ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

জিম্বাবুয়ে উড়ে গেল প্রিটোরিয়াসের ঝড়ে

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০০:৪৫, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জিম্বাবুয়ে উড়ে গেল প্রিটোরিয়াসের ঝড়ে
ছবি: সংগৃহীত

উইন্ডহোকের নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ৪৩ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। নামিবিয়া টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে আগে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে জিম্বাবুয়ের ইনিংস থামে ১৭.৪ ওভারে ১৪২ রানে। ফলে ৪৩ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের মূল কারিগর প্রিটোরিয়াস। ওপেনিংয়ে নেমে শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। মাত্র ৫১ বলে ৯৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ৩টি ছক্কা। ১৮৪.৩১ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তিনি। মাত্র ৬ রান থেকে সেঞ্চুরি দূরে থেকে শেষ পর্যন্ত আউট হন প্রিটোরিয়াস।

Advertisement

প্রিটোরিয়াসের সঙ্গে শুরুতে জর্ডান হারম্যানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়। দুজনের জুটিতে দলীয় স্কোর ৬৮ রানে পৌঁছায়। হারম্যান ২৫ বলে ২৮ রান করেন, যেখানে ছিল একটি চার ও দুটি ছক্কা। ৭.৪ ওভারে তার বিদায়ের পরও দক্ষিণ আফ্রিকার রান তোলার গতি কমেনি।

তৃতীয় উইকেটে প্রিটোরিয়াসের সঙ্গে যোগ দেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। দুজনের ব্যাটে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর দ্রুত এগোতে থাকে। ব্রেভিস ২৭ বলে ৪১ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছক্কা। ১৫.২ ওভারে ব্রেভিস আউট হওয়ার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৪ রান।

শেষ পাঁচ ওভারে অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়মিত উইকেট হারায়। ১৬.১ ওভারে কনর এস্টারহুইজেন ২ রান করে ফেরেন। এরপর রুবিন হারম্যান ১ এবং এথান বোশ ৩ রান করে আউট হন। ১৮.৬ ওভারে প্রিটোরিয়াসের বিদায়ের পর শেষ ওভারে রানআউট হন অধিনায়ক বিজর্ন ফোর্টুইন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৮৫/৭ সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে ওয়েসলি মাধেভেরে সবচেয়ে সফল ছিলেন। তিন ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে তিনি তিনটি উইকেট নেন। ব্র্যাড ইভান্স চার ওভারে ৩৩ রান দিয়ে দুটি উইকেট পান। নিউম্যান নিয়ামহুরি নেন একটি উইকেট। তবে প্রিটোরিয়াসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে জিম্বাবুয়ের বোলিং আক্রমণ বড় সময়েই চাপে ছিল।

১৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রথম দুই ওভারের মধ্যেই বেন কারানকে হারায় তারা। এরপর ৩৩ রানের মধ্যে ফিরে যান ব্রায়ান বেনেট ও মাধেভেরে। ৩৩ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর ইনোসেন্ট কাইয়াও ১৮ রান করে ফিরে গেলে জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৪৩ রানে ৪ উইকেট।

সেখান থেকে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তার সঙ্গে রায়ান বার্লের জুটি অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৫১ রানে বার্ল এবং একই স্কোরে তাদিওয়ানাশে মারুমানি আউট হলে জিম্বাবুয়ে আরও বিপদে পড়ে। এরপর ৫৪ রানে ব্র্যাড ইভান্সের বিদায়ে ১০ ওভারের আগেই সাত উইকেট হারায় তারা।

অধিনায়ক রাজা একপ্রান্ত আগলে রাখার চেষ্টা করেন। ৩৩ বলে ৪৫ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় তার লড়াই যথেষ্ট হয়নি। ১৩.২ ওভারে রাজার বিদায়ের সময় জিম্বাবুয়ের স্কোর ছিল ১০৫ রান।

শেষদিকে নিউম্যান নিয়ামহুরি কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ২৫ বলে ২৭ রান করেন তিনি। ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৭ বলে ১১ রান এবং কুন্দাই মাতিগিমু ৭ বলে অপরাজিত ১১ রান করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগোতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ১৭.৪ ওভারে ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন বিয়র্ন ফর্টুইন। মাত্র ৩.৪ ওভার বল করে ২৪ রান দিয়ে তিনি চারটি উইকেট নেন। ডুয়ান ইয়ানসেন ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন। প্রেনেলান সুব্রায়েন পান একটি উইকেট। ফর্টুইন ও ইয়ানসেনের কার্যকর বোলিং জিম্বাবুয়ের রান তাড়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম এ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!