বাংলাদেশের মানুষরা আর্জেন্টিনাকে কতটা ভালোবাসে, সে প্রমাণ বিশ্বকাপে খুব ভালোভাবেই দিয়েছে। আর এই ভালোবাসার জোয়ার খুলে দিয়েছে নতুন অনেক দুয়ার। যার মাঝে একটি হচ্ছে আলবিসেলেস্তে ফুটবলাররাও এখন বাংলাদেশের নাম জানেন, এ দেশকে ভালোবাসেন।
আর তাই যখন ভারত সফরের আমন্ত্রণ পান, তখনই বাংলাদেশে আসার আবদার জানিয়েছিলেন এমি। যে কারণে এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষককে বাংলাদেশে আনার জন্য স্পন্সরসহ নানা প্রতিষ্ঠানের কাছে দৌড়েছেন শতদ্রু দত্ত।
.png)
কিন্তু আশানুরূপ সাড়া পাননি কলকাতার এ ব্যবসায়ী। এমনকি বাফুফে থেকেও মেলেনি আশানুরূপ কিছু। বড় কোনো প্রতিষ্ঠানও ডলার সংক্রান্ত জটিলতায় এগোতে চায়নি। এসব জানার পর এই দেশে আসতে মার্টিনেজ যা করেছেন, তা কি সবাই করতে পারতেন?
তিনি বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকা। অনবদ্য গোলকিপিংয়ে বিশ্বজুড়ে তার অসংখ্য ভক্ত। তাকে নিজ দেশে একবার নিয়ে আসার সুযোগ পেলে ছাড়বে না কেউই। আর সেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন অতিরিক্ত কোনো টাকা ছাড়াই!
জ্বি। ভুল পড়েননি। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ আজ কয়েক ঘণ্টার সফরে বাংলাদেশে এসেছেন এ তথ্য সকলেই জানেন। তবে বাংলাদেশ সফর থেকে অতিরিক্ত কোনো অর্থই নিচ্ছেন না তিনি। যা টাকা নিচ্ছেন, সবটাই ভারত সফর থেকে।
আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে নেক্সট ভেঞ্চার। অনেকটা শুভেচ্ছাদূত হিসেবে মার্টিনেজকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। যেখানে শুধুমাত্র বিমানভাড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানটিকে।
সুদূর আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশে আসতে এমির সময় লেগেছে প্রায় ৩০ ঘণ্টা। যেখানে সবশেষ ফ্লাইট ছিল টানা ১০ ঘণ্টার। বাংলাদেশে না এলে এ সময় ভারতে থাকতেন তিনি, নিতেন পূর্ণ বিশ্রাম। অথচ এসবের তোয়াক্কা না করে দিবু ঠিকই এসেছেন এ দেশে।
এমি কেন বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিলেন? এমনকি অতিরিক্ত কোনো অর্থ না নিয়েই এসেছেন? উত্তর একটাই, বাংলাদেশকে ভালোবেসে। দেশের মানুষদের ভালোবেসে। আর তাই যেন ঢাকায় নেমেই রাস্তার ছবি তুলে ইনস্টাগ্রাম স্টোরি দিয়েছেন তিনি, এঁকেছেন ভালোবাসার চিহ্ন।
তবে তার আশা পুরোপুরি পূর্ণ হচ্ছে না। এমির সঙ্গে সাধারণ মানুষ দূরের কথা, সাংবাদিকদেরও কাছে ঘেঁষতে দেয়নি নেক্সট ভেঞ্চার। তবে চাইলেই তারা অন্তত ২০-৩০ মিনিটের জন্য এমিকে সাধারণ মানুষের সামনে আনতে পারতো। প্রয়োজনে টিকিটের ব্যবস্থা করলেও হয়তো লস হতো না। অন্তত এ দেশের মানুষের ভালোবাসা আরেকটু ভালোভাবে, কাছ থেকে অনুভব করতে পারতেন মেসির ভালোবাসার দিবু।
না, এসবের কিছুই হচ্ছে না। দেশের কিছু শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করে আর তাকে নিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানে সময় কাটিয়েই ফিরবেন এমি। তার প্রতি দেশের আপামর জনসাধারণের যে ভালোবাসা, তার কিঞ্চিৎ অংশও হয়তো পৌঁছাবে না। তবুও তার ইচ্ছার জন্য, এ দেশে আসার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ হতি পারি।
আপনার এ ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ, এমিলিয়ানো দিবু মার্টিনেজ।