুকি দুটি এবং মুজিব উর রহমান ও রশিদ খান একটি করে উইকেট শিকার করেন।