ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

বাফুফের বাজেট কাণ্ডে চক্ষু চড়কগাছ!

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯:১৪, ১০ এপ্রিল ২০২৩
বাফুফের বাজেট কাণ্ডে চক্ষু চড়কগাছ!
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অলিম্পিক বাছাইয়ের ম্যাচ ছিল মিয়ানমারে। অর্থাভাবে নারী দলকে সেখানে পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। টুর্নামেন্টটিতে অংশগ্রহণের সকল খরচের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ৯২ লাখ টাকার বাজেট দিয়েছিল সংস্থাটি।

বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আবু হোসেন স্বাক্ষরিত সেই বাজেটে বিমান ভাড়া, আবাসন থেকে শুরু করে মোজা কেনা, পকেট মানিও অর্ন্তভূক্ত ছিল। তবে বাফুফের বাজেট দেখে চক্ষু চড়কগাছ হলেও অবাক হওয়ার থাকবে না!

ঢাকা থেকে মিয়ানমারের দূরত্ব খুব বেশি নয়। স্বল্প দূরত্বের এই পথে বাফুফে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে বিমানভাড়া দেখিয়েছে। খেলোয়াড়, কোচ,কর্মকতা মিলিয়ে ৩১ জনের জন্য বিমান ভাড়াই দরকার ছিল ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা! এর সঙ্গে ছিল ভিসা ও ইন্স্যুরেন্স ফি। সব মিলিয়ে বিমান খাতে ব্যয় ৪২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

Advertisement

এর পরের খাত ছিল আবাসন। ১৩ টি ডাবল ও পাঁচটি সিঙ্গেল রুমের জন্য ২৫ হাজার ডলার ধরেছে বাফুফে। টাকার অঙ্কে যা ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও বাফুফের হিসেবে ডলার থেকে টাকার মূল্য খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ মূল্য (১১৫ টাকা) করে হিসেব দেখানো হয়েছে।

এদিকে ভবন থেকে বিমানবন্দর যাওয়া এবং বিমানবন্দর থেকে ভবনে আসার জন্যও বাস ভাড়া বরাদ্দ রেখেছিল ফেডারেশন। সেই অঙ্কটা ২৫ হাজার। কিন্তু ফেডারেশনের নিজস্ব বাসই রয়েছে। যেটা বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে উয়েফা। বিমান ভাড়া ও আবাসন খরচ মিলিয়ে বাফুফের দেয়া বাজেট প্রায় ৭২ লাখ।

এর পরের বিশ লাখ টাকার বাজেট নিয়ে সমালোচনা রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে। বিমান ভাড়া, আবাসন খরচের পাশাপাশি প্র্যাকটিস জার্সি (৩ সেট), ম্যাচ জার্সি (২ সেট), টি শার্ট, গোলরক্ষক গ্লাভস, ৫০ টি বল এমনকি মোজার হিসাব ধরেছে বাফুফে।

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তারা বাজেটে এসব খাতের অর্ন্তভূক্তি করার কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না। উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বিমান ভাড়া ও আবাসন খাতে আর্থিক সাহায্য চাইতে পারে। কিন্তু ৫০ টি বল, ম্যাচ জার্সি, প্র্যাকটিস কিট এগুলো হিসেবে থাকার কোনো মানেই নেই।

ফুটবলের অন্যতম অনুষঙ্গ জার্সি। জার্সির মানের উপরই অনেকটা একটি দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতির রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। খেলা শেষে অনেক ফুটবলার অন্য দেশের ফুটবলারদের সঙ্গে জার্সি বিনিময় করেন। দুই দেশের জার্সির তারতম্যে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় ফুটবলারদের।

জামাল ভূঁইয়া-সাবিনারা কেমন মূল্যের জার্সি পড়েন সাধারণত সেটা জানার সুযোগ হয় না গণমাধ্যমের। তবে এবার অলিম্পিক বাছাইয়ের দেয়া বাজেটে দেখা গেল সাবিনাদের জন্য বাফুফে ৮০০ টাকা করে জার্সির বাজেট দিয়েছে।

অপেশাদার বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতার প্রতি সেট জার্সি যেখানে প্রায় হাজার টাকা, সেখানে সাফ চ্যাম্পিয়ন নারীদের জার্সির জন্য বরাদ্দ মাত্র ৮০০ টাকা! যা দেখে নারী ফুটবলে বাফুফের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!