কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিল-সার্বিয়া ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন সাফারানি। প্রিয় দলের জয়ে ফুরফুরে মেজাজে স্টেডিয়াম থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। এরপর ট্রেন ধরতে যান দোহার মেট্রো স্টেশনে। সেখানেই দেখেন, এক নারী তার ঘুমন্ত শিশুকে নিয়ে ট্রেনে উঠতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এ সময় সাহায্যের হাত বাড়ান সাফারানি, শিশুটিকে কোলে নেন। ঘটনা সেখানে শেষ হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। তবে সময় বদলে দিল মুহূর্তের রঙ! গল্পের মোড়ে তখনো আরো চমক বাকি। সাফারানির কোলে নেওয়া সেই শিশুটি ছিল আদেনর লিওনার্দো বাচ্চি নামের এক ব্রাজিলিয়ানের নাতি।
.png)
নামটা শুনেও মনে হতে পারে, এ আর এমন কী? কিন্তু বাচ্চাটি অপরিচিত হলেও সে যে ব্রাজিল ফুটবল দলের কোচ তিতের নাতি! সাফারানির সাহায্য করা সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়লে চোখে পড়ে তিতেরও। তখন থেকে পরোপকারী মানুষটাকে খুঁজতে থাকেন তিনি।
তিতে এই মানবতামুখী মানুষটার সাথে দেখা করতে চান। শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায় সাফারানিকে। স্বয়ং ব্রাজিল কোচের দাওয়াত পেয়ে অবাক এই ফিলিস্তিনি। ক্যামেরুনের সঙ্গে ম্যাচের আগে অনুশীলন সেশনে নিমন্ত্রণ পান তিনি।
সেখানে ছেলেকে নিয়ে যান সাফারানি। দেখা হয় তিতের সঙ্গে, কথাও হয়। তিতের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পান ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের সই করা একটি হলুদ জার্সি। এ বিষয়ে ব্রাজিলের পাঁড় ভক্ত সাফারানি বললেন ‘এমন কিছু কখনোই ভাবিনি। আমার কাছে পুরো ব্যাপারটিই স্বপ্নের মতো। মনে হচ্ছে, গোটা দুনিয়ার মালিক আমি।’
এছাড়া তিতে বলেছেন, ‘ফুটবল আমাদের অনেক দারুণ দারুণ মুহূর্ত উপহার দেয়, এটি তেমনই একটি। আমি সাফারানির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছি। কারণ সে এমন একজন মানুষ, যার মধ্যে এমন কিছু আছে, যেটি ফুটবলেরও অনেক ঊর্ধ্বে।’