এবারের আসরে সবচেয়ে ফেভারিট ছিল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বিধিবাম, সুপার টুয়েলভের বাধা পেরোতে পারল না অ্যারন ফিঞ্চের দল। বাকি সাত আসরের স্বাগতিকদের মতো তারাও নিজে দেশে শিরোপা হাতে উল্লাস করতে পারল না। তাদেরকে হটিয়ে সেমিতে চলে গেছে আসরের স্বিতীয় ফেভারিট দল ইংল্যান্ড।
বাকি তিন দলের মধ্যে আছে নিউজিল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তান। সেমিফাইনালের লাইনআপে ভারত পেয়েছে ইংল্যান্ডকে আর নিউজিল্যান্ডের সামনে পড়েছে পাকিস্তান। কাগজে কলমে চার দলই শিরোপার যোগ্য তবে চার দলের পক্ষেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব না। সেক্ষেত্রে চার দলের শক্তিমত্তা ও পরিসংখ্যানই প্রাধান্য পাবে।
.png)
প্রথম সেমিফাইনালে আগামী ৯ নভেম্বর বুধবার মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান। আসরে নিউজিল্যান্ডকে কেউ ফেভারিটের তালিকায় না রাখলেও নিজেদের স্বভাবজাত খেলায় জ্বলে উঠছে কিউইরা। কাগজ কলমের হিসেবনিকেশ কিংবা মাঠের খেলায় পাকিস্তানের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে রয়েছে নিউজিল্যান্ড।
ব্যাটিং কিংবা বোলিং দুই বিভাগেই নিজেদের দাপট বজায় রেখেছে কিউইরা। ব্যাটিংয়ে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন টপ অর্ডার ব্যাটার গ্লেন ফিলিপস। ওপেনিং জুটিতে ধারা বজায় রেখেছেন ফিন অ্যালেন ও ডেভন কনওয়ে। মিডল অর্ডারে ভরসা হয়ে উঠতে পারেন অলরাউন্ডার জিমি নিশাম। বোলিং বিভাগকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্ট।
নিউজিল্যান্ডের তুলনায় পাকিস্তান ঢের পিছিয়ে। তাদের ব্যাটিং লাইনের ভরসা বলতে দুই ওপেনার বাবর আজম ও মোহাম্মাদ রিজওয়ান। তবে দুর্বলতা বলতেও এই দুজন। তাদের মন্থর গতির ব্যাটিং ডুবাতে পারে দলকে। বোলিং লাইনে পাকিস্তান আসরের অন্যতম গতিশীল পেস ইউনিট। পাকিস্তানের শক্তি হতে পারে দলীয়ভাবে জ্বলে ওঠে।
পরিসংখ্যানের দিকে চোখ ফেরানো যাক। টি-২০ ক্রিকেটে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছে মোট ২৮ বার। তাতে নিউজিল্যান্ডের ১১ জয়ের বিপরীতে পাকিস্তান জিতেছে ১৭ ম্যাচ। বিশ ওভারের বিশ্বকাপে এই দুই দলের দেখা হয়েছে মোটে ৬ বার। তাতে চারবারই শেষ হাসি হেসেছে পাকিস্তান। দুই জয় নিউজিল্যান্ডের।
টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এখন পর্যন্ত একবারই মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ২০০৭ সালের সেই আসরে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল পাকিস্তান।
নিউজিল্যান্ডের সামনে এবার সুযোগ সেই আসরের প্রতিশোধ তুলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলা। আর পাকিস্তানের লক্ষ্য নিজেদের ফাইনালে নিয়ে যাওয়া।