অবাক হলেও এটি সত্য। বাংলাদেশে এমন একটি দল রয়েছে, যারা চোখে দেখেন না। কানে শুনে ক্রিকেট খেলে থাকেন। বহির্বিশ্বে লাল-সবুজের জার্সিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও করেছেন তারা। ২০২২ সালে টি-২০ বিশ্বকাপে রার্নাস-আপের তকমা গায়ে জড়িয়েছে এই দলটি। বলছি, বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট দলের কথা। যারা গেল বছর ভারতে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের কাছে হেরে রার্নাস আপ হয়েছিলেন।

.png)
এ দলের একজন সদস্য মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। যার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়নে। যিনি ব্লাইন্ড ক্রিকেট খেলছেন গত দুই বছর ধরে। শুধু মিজানুর রহমানই নন, এই দলের আরো অনেক ক্রিকেটার রয়েছেন, যারা অন্ধ হয়েও ভালোবাসার টানে কানে শুনে ক্রিকেট খেলে থাকেন।
শুরু থেকে নানা প্রতিবন্ধকতা পাড়ি দিয়েছেন ব্লাইন্ড ক্রিকেট দলের সদস্যরা। বর্তমানে ব্লাইন্ড ক্রিকেট দলের কোনো খেলা নেই। গত মাসের ১৮ তারিখে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে হয়েছিল আইবিএস ওয়ার্ল্ড-২০২৩ গেমস। সেখানে ভালো খেলেছিল বাংলাদেশ দল। শুরুর ম্যাচে শক্তিশালী স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৩২ রানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছিলেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পরের কয়েকটি ম্যাচে দারুণ খেলে দেশে ফিরেছেন তারা।

এই সফরের আগে দুই দফা অনুশীল করেছিল বাংলাদেশ দল। প্রথম দফা অনুশীলন করেছিল চট্টগ্রাম মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও দ্বিতীয় দফা অনুশীলন করেছিল বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)। এই সফর শেষে দলের অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্রিকেটার মিজানুর কথা বলেন ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘আসরটি দারুণ হয়েছে আমাদের। আমরা শুরুর ম্যাচে ইংল্যান্ড দলকে হারিয়েছি। সেটি আমাদের বড় অর্জন। আসর উপলক্ষে দুই দফা অনুশীলন হয়েছে। প্রথম অনুশীলন হয়েছিল চট্টগ্রাম মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে। সেখানে স্যারেরা ছিলেন। দ্বিতীয় দফা অনুশীলন হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)। এরপর আমরা সেখানে (বার্মিংহামে) খেলতে যাই। সেখানে গিয়ে দেশের হয়ে ইতিবাচক ফলাফল করি।’
‘আসরটি দারুণ হয়েছে আমাদের। আমরা শুরুর ম্যাচে ইংল্যান্ড দলকে হারিয়েছি। সেটি আমাদের বড় অর্জন। আসর উপলক্ষে দুই দফা অনুশীলন হয়েছে। প্রথম অনুশীলন হয়েছিল চট্টগ্রাম মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে। সেখানে স্যারেরা ছিলেন। দ্বিতীয় দফা অনুশীলন হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)। এরপর আমরা সেখানে (বার্মিংহামে) খেলতে যাই। সেখানে গিয়ে দেশের হয়ে ইতিবাচক ফলাফল করি।’
ব্লাইন্ড ক্রিকেটে খেলা আইসিসির অন্য সাধারণ ক্রিকেট খেলার মতো নয়। এই খেলার কিছু পার্থক্য রয়েছে। এ খেলায় ১১ জন নিয়ে দল গঠন হয়। তবে এই দলে সবাই পুরোপুরি অন্ধ নন। দলে ১১ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে চারজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি অন্ধ থাকতেই হবে। তা না হলে এটি ব্লাইন্ড দল হবে না। পুরোপুরি অন্ধ খেলোয়াড়দের বলা হয় ক্যাটাগরি বি-‘ওয়ান’। এই ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা ১ রান করলে ২ রান হিসেবে গণ্য হবে।

বি-টু ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা ১০ গজের মধ্য দেখতে পারেন- এমন অন্ধজনই থাকবেন। এ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৭ জন খেলোয়াড় খেলতে পারবেন। আর বাকি সদস্যরা ১৫ গজ এবং ২৫ গজের দেখতে পারেন- এমন অন্ধ খেলোয়াড়রাই থাকবেন।
ব্লাইন্ডদের ওয়ানডে ম্যাচ হয় ৪০ ওভারের। যার জন্য ৩ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে প্রত্যেক দল ফিল্ডিং ও ব্যাটিং করবে। তবে সময় কম হোক কিংবা বেশি- উভয় দলকে ৪০ ওভার বল করতেই হবে। যদি ৩ ঘণ্টার মধ্যে কোনো দল ৪০ ওভার শেষ করতে না পারে তাহলে পেনাল্টি রান পাবে প্রতিপক্ষ। সেক্ষেত্রে বি-১ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের ওভারপ্রতি ১০ রান ও বি-২ এবং বি-৩ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা ওভারপ্রতি ৬ রান করে পেনাল্টি পাবেন।

এদিকে অন্ধদের ওয়ানডে ম্যাচের পাশাপাশি টেস্ট ম্যাচও হয়। দুই ইনিংসের ম্যাচগুলো তিনদিনের মধ্যে হয়ে থাকে। যেখানে প্রত্যকদিন ৮০ ওভারের খেলা হয়। এখানেও ৬ ঘণ্টার মধ্যে ৮০ ওভার শেষ করতে হয়। টেস্ট ম্যাচে ২৫ ওভারে মধ্যে কমপক্ষে ৫ ওভার বি-১ ক্যাটাগরি খেলোয়াড় দিয়ে বোলিং করা বাধ্যতামূলক। ব্লাইন্ড ক্রিকেটে খেলা হয় বল নিচ দিয়ে গড়িয়ে। বলটির ভেতরে এক ধরনের বিশেষ যন্ত্র থাকে। যা মাটিতে পড়া মাত্রই শব্দ হয়। যা শুনে খেলেন অন্ধ ক্রিকেটাররা।
মূলত সামাজের অন্ধ ও প্রতিবন্ধীদের ইতিবাচক বার্তা দিতেই এ ধরনের ক্রিকেটের প্রচলন করে আইসিসি। এতেই অন্ধ ও প্রতিবন্ধী ক্রিকেটাররা জীবনকে উপভোগ করতে পারেন। দিনে দিনে তারা হয়ে ওঠেন সমাজের বিশেষ শ্রেণির তারকা ক্রিকেটার।