পূর্ব বেইজিংয়ে যেখানে আর্জেন্টিনা দল আছে, সেই ফোর সিজনস হোটেলের বাইরে মেসিদের দেখতে সমর্থকদের ঢল লেগেই আছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বেইজিংয়ে পৌঁছার দিন থেকে শুরু হয়েছে এই উন্মাদনা। শনিবার বিমানবন্দর থেকে টিম হোটেল পর্যন্ত সড়কে ছিল সমর্থকদের ভিড়।
এরপর সোমবার অনুশীলন ভেন্যু থেকে টিম হোটেলে ফেরার পথেও আর্জেন্টিনা আর মেসিকে নিয়ে উন্মাদনা দেখিয়েছে ফুটবলপ্রেমীরা। আগামী ১৫ জুন বেইজিং ওয়ার্কাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা।
.png)
তাদের মাঝে অদ্ভুত এক পাগলামিতে যেন সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন চাইনিজ ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা ঝ্যাং। প্রিয় তারকাকে দেখতে টানা ৩০টা ঘণ্টা না ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন তিনি। এমন আরেকজন লি ফুসং। যিনি স্বপ্ন পুরুষ মেসিকে কাছ থেকে দেখতে ফোর সিজনস হোটেলে থাকতে এক রাতের জন্য ব্যয় করেছেন ১৪শ ডলার।
স্বপ্নপূরণের পর সব কষ্ট ভুলে গেছেন ঝ্যাং। তিনি বলেন, আমি ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনা দলকে অনুসরণ করছি। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হোটেল পর্যন্ত। শুধুমাত্র মেসিকে একনজর দেখার জন্য। একটুও ঘুমাতে পারিনি। তবে যখন তাকে দেখেছি সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।
এদিকে বেইজিং জুড়ে চলছে পাগলামির মহোৎসব। হোটেলের সামনে এতটাই ভিড় যে রোববারের প্র্যাকটিস বাতিল করতে বাধ্য হয় আর্জেন্টিনা দল। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বেইজিংয়ে পৌঁছার দিন থেকে শুরু হয়েছে এই উন্মাদনা। চীনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় তিনশ সমর্থক এসেছেন এলএমটেন আর আর্জেন্টিনা দলকে এক ঝলক দেখতে।
একজন চীনা সমর্থক বলেন, আমি আমার প্রিয় তারকার এত কাছে। এমন সুযোগ নষ্ট করতে চাই না। মাত্রতো পাঁচ-ছয়দিনের ব্যপার। এই সপ্তাহান্তে আমার আড়াই কেজি ওজন কমেছে। কমুক। আমি তাতেও খুশি।
আরেকজন বলেন, মেসির ইন্টার মায়ামিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক হয়েছে। এতে তার ইনজুরিতে পড়ার সম্ভাবনা কম এবং পরের বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে। যা তার ভক্ত হিসেবে আমার কাছে ভালই লাগছে।
সাংবাদিক গাস্তন এদুল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফরের সঙ্গী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আলবিসেলেস্তেদের অনুসরণ করলেও এমন অভিজ্ঞতা তার কাছেও নতুন।
১৫ জুন বেইজিংয়ের ওয়ার্কাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ৬৮ হাজার আসনের সব টিকিট কয়েক মুহূর্তে শেষ। এশিয়া সফরে চারদিন পর ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।