ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

খারাপ সময় কাটিয়ে টি-২০তে ভালো কিছুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ

আশরাফুল ইসলাম আকাশ
প্রকাশিত: ১৬:১০, ৫ মার্চ ২০২৩
খারাপ সময় কাটিয়ে টি-২০তে ভালো কিছুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশ দল

বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফরম্যাটের নাম যদি বলা হয় তাহলে সেটি হবে টি-২০। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম এ ফরম্যাটে চার-ছক্কার বৃষ্টি, খেলোয়াড়দের আগ্রাসী মনোভাব ও গ্যালারিতে দর্শকদের উত্তেজনা উপচে পড়তে থাকে বলে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সময়ের ব্যবধানে ক্রিকেটের পরাশক্তি দেশগুলোও নিজেদের পেশিশক্তির প্রদর্শনে এই খেলাকে আরো বেশি উপভোগ্য করে তুলছে। সে তালিকায় অবশ্য ক্রিকেটপাগল বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান খুব বেশি সুখকর নয়। 

ক্রিকেটীয় যুগের আধুনিক সংস্করণ টি-২০তে স্ট্যাটাস অর্জনের পর গত ১৭ বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো রেকর্ড বা পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বরং এই ফরম্যাটে যেন খানিকটা কচ্ছপ গতিতেই এগোচ্ছে টাইগাররা।

Advertisement

ওয়ানডেতে নিজেদের শক্তিশালী দেশ প্রমাণ করলেও এই সংস্করণে অনেক উন্নতির জায়গা রয়ে গিয়েছে টাইগার শিবিরে। দেশের টি-২০ ইতিহাসের শুরু থেকে বর্তমানের নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন আশরাফুল ইসলাম আকাশ…

সাল ২০০৬। সে বছরে বাংলাদেশ সফরে আসে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। ওয়ানডে সিরিজ শেষে নভেম্বরের ২৮ তারিখে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে সে সময়ের শক্তিশালী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামে বাংলাদেশ। অভিষেক ম্যাচেই ইতিহাস রচনা করে হাবিবুল বাশার-মাশরাফীরা।

নিজেদের প্রথম টি-২০তে জিম্বাবুয়েকে ৪৩ রানের পরাজয় উপহার দেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। সে ম্যাচে বল হাতে ৪ ওভারে ২৯ রান খরচ করে ১ উইকেট তুলে নেন মাশরাফী। একই সঙ্গে ২৬ বলের ইনিংসে দুই চার ও দুই ছয়ে স্কোরকার্ডে ৩৬ রান যোগ করেন নড়াইল এক্সপ্রেস। ম্যাচসেরাও হন তিনি।

অভিষেক ম্যাচের সুখস্মৃতি বাদ দিলে এরপর দীর্ঘদিন টি-২০তে হতাশা উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৬ সালের পর থেকে দেশ ও দেশের বাহিরে মোট ১৪৪টি ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। এর মধ্যে ৪৯টি’তে জয় এবং ৯২ ম্যাচে পরাজয় বরণ করে বাংলাদেশ। বাকি দুই ম্যাচের কোনো ফলাফল হয়নি।

বর্তমানে ২২২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-২০ র‍্যাংকিংয়ের পয়েন্ট টেবিলে নবম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টি-২০তে বাংলাদেশের এই অবস্থান বা পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে তাদের শক্তিমত্তা কতটুকু? দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা যা নিশ্চয় ভুলে যেতে চাইবে।

তবে এই ফরম্যাটে ধারাবাহিক সাফল্য না আসলেও লম্বা সময় পরপর জয়ের দেখা পাচ্ছে বাংলাদেশ। সেটিও আবার দুর্বল প্রতিপক্ষ কিংবা দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভালো খেলার দিনে। 

দেশের ক্রিকেটে পঞ্চ পান্ডবের তাণ্ডবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষও টাইগারদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। অবসরের পাল্লা ভারী হওয়ায় ধীরে ধীরে সে তালিকা ছোট হতে শুরু করেছে। শুরুতে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, এরপর একে একে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম অবসর নিয়েছেন। এখন বাকি রয়েছেন শুধু সাকিব আল হাসান। দায়িত্বের বোঝা হয়তো কাঁধ থেকে নেমে গেলে তিনিও সরে দাঁড়াবেন।

বর্তমান সময়ে দেশের ক্রিকেটে হাতে গোনা কিছু মেধাবী খেলোয়াড় উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে লিটন দাস, তাসকিন আহমেদরা অন্যতম। ক্যারিয়ারের শুরুটা রাঙাতে পারলেও ইদানিং ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তবে সঠিকভাবে তত্ত্বাবধান করা গেলে হয়তো পুরোনো ছন্দে ফিরবেন কাটার মাস্টার।

এছাড়াও আগামীর ক্রিকেটকে নেতৃত্ব দিতে তৈরী হচ্ছেন আফিফ হোসেন, শেখ মাহেদী, নুরুল হাসান সোহানরা। ২০২০ সালে বাংলাদেশকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেয় বাংলাদেশের যুবারা। সে দল থেকে এরই মধ্যে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন শামীম পাটোয়ারি, শরিফুল ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়। এছাড়া অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন তৌহিদ হৃদয়।

খারাপ সময় কাটিয়ে সামনে হয়তো টি-২০তে ধারাবাহিক সাফল্যের দেখা পাবে বাংলাদেশ। সে সময় হয়তো খুব বেশি দূরে নয়। এমন স্বপ্নই দেখছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!