আইপিএল নিলামের পর লাইমলাইটে এসেছে ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলা। তিনি ২১ বছর বয়সি ক্রিকেটার রবিন মিনজ। আদিবাসী পরিবার থেকে উঠে আসা রবিন মিনজ এবার নিলামে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায় দল পেয়েছেন গুজরাট টাইটান্সে। প্রথম আদিবাসী ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। গত সাতবছর ধরে রবিনের ঠিকানা রাঁচি। গুমলা থেকে রাঁচি হয়ে গুজরাট টাইটান্সের এই যাত্রা সহজ ছিল না তার কাছে।
ঝাড়খণ্ডের ক্রিকেট থেকে এবার নিলামে দুই ক্রিকেটার নজর কেড়েছেন। এদের মধ্যে একজন কুমার কুশাগ্রা আর অপরজন রবিন মিনজ। কুমার কুশাগ্রা গিয়েছেন দিল্লিতে আর রবিন গুজরাটে। এই দু’জনই উইকেটকিপার ব্যাটার। আর দু’জনের মধ্যেই মহেন্দ্র সিং ধোনির ছায়া দেখতে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। রবিন মিনজকে ঝাড়খণ্ড ক্রিকেটে বাঁ হাতি কায়রন পোলার্ড বলা হয়।
.png)
রবিনের বাবা ফ্রান্সিস জেভিয়ার জানান, মিনজ ছয়-সাত বছর বয়স থেকে ক্রিকেট খেলে। রবিনের বাবা ফ্রান্সিস একজন সাবেক সেনাকর্মকতা। বর্তমানে রাঁচির বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দরে একজন গার্ডের চাকরি করছেন। তার সংসার চলে কোনওরকমে।
ঘরে নেই একটাও টিভি। তবে মাঠে ক্রিকেট খেলা দেখে ও বাবার থেকে রবিনের ক্রিকেটার হওয়ার পথে যাত্রা। তবে প্রতিটা পদক্ষেপে বাধা ছিল অর্থ। রবিনের দাদা প্রকাশ মিনজ জানান, শৈশব থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল। কাঠের উনুনে তাঁদের রান্না হত। রান্নার পর উনুনে নেভানো কাঠ দিয়ে রবিন ব্যাট তৈরি করত ও সেটা নিয়ে গ্রামে ক্রিকেট খেলতে যেত।
ছেলের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা দেখে রবিনের বাবা ফ্রান্সিস জেভিয়ার মিনজ তাকে একটি কাঠের ব্যাট উপহার দেন। পরে তিনি তাকে রাঁচিতে নিয়ে যান, যেখানে তিনি ক্রিকেট কোচিং নেন। ক্লাস টেন পাশ করার পর রবিন পুরো সময়টা ক্রিকেটে দেওয়া শুরু করেন। চলতি বছরের শুরুতে অর্থাৎ জুলাই মাসে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ইউকে সফরের জন্য তাকে দলে নিয়েছিল। এবারের নিলামে তাকে নিতে মুম্বাই ঝাঁপিয়েছিল কিন্তু গুজরাট তাকে নিয়ে নেয়। কেএস ভরতের জায়গায় তাকে দলে নিল গুজরাট। দ্বিতীয় উইকেট কিপার হিসেবে তিনি এবার সুযোগ পেতে পারেন। কেএস ভরত দ্বিতীয় উইকেট কিপার হিসেবে খেললেও তিনি বড় শট খেলতে পারতেন না। সেটা এবার রবিন মিনজকে দিয়ে পূর্ণ হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।