ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]
আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ - ২০২৩

‘বিগ ফিশ’ ধরতেই ভারতের এমন স্পিন জাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩৩, ৯ অক্টোবর ২০২৩
‘বিগ ফিশ’ ধরতেই ভারতের এমন স্পিন জাল
ফাইল ছবি

যেকোনো বড় টুর্নামেন্টেই ভারতের স্পিন আক্রমণ তাদের বোলিং ইউনিটের বড় ভরসার নাম। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এমনিতে দেশের মাটিতে খেলা, তার ওপর ভারতের অনেক স্টেডিয়ামের পিচে স্পিন অনেক ভালো গ্রিপ করে। সে কারণে চলমান আসরে ভারতের বোলিং আক্রমণে স্পিনকে বেশ ভালো প্রাধান্যই দিচ্ছে তারা। 

ভারতের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে স্পিন আক্রমণের বড় তিন অস্ত্র রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এর মধ্যে জাদেজার বাড়তি শক্তি তিনি ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। পুরোদস্তুর স্পিনার হিসেবে ফিঙ্গার স্পিনে তাদের চেয়ে ঢের এগিয়ে থাকবেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। যেটা বুঝতে পেরে সেই অশ্বিনকেই শেষ পর্যন্ত স্কোয়াডে নেয় ভারত।

বিশেষ করে অশ্বিনের বৈচিত্র্যকে ভারত মনে করতে বাধ্য। অফব্রেক, টপস্পিন, আর্ম বল ও ক্যারম বলের মতো ডেলিভারিতে তো তিনি দক্ষই; আইপিএলের সাম্প্রতিক আসরগুলোতে লেগস্পিনের ফ্লিপার কিংবা লেগব্রেকেও বেশ দক্ষতা দেখা গেছে অশ্বিনের। 

Advertisement

একটা গুঞ্জন ছিল, যে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে বেশ কয়েকটা ম্যাচে ব্যাটিংসহায়ক উইকেটে খেলতে হতে পারে দলগুলোকে। এমন উইকেটে অশ্বিনের মতো স্পিনারকে কাজে লাগতো ভারতের। কিন্তু সেই প্রেক্ষাপট আপাতত দেখা যাচ্ছে না। গত কয়েক ম্যাচের স্কোর সেই কথাও বলবে না। 

এবার একটু পরিসংখ্যানের দিকে ফেরা যাক। এই তিন স্পিনার মিলে বড় দলের বিপক্ষে কেমন পারফর্ম করেছেন, সেই পরিসংখ্যান যদি আমরা দেখতে চাই তাহলে সেখানে দেখব, ২০১৯ বিশ্বকাপের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই স্পিনত্রয়ীর গড় ৪৯.৭, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেটা আরো বেশি ১৯০.০০!

নাহ, শূন্য একটা মোটেও এদিক-ওদিক হয়নি। এই যখন অবস্থা, তখন বড় দলের বিপক্ষে ভারতের মাথাব্যথার কারণ ছিল তাদের স্পিন আক্রমণই। কিন্তু সব হিসাব নতুনভাবে শুরু করলেন জাদেজা-কুলদীপরা। রোববার অজিদের বিপক্ষে তাদের এই তিন স্পিনারই দেখান আসল খেল। 

৩০ ওভার বোলিং করেছেন ভারতের স্পিনাররা। যেখানে ১০৪ রান দিয়ে নেন ৬ উইকেট। যার তিনটি নেন জাদেজা, দুটি কুলদীপ বাকি উইকেট নেন অশ্বিন। তবে পেস আক্রমণও মন্দ হয়নি। ১৯.৩ ওভার বোলিং করেছেন ভারতের পেসাররা। যেখানে ৮৯ রানের বিপরীতে নেন ৪ উইকেট।

বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া স্পিনারদের কাছে ছয় উইকেট হারায়। অবশ্য দিনটি অজি পেসার স্টার্কের জন্যও একটু স্পেশাল। কারণ বিশ্বকাপে উইকেট শিকারের হাফ সেঞ্চুরিটা হয়ে গেল তার। তাও আবার সবচেয়ে কম ৯৪১ বল খরচ করে।

ভারত ঘরের মাঠে এমনিতেই ভয়ংকর। এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন তারা। লঙ্কানদের মাটিতে ব্যাটে-বলে নিজেদের শক্তিমত্তা আরেকবার প্রমাণ করেছে। আর স্বাগতিক হিসেবে যে তারা আরও ভয়ংকর হবে, সেটা অনুমেয় ছিল।

তাদের স্পিন আক্রমণ নিয়ে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে প্রতি রাতেই বোধহয় পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে। এদিন যেমন মূল স্পিনার কুলদীপের সঙ্গে ঝলক দেখান জাদেজা। তার তিন উইকেটই অস্ট্রেলিয়াকে অনেকটা পেছনে ফেলে দেয়। 

তাছাড়া বিশ্বকাপে অজিদের বিপক্ষে ভারতীয় বোলারদের তিন উইকেট নেয়ার কীর্তিও বেশি নেই। এর আগে ১৯৮৭ সালে মনিন্দর সিং তিন উইকেট শিকার করেছিলেন।

এমন প্রাপ্তিতে খুবই খুশি জাদেজা, ‘আমি চেন্নাইয়ের হয়ে এখানটায় খেলেছি, যে কারণে এই কন্ডিশন সম্পর্কে আমার ধারণাটা দারুণ। উইকেট দেখার পরই আমি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি, তখন মনে হয়েছে, দু-তিনটি উইকেট তো শিকার করাই যায়! শেষ পর্যন্ত তিন উইকেট পেলাম, তাতে আমি আনন্দিত।

আসলে লাইন ঠিক রেখে বোলিংটা করে যাই, যেখানে বাড়তি টার্নও পেয়ে যাই। তবে এখানে ডেলিভারির চরিত্র নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কোন বল টার্ন করবে আর কোনটা সোজা আঘাত হানবে, বলা মুশকিল। তবে চেন্নাইয়ের পরিবেশটাও আমাদের জন্য ইতিবাচক ছিল। গ্যালারি ভরা সমর্থকরা সমর্থন জুগিয়ে গেছেন।’

ভারত এবার স্পিন জাল বিছিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলতে চায়। সেজন্য কেবল অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ নয় সামনের প্রতিটা ম্যাচেই স্পিন আক্রমণে ভিন্নতা এমনকি চমক আনতে পারে। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে স্পিনের কোচিং প্যানেলও সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন এশিয়ার বাহিরের দেশগুলোকে কীভাবে এই জালে ফেলা যায়। সেদিক থেকে অন্তত বড় প্রতিপক্ষদের বাধাটা উতরানো যাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!