বিশ্বকাপের আগের আসর নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের ১২ পর্বের প্রতিবেদনে আজ থাকছে সপ্তম পর্ব- ১৯৯৯: বাংলাদেশের আগমনী বার্তা, অজিদের জয়যাত্রা।
১৯৯৯ সাল বাংলাদেশের ক্রিকেটের ঐতিহাসিক বছর। তাইতো চাইলেও এ দেশের কোটি ক্রিকেট সমর্থক ওই বছরটি ভুলতে পারবে না। যে বছর প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নেয় বাংলাদেশ। সেবার পাকিস্তানের মতো দলকে হারিয়ে সবাইকে চমকে দেয় টাইগাররা। অথচ পাকিস্তান ছিল সেই আসরের ফেভারিট। এসবের বাইরেও স্মরণীয় কিছু ঘটনা আর রুদ্ধশ্বাস কয়েকটি ম্যাচের জন্য ১৯৯৯ বিশ্বকাপ স্মৃতির পাতায় স্বরণীয় হয়ে থাকবে।
.png)
সেবার ইংল্যান্ডের সঙ্গে স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস এবং নেদারল্যান্ডস ছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। আর প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১২টি দেশ। আইসিসি’র পূর্ণ সদস্য অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবুয়ে ছাড়া সহযোগী সদস্য হিসেবে কেনিয়ার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের পাতায় নিজেদের নাম লেখায় বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ড।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ছিল শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। বৈশ্বিক আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় হার মেনে নিতে হয় বুলবুলদের। যেখানে আগে ব্যাট করে ৩৭.৪ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ১১৬ রান করে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ১৯ রান আসে এনামুলের ব্যাট থেকে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৩ ওভারে মাত্র ৪ উইকেটেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কিউইরা। আসরের দ্বিতীয় ম্যাচেও পরাশক্তি ওয়েষ্ট ইন্ডিজের কাছে বাংলাদেশ হেরে যায়। যে ম্যাচে ১৮২ রানে অলআউট হওয়ার পর ৭ উইকেটের হার হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। তবে জয়ের স্বাদ নিতে ক্যারিবীয়ানদের খেলতে হয়েছিল ৪৭ ওভার পর্যন্ত।
টানা দুই হারের পর তৃতীয় ম্যাচে এসে বাংলাদেশ পেয়ে যায় কাঙ্খিত জয়। যা কিনা বিশ্বকাপে টাইগারদের প্রথম জয়। তৃতীয় ম্যাচেও শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ১৮৫ রান করেন নান্নুরা। জবাবে ১৬৩ রানে অলআউট হয় স্কটল্যান্ড। তবে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সামনে দাঁড়াতেই পারেনি টাইগাররা।
অজিদের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ১৭৮ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে মাত্র ১৯.৫ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে ফেলে অজিরা।
গ্রুপ পর্বে এবং বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। ৩১ মে নর্দাম্পটনের মাঠে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হয় তারা। অলিভ সবুজের মাঝে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ওপর কালো ডোরাকাটা জার্সিতে মাঠে নামে টাইগাররা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে সেরা চমক দেখাবে বলেই হয়তো সব নাটকীয়তা ধরে রেখে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘন্টা আগেই টাইগার শিবিরে চলে এসেছিল বিদায়ের চিঠি। পুরো টুর্নামেন্টেই প্রথমে ব্যাট করা বাংলাদেশ শেষ ম্যাচেও প্রথমে ব্যাট করতে নামে। পাকিস্তানের শোয়েব আখতার ও ওয়াকার ইউনুসদের মত বিশ্বসেরা পেসারদের সামনে কেমন করে সেটাই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।
না, হতাশ করেনি বাংলাদেশ। প্রথমবারের মত তারা বিশ্বকাপে দুইশো পেরোয়। আকরাম খান ও শাহরিয়ারের অবদানে ৯ উইকেটে ২২৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। দলীয় ৫ রানের মাথায় প্রথমেই আঘাত হানেন খালেদ মাহমুদ সুজন। পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে ৭ রানের সময় দ্বিতীয় স্ট্রাইকে যান বোলার শফিউদ্দিন। নিজেদের ৪২ রানের মাথায় ৫ উইকেট হারিয়ে ওয়াসিম আকরামরা তখন পুরোপুরি পথহারা।
নিয়মিত উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন ১৬১ রান তোলে তখন উইকেটরক্ষক পাইলট সাকলায়েন মুস্তাকের স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দিয়ে নিশ্চিত করেন বিশ্বকাপে টাইগারদের মহামূল্যবান এক জয়। যেখানে ম্যাচসেরা হন খালেদ মাহমুদ সুজন। নর্দাম্পটনে দর্শকদের সেদিন আর আটকানো যায়নি। দর্শকরা এক এক করে মাঠের ভেতর ঢুকে পড়েন, এরপর উদযাপন করেন।
একনজরে ১৯৯৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ:
আয়োজক দেশ: ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস ও নেদারল্যান্ডস
চ্যাম্পিয়ন দল: অস্ট্রেলিয়া
অংশগ্রহণকারী দল: ১২
মোট ম্যাচ: ৪২
টুর্নামেন্টসেরা: ল্যান্স ক্লুজনার
সর্বোচ্চ রান: ৪৬১ রান (রাহুল দ্রাবিড়)
সর্বোচ্চ উইকেট: ২০ উইকেট (শেন ওয়ার্ন)।