যারা ক্রিকেটের খোজখবর নিয়মিত রাখেন তাদের কাছে এই 'এমআর১৫' ট্যাগ নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এই ট্যাগের ব্যাট নিয়ে খেলতে নামেন মুশফিকুর রহিম। যার নামের আদ্যাক্ষর আর জার্সি নম্বর মিলিয়ে এই ট্যাগ।
প্রশ্ন হলো, তৌহিদ হৃদয়ের ব্যাটে এই ট্যাগ কিভাবে এলো? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে হৃদয়ের ক্রিকেটের সঙ্গে বসবাসের একটা অংশ উঠে আসবে। যার মূলে রয়েছে তার ক্রিকেটার হবার স্বপ্ন। মুশফিককে দেখেই সাত বছর বয়স থেকে ক্রিকেটার হবার বাসনাটা লালন করেছিলেন হৃদয়।
.png)
এই তরুণের উঠে আসাও মুশফিকের শহর বগুড়া থেকে। যুব বিশ্বকাপ জয়ের পর হৃদয়ের নামডাক আরো ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ব্যাপারটা একবিন্দুতে মিলে গেলে হৃদয়কে নিজের একটি ব্যাট উপহার দেন মুশফিক। আর সেই ব্যাট হাতেই রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন এই তরুণ।
স্বপ্নের ক্রিকেটারের কাছ থেকে ব্যাটটি পেয়ে কোথাও ব্যবহার করেননি হৃদয়। বিপিএলের আগে এই ব্যাট হাতে হৃদয়কে মাঠে নামতে দেখা যায়নি। কেবল নিজেকে শাণিত করেছেন প্রতিনিয়ত। ধারটা দেখালেন বিশ ওভারের মঞ্চে। রাখলেন 'এমআর১৫' এর মান।
হৃদয়ের ব্যাটের সামনে দাঁড়াতে পারেননি কেউ। এমনকি মিরপুরের পিচে বাংলাদেশের যে বোলার সবচেয়ে বেশি কর্তৃত্ব নিয়ে বিচরণ করেন, সেই মুস্তাফিজুর রহমানও চেয়ে চেয়ে দেখেছেন তরুণ এই উইলোবাজের ঝড়। কিছুই যে করার ছিলো না।
ওপেন স্টান্স, হাই ব্যাক-লিফট নিয়ে পাওয়ার পজিশনে চলে যাওয়া একজন যখন হঠাৎ করে ক্রিজের একটু ভেতরে গিয়ে রুম বানিয়ে ফেলেন, তখন বোলারেরও চেয়ে দেখা ছাড়া কিছু করার থাকে না। কেবল দেখতে হয় মিড উইকেটের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ছক্কা!
কিংবা সেই বাউন্ডারিটা। ব্যাটার ওপেন স্টান্স নিয়ে ব্যাটটা ব্যাক লিফটে টেনে চলে গেলেন অফ স্টাম্প বরাবর। তা দেখে বোলার বলটি করলেন ব্যাক অব দ্য লেংথে। সেই বল কিনা বাউন্ডারিতে চলে গেলো পয়েন্ট আর থার্ড ম্যানের মাঝ দিয়ে! কি বিস্ময়।
মুশফিকের দেওয়া ব্যাট হাতে এবারের বিপিএলে এমনই বিস্ময়ের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন বগুড়ার উইলোবাজ। যেখানে এমন শটও আছে, ক্রিকেটীয় ভাষায় যার কোনো নাম নেই। স্রেফ অজানা, বেনামী শট বলা যেতে পারে।
হৃদয়ের আইডল বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। মুশফিকের ক্যারিয়ার এখন মধ্যগগনে। কয়েকদিন পর হয়তো অপরাহ্ন পেরিয়ে চলে যাবে শেষের গল্পে। ঠিক তখনি লাল-সবুজের ক্রিকেটে নতুন সূর্য হয়ে উদয় হবে বগুড়ার আরেক সূর্য হৃদয়।
একদিন হয়তো হৃদয়ের ব্যাটেও লেখা থাকবে 'টিএইচ৭'। ততোদিন বঙ্গদেশের ক্রিকেটে এই গল্পটা খোদাই থাকুক, মুশফিকুর রহিমের বিখ্যাত 'এমআর১৫' এবং হৃদয়ের গল্প...