ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

মিরাজ কী হবেন ‘ভবিষ্যৎ সাকিব’!

আসমাউল মুত্তাকিন
প্রকাশিত: ২১:০০, ৭ অক্টোবর ২০২৩
মিরাজ কী হবেন ‘ভবিষ্যৎ সাকিব’!
ছবি: সংগৃহীত

‘সব সময় হয়তো ওপেনিংয়ে খেলবো না। তবে টপ অর্ডারে সুযোগ পাবো। টিম ম্যানেজমেন্ট যদি আমাকে টপ অর্ডারে সুযোগ দেয় তাহলে এটা আমার জন্য ভালো হবে।’ এই কথাটি বলেছিলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। গেলো এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে এই কথা বলেছিলেন তিনি।

তার এই কথা বলার অবশ্য কয়েকটি কারণ রয়েছে। যার মধ্যে একটি ছিল এমন- আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নেমেই করেন বাজিমাত। দেখেশুনে খেলে পান ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা। স্বাভাবিকভাবে এমন কথা বলতে পারেন বাংলাদেশি এই অলরাউন্ডার। 

মেহেদীর এই কথাটি হয়তো শুনেছিলেন টিম ম্যানেজমেন্ট। পরের ম্যাচে আবারো ওপেনিং করার সুযোগ পান তিনি। এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিতে নেমে অবশ্য ভালো করতে পারেনি মিরাজ। রানের খাতা খোলার আগে সাজঘরে ফিরেন তিনি। 

Advertisement

সব সময় হয়তো ওপেনিংয়ে খেলবো না। তবে টপ অর্ডারে সুযোগ পাবো। টিম ম্যানেজমেন্ট যদি আমাকে টপ অর্ডারে সুযোগ দেয় তাহলে এটা আমার জন্য ভালো হবে।’

মেহেদী হাসান মিরাজ

আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান পরের ম্যাচে শুন্য রানে আউট। বিষয়টি অবশ্যই ভাবাচ্ছিল টিম ম্যানেজমেন্টেকে। ওই ম্যাচটি পাকিস্তান জিতে ৭ উইকেটে। ম্যাচে শুন্য রানে আউট হওয়ার পর মিরাজকে নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। তবে এই সমালোচনায় থেমে থাকেনি বোর্ড। এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও মিরাজকে দিয়ে ওপেনিং করিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। ২৯ বলে ২৮ রানে মোটামুটি একটি ইনিংস খেলেন মিরাজ। 

এরপর বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে ওপেনিং পজিশন ছেড়ে টপ অর্ডারে খেলেন মিরাজ। শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে টপ অর্ডারে খেলেন ৬৪ বলে ৬৭ রানের ইনিংস। পরের প্রস্তুতি ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৯ বলে করেন ৭৪ রান।

২০১৮ সালে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওপেনিং পজিশনে নেমেছিল মিরাজ। ২০১৮ এশিয়া কাপে তামিম ইকবাল চোটে পড়ায় লিটনের উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে পেতে ব্যর্থতার পর ফাইনালে লিটনের সঙ্গে ওপেন করানো হয় মেহেদী হাসান মিরাজকে।

উইকেট পাওয়ার উচ্ছ্বাস সাকিব আল হাসান ও মেহেদী মিরাজের।

‘মেকশিফট’ ওপেনার হিসেবে সেই ম্যাচে লিটনের সঙ্গে ২০.৫ ওভারে ১২০ রানের জুটি গড়েছিলেন মিরাজ- যেখানে লিটনের অবদান ছিল ৬৬ বলে ৮৬ আর মিরাজের ৫৯ বলে ৩২। ম্যাচটি ছিল ওয়ানডে, যাতে মিরাজের স্ট্রাইক রেট ছিল ৫৪.২৩। সেই থেকে মিরাজ যে ওপেনিং করতে পারেন সেটা মোটামুটি সবার জানা। 

২০২১ সাল থেকেই ‘অলরাউন্ডার’ হয়ে উঠেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার জাদু দেখছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। ২০২২ সালে সেটি রূপ নিয়েছে ধারাবাহিকতায়। সে বছর একের পর এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছেন মিরাজ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সর্বশেষ দুই বছরে ‘অলরাউন্ডার’ হয়ে উঠেছেন তিনি। 

