ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]
আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ-২০২৩

গোধূলিতে আলো হয়ে জ্বলতে চান মুশফিক

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:৫০, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
গোধূলিতে আলো হয়ে জ্বলতে চান মুশফিক
ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে, সামনে ধুঁ ধুঁ প্রান্তর। পথটা মোটেও সুবিধার নয়। ভুল করলেই বিপদ। তাই সর্তক হয়েই এগোতে হবে। তাতে একবার পার হতে পারলেই আলোর দেখা। যেখানে শুধুই প্রাপ্তি, আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। মুশফিকুর রহিমও সেই আনন্দের ভাগিদার হতে চান। সেজন্য ভারত বিশ্বকাপকেই নিয়েছেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে। 

হয়তো এটাই শেষ, এখানেই থামতে হবে মুশফিককে। তবে ব্যতিক্রম হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ বয়সে কি বা আসে যায়, যদি পারফরম্যান্সের গ্রাফটা উপরের দিকে চলে যায়। হ্যাঁ, এটা ঠিক তিনি এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কখনো বোঝা হয়ে থাকবেন না। যদি পারফর্ম করতে পারেন তবেই আরেকটু সময় নেবেন। না হয় ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষ লাইনটা লিখে সরে যাবেন হাসিমুখে।’ 

মুশফিকুর রহিম। ছবি- সংগৃহীতএজন্যই মুশফিককে এত ভালো লাগে! যা কিছু বলেন সোজাসাপটা। যেখানে অবসরের ঐতিহ্যটাই দাঁড়ায়নি। নতুনদের বরণ করা হয় না। অভিজ্ঞদের একটা সময় ছুঁড়ে ফেলা হয় সেখানে মুশফিক অন্তত একই পথের পথিক হবেন না। তাইতো যেটুকু দিয়েছেন, যা কিছু পেয়েছেন সব এক করে তারপর বিদায়টা বলতে চান। তার আগের দিনগুলো একটু রঙিন হলে দোষ কী? 

Advertisement

ক্যারিয়ারে উত্থান পতন তো কম দেখা হয়নি। সর্বদা দলকে জেতাতে লড়েছেন মুশফিক। তার ব্যাট হাসলে বাংলাদেশও হেসেছে। দলের প্রয়োজনে মাথা ঠান্ডা করে কিভাবে এগোতে হয় সেটাও তার ঠোটস্থ। এবার সেই অধ্যায়গুলো রিভিশন দিয়ে বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করার পালা। কথায় আছে না ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’। মুশফিক সেই মনোভাব বুকে ধারণ করে ভারতের মাটিতে আরেকটা গর্জন দিতে প্রস্তুত।

মুশফিকুর রহিম। ছবি- সংগৃহীত২০০৭ থেকে ২০২৩; দীর্ঘ ১৬ বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভ্রমণে প্রথম দুটির কথা মনে রাখার মতো নয়। তবে পরের দুটি তাকে আলাদাভাবে চিনিয়েছে। এখন শুধু ব্যাটিং নয়, নিজেকে উইকেটরক্ষক হিসেবে করেছেন আরো শাণিত। ওজন আরো কয়েক কেজি কমিয়েছেন। স্টান্স একটু পরিবর্তন করেছেন, যাতে স্পিনে নড়াচড়া করতে সমস্যা না হয়। স্পোর্টিং উইকেটে ব্যাটিংয়ের সঙ্গে ক্যাচ স্টাম্পিংগুলোও তো ঠিকঠাক করতে হবে! ভুল হলে তো রক্ষা নেই!

মুশির অনুশীলনের একাগ্রতা নিয়ে অনেক সময় সমালোচনাও হয়। এটাও ঠিক, আজ যেখানে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন, সেখানে বড় ভূমিকা অনেকের ভাষায় মুশফিকের ‘অতি’ অনুশীলন। তিনি জন্মগত প্রতিভাবান নন বলেই দাবি করেন প্রকাশ্যে। অনেকেরই জানা নেই, ২০০৪ সালে বয়সভিত্তিক দলে যখন তিনি নাম কামানো শুরু করলেন, তখন থেকেই তাকে ভাবা হচ্ছিল বাংলাদেশের ‘ভাবী’ অধিনায়ক হিসেবে। তিনি কতটা ভালো, একটা উদাহরণ দেওয়া যায় বগুড়ার তৎকালীন কিউরেটরের তখনকার বিশ্লেষণে।

মুশফিকুর রহিম। ছবি- সংগৃহীত‘মুশফিক যখন ব্যাটে বলটা ছোঁয়ায়, তখন কিন্তু মনে হয় না খুব দূরে যাবে। কিন্তু দেখা যায়, সব সময় টাইমিংটা এত ভালো হয় যে বল সীমানা দড়ির ওপারে গিয়ে পড়ে। এত ভালো টাইমিং কিন্তু ওই বয়সে অনেকের কাছে আমি দেখিনি। অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী।’ 

অথচ মুশফিকের ভাষায়, তিনি একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, যিনি বাংলাদেশের জয়ে সামান্য কিছু ভূমিকা কখনো কখনো রেখে থাকেন। এশিয়া কাপটা মনের মতো হয়নি তার। 

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে উল্লাস করছেন মুশফিক। ছবি- সংগৃহীত

বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শেষ পর্বে নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টাটা অব্যাহত। অভিজ্ঞ মুশফিকের নতুন করে পাওয়া পুরোনো জায়গা নিয়ে অনেক কথা আছে। তিনি ধরে খেলবেন, না মেরে খেলবেন– তা নিয়ে সংশয়বাদীর সংখ্যা কম নয়। পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারবেন বলেও অনেকের দ্বিমত রয়েছে।

বিশ্বকাপের শেষ অনুচ্ছেদে বিরহের সুর, না বিজয়ের ঝংকারে নিজেকে মেলে ধরেন মুশফিকুর রহিম– সেটা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু সময়কালে দেশের বড় নির্ভরযোগ্য ব্যাটার ধীরে ধীরে ছায়া ছাড়িয়ে এখন পড়ন্ত বেলার তেজি সূর্যরশ্মি হতে চান। তেমনটা হলে বাংলাদেশেরই লাভ। কারণ তিনি হাসলে বাংলাদেশও হাসবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআইএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!