প্রযুক্তির আধিপত্যে কত গোল বাতিল হলো কাতারে?
কাতার বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বলা হয়েছিল যে, এবারের বিশ্বকাপে প্রযুক্তির খুব কড়াকড়ি থাকবে। আসর শুরু হতেই দেখা গেল প্রযুক্তির দাপট। এর মধ্যে অন্যতম ছিল অফসাইড প্রযুক্তি। যার আধিপত্যে বাতিল হয়েছে একের পর এক গোল। চলতি আসরে গ্রুপ পর্বে মোট কত গোল বাতিল হয়েছে?
হিসেবে দেখে গেছে, এখন পর্যন্ত গ্রুপ পর্বে ৪৮ ম্যাচে বাতিল হয়েছে ১৭ গোল। এই গোল বাতিলের পেছনে আধিপত্য দেখাচ্ছে ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) প্রযুক্তি। শুধু গোল বাতিলই না, ভিএআর দেখে ৪৮ ম্যাচে ৮ বার পেনাল্টি দিয়েছেন রেফারিরা। এর সঙ্গে দেখিয়েছেন লাল কার্ডও।
অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, গোল করে উদযাপনের ক্ষেত্রেও সংকোচ বোধ করছেন খেলোয়াড়রা। কারণ, ভিএআরে গোল বাতিল হওয়ার ভয় তো থাকছেই। এই ব্যবস্থা বহাল থাকায় আসরের শেষ অব্দি চিন্তিত থাকতে হচ্ছে ফুটবলারদের।
.png)
হিসেবে দেখে গেছে, গ্রুপ পর্বে ৪৮ ম্যাচে বাতিল হওয়া ১৭ গোলের মধ্যে ৯টি গোল ওপেন প্লে থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ফাউল হিসেবে গণ্য করে এসব গোল বাতিল করেছেন রেফারিরা। বাকি ৮ গোল বাতিল হয়েছে অফসাইটের কারণে। এসব গোল বাতিলের পেছনে কাজ করেছে ভিএআর প্রযুক্তি।
গোল বাতিলের পীড়া থেকে মুক্তি দিতেই পেনাল্টির দিক দিয়ে সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন ফুটবলাররা। তবে ৪৮ ম্যাচে ৮টি পেনাল্টি পেলেও সবাই এতে সফল হয়ে গোল করতে পারেননি। এর মধ্যে ৫টি গোলই মিস করেছেন ফুটবলাররা। এই তালিকায় আছেন বিশ্বসেরা তারকা লিওনেল মেসিও।
প্রযুক্তির কল্যাণে মাঠের মূল রেফারিরাও বহাল রাখতে পারছেন না নিজের সিদ্ধান্ত। তাদেরর দেওয়া পেনাল্টিও বাতিল করে দিচ্ছে ভিএআর। বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচে রেফারি ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে পেনাল্টি দিয়েছিলেন। কিন্তু ভিএআর সেটা বাতিল করে দেন।
কাতার বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীদের আলাদা নজর কেড়েছে ভিএআরের সাহায্যে লাল কার্ড। বক্সের বাইরে ইরানের মেহদি তারেমিকে ফাউল করেন ওয়েলসের গোলরক্ষক ওয়েন হেনসি। এতে শুরুতে রেফারি হেনসিকে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু ভিএআর দেখে হেনসিকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই অনন্য নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে কাতার বিশ্বকাপ। তাতে সুবিধা অসুবিধা পেরিয়ে নিরপেক্ষ ফুটবলটাই উপভোগ করছেন দর্শকরা।