২০২২ সালে ১৫ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ৩৩০ রান। যেখানে ১টি শত রানের পাশাপাশি খেলেন একটি অর্ধশত রানের ইনিংস। পাশাপাশি এভারেজ ছিল ৬৬.০০। বোলিংয়েও ছিলেন দুর্দান্ত। ১৫ ম্যাচের ১৫ ইনিংসে বল করে নিয়েছিলেন ২৪ উইকেট। সর্বোচ্চ ছিল ২৯ রানের খরচায় ৪ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব। চলতি বছরে দারুণ ফর্মে রয়েছেন মিরাজ। ব্যাট করার পাশাপাশি বোলিংয়ে দলের প্রয়োজনে জ্বলে উঠছেন তিনি। 

২০২৩ সালে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ম্যাচের আগে মুহূর্ত পর্যন্ত ব্যাট হাতে ১৬ ম্যাচে ১৪ ইনিংস ব্যাট করেছেন মিরাজ। তাতেই করেছেন ৩৪৭ রান। রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও একটি অর্ধশত রানের ইনিংস। বোলিংয়ে ১৬ ম্যাচে ১৪ ইনিংস বল করে নিয়েছেন ১৫ উইকেট। 

বাংলাদেশ জাতীয় দলে মেহেদী হাসান মিরাজ মূলত লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাট করে থাকেন। সেখানে তার কাছে দলের দাবি থাকে, মারকুটে ব্যাটিং অথবা ম্যাচ ফিনিশ করে আসার। সাতে বা আটে নেমে অনায়াসে তাই বড় ইনিংস খেলা যায় না। স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে জাতীয় দলের প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। কিন্তু দলের প্রয়োজনে ব্যাট করতে পারেন যেকোনো পজিশনে।

বর্তমানে বাংলাদেশ দলে যেমনটি করে থাকেন বিশ্বসেরা নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার ক্যারিয়ারটাও শুরু হয়েছিল লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাট করে। ধীরে ধীরে নিজের জাত চিনিয়েছেন ‘মিস্টার ৭৫’। দলের প্রয়োজনে যেকোনো সময় জ্বলে উঠেন তিনি। কখনো ব্যাট হাতে কিংবা কখনো বল হাতে।

সাকিবের মতো মিরাজের মধ্যে রয়েছে নেতৃত্ব দেওয়ার সহজাত ক্ষমতা। ২০১৬ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে তার অধিনায়কত্বে তৃতীয় হয়েছিল বাংলাদেশ দল।  মিরাজ নির্বাচিত হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। অনেকের বিবেচনায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক তিনিই।

আমি তাদের একজন অলরাউন্ডারের কথা বলবো। মেহেদী মিরাজ, যাকে আমি প্রথমে টেস্ট খেলতে দেখেছি। টেস্ট ক্রিকেটের মানানসই অফ স্পিনার হিসেবে। এরপর তাকে আমরা দারুণ সব ইনিংস খেলতে দেখলাম। আমার চোখে, মিরাজের মধ্যে পরবর্তী সাকিব হওয়ার নির্যাস আছে।’

ক্রিকেট বিশ্লেষক হার্শা ভোগলে

এছাড়া, মাঠে নিজেকে নিংড়ে দেন মিরাজ। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষুধা তার মাঝে সবসময় দেখা যায়। মাঠে কিংবা ক্রিজে মিরাজের নিবেদন দেখলে মাঝেমাঝে ভ্রম হয়। অধিনায়কের তকমা গায়ে না থাকলেও মনে হয়, মিরাজই কি আদতে এই দলের অধিনায়ক?

মিরাজকে ‘ভবিষ্যৎ সাকিব’ দেখছেন জনপ্রিয় ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষক হার্শা ভোগলে। তার মতে মিরাজের ভেতরে পরবর্তী সাকিব হওয়ার সকল গুণাবলী বিদ্যমান। সাকিবের নির্যাস মিরাজের ভেতর রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হার্শা বলেন, ‘আমি তাদের একজন অলরাউন্ডারের কথা বলবো। মেহেদী মিরাজ, যাকে আমি প্রথমে টেস্ট খেলতে দেখেছি। টেস্ট ক্রিকেটের মানানসই অফ স্পিনার হিসেবে। এরপর তাকে আমরা দারুণ সব ইনিংস খেলতে দেখলাম। আমার চোখে, মিরাজের মধ্যে পরবর্তী সাকিব হওয়ার নির্যাস আছে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএসএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!