বাংলাদেশ যখন হারের দ্বারপ্রান্তে তখন স্টেডিয়াম ছেড়েছেন পাপন। ভারতের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে স্টেডিয়াম ছেড়ে বের হয়ে যেতে দেখা যায় তাকে। তিনি যখন স্টেডিয়াম ছাড়েন, তখন ২৩০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় একশো ছোঁয়ার আগেই ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
মাহমুদউল্লাহ, শেখ মেহেদি হাসানের জুটিতে ২৮তম ওভারে একশ পূর্ণ করেছিল বাংলাদেশ। ২৮ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১০২ রান। এরই মধ্যে ভুল করেন বসেন মেহেদি হাসান। অহেতুক রান নিতে গিয়ে রান আউটের শিকার হয়েছেন তিনি।
কলিন আকারম্যানের বল তার প্যাড ছুঁয়ে গড়াতে গড়াতে যায় শর্ট থার্ড ম্যানের দিকে। দ্রুত রানের জন্য ছোটেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু দৌড় শুরু করতে কিছুটা সময় নেন মেহেদি। তাতেই ঘটে বিপদ। বাস ডে লেডের সরাসরি থ্রো ভেঙে দেয় নন স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্প। বিদায় ঘণ্টা বাজে ৩৮ বলে ১৭ রান করা মেহেদির।
.png)
তার বিদায়ে ভাঙল ৩৮ রানের সপ্তম উইকেট জুটি। ২০ রানে খেলতে থাকা মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান তাসকিন আহমেদ।
৩১ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১১১ রান। ১৯ ওভারে প্রয়োজন আরও ১১৯ রান। এর আগে ডাচ দেয়া ২৩০ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস উদ্বোধন করেন তানজিদ হাসান তামিম ও লিটন দাস। বাংলাদেশিে এই দুই ব্যাটার দেখে-শুনে খেলতে থাকেন। দুই জনে দলীয় চার ওভার পর্যন্ত দারুণ খেলতে থাকেন। দলীয় ৪.২ ওভারে ভুল করেন বসেন লিটন। আরিয়ান দত্তের বলে স্কট এডওয়ার্ডস হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন লিটন। সময় তিনি দুই অংকের সংখ্যায় পার করতে পারেননি। এ সময় তিনি করেন ১২ বলে ৩ রান।
লিটন আউট হওয়ার পরের ওভারে আউট হয়েছেন তামিম। দলীয় ৫.২ ওভারে লোগান ফন বিকের বলে স্কট এডওয়ার্ডস হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন তামিম। এ সময় তিনি করেন ১৬ বলে ১৫ রান। এরপর মাঠে নামেন নাজমুল হোসেন শান্তও পিচে বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। তিনিও ১৮ বলে ৯ রান করেন। শান্ত আউট হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আউট হয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও। তিনি ৫ রানে বিদায় নেন।
শনিবার (২৮ অক্টোবর) কলকাতায় টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২২৯ রান সংগ্রহ করে নেদারল্যান্ডস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান এসেছে এডওয়ার্ডসের ব্যাট থেকে। বাংলাদেশের হয়ে ২ টি করে উইকেট শিকার করেছেন মুস্তাফিজ, শরিফুল ও তাসকিন।
নতুন বলে দুর্দান্ত শুরু করে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে এসেই উইকেটের দেখা পান তাসকিন। এই ডানহাতি পেসারের লেগ স্টাম্পের ওপরে করা ফুল লেংথের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে মিড অফে সহজ ক্যাচ দেন বিক্রমজিত সিং। সাকিবের হাতে ধরা পড়ার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩ রান।
পরের ওভারে আরেক ওপেনারকে ফিরিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বের হয়ে যাওয়া বলে খোঁচা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন ম্যাক্সও'ডাউড। প্রথম স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন তানজিদ তামিম। দ্রুত দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।
দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল নেদারল্যান্ডস। তবে ৪১ রান করে ওয়েসলি বারোসি ফেরায় ভাঙে ৫৯ রানের জুটি। মুস্তাফিজকে উড়িয়ে মারতি গিয়ে টপ এডজে বল সোজা ওপরে উঠে যায়, সহজ ক্যাচ নেন সাকিব।
উইকেটে এসে বেশ সতর্ক ছিলেন কলিন অ্যাকারম্যান। বাড়তি কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি। তবে সাকিবকে সুইপ করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন তিনি। শর্ট-ফাইনলেগে মুস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৫ রান।
৬৩ রানে টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে হারিয়ে ধুঁকছিল ডাচরা। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন এডওয়ার্ডস। তাকে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন বাস ডি লিডি। তবে উইকেটে থিতু হয়ে ফিরেছেন লিডি। তাসকিনের ব্যক অব লেন্থের বল কাট করতে গিয়ে উইকেট পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৭ রান।
টপ অর্ডার ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে শুরু থেকেই সাবলীল ছিলেন স্কট এডওয়ার্ডস। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেছেন। তবে ৪৫তম ওভারে রানের গতি বাড়াতে গিয়ে আউট হয়েছেন। মুস্তাফিজের বলে মিরাজের হাতে ধরা পড়ার আগে ৬৮ রান করেছেন তিনি। শেষদিকে লগান ফন বেকের ১৬ বলে ২৩ রানের ইনিংসে ভর করে ২২৯ রানের পুঁজি পায় ডাচরা।
বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন মোস্তাফিজ, শরিফুল ও তাসকিন।