রেকর্ড ভাঙা গড়াই যেন মেসির খেলা। তিনি খেলতে নামবেন আর রেকর্ড গড়বেন না, এটাই যেন অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একনজরে দেখে নেয়া যাক বিদায়ী বছরে কোন ১২টি রেকর্ড গড়েছেন ক্ষুদে জাদুকর।
প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে টপকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি দিন খেলার রেকর্ড গড়েছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে ম্যারাডোনা খেলেছেন ৬ হাজার ৩৫৭ দিন। ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে মেসি খেলেছেন ৬ হাজার ৪২৭ দিন। মেসি এখনো খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই এ রেকর্ড যে আরো সমৃদ্ধ হবে তা বলাই যায়।
.png)
গত বছরের অক্টোবরে পেরুর বিপক্ষে জোড়া গোল করেন মেসি। এর মাধ্যমে বন্ধু লুইস সুয়ারেজকে (২৯ গোল) টপকে লাতিন আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক হয়েছেন তিনি। বর্তমানে লাতিন আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তার মোট গোল ৩১টি।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এখন মেসির দখলে। তিনি আলবিসেলেস্তেদের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৮০টি ম্যাচ খেলেছেন।
আর্জেন্টিনার হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোল সংখ্যাও মেসির। তার বর্তমান গোল সংখ্যা ১০৬টি।
বিদায়ী বছরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়িয়ে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক হয়েছেন মেসি। বার্সেলোনা ও পিএসজির জার্সিতে মেসি করেছেন ৭০২ গোল। যেখানে পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদো ৭০১ গোল করেছেন।
কাতারে ২০২২ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল জিতে অমর হয়ে গেছেন এলএমটেন। আবার সেই দেশের ক্লাবের হয়েই ২০২২-২৩ মৌসুমে লিগ ওয়ানের শিরোপা জিতেছেন তিনি। ফুটবল ক্যারিয়ারে এমন রেকর্ডের মালিক একমাত্র মেসিই। যা আর কারো নেই।
বিদায়ী বছরে অন্যরকম এক সেঞ্চুরি করেছেন মেসি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে গোল করে ১০০টি ভিন্ন ক্লাবের বিপক্ষে গোলের রেকর্ড গড়েন ক্ষুদে জাদুকর। যা সবচেয়ে বেশি ক্লাবের বিপক্ষে গোল করার রেকর্ড।
বর্তমানে মেসির বয়স ৩৬। অথচ এখনো ২০ বছর বয়সী তরুণের মতো খেলে যাচ্ছেন তিনি। মায়ামির হয়ে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচে নিজের রেকর্ড পুনরায় ভেঙেছেন লিও। এই ম্যাচে গোলপোস্টের ৩২ মিটার দূর থেকে শট নিয়ে গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর আগে তার রেকর্ড ছিল ৩০ মিটারের।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটিতে গিয়েই চমক দিয়েছেন মেসি। দলটিকে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিরোপা পাইয়ে দিয়েছেন। আর সেটাও মাত্র ২৯ দিনের ব্যবধানে। এতো কম সময়ে কোনো ক্লাবের হয়ে শিরোপা জেতেনি আর কেউ। বার্সেলোনায় শিরোপা জয়ের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৬৭০ দিন, পিএসজিতে ৩৩৬ দিন।
মায়ামির জার্সিতে শিরোপা জিতে অনন্য উচ্চতায় গেছেন এলএমটেন। এটি ছিল আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির ক্যারিয়ারে ৪৪তম ট্রফি। যা একটি বিশ্বরেকর্ড। শিরোপা জয়ের পথে এ ফুটবলার ছাড়িয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা দানি আলভেজের ৪৩ ট্রফি জয়ের রেকর্ডকে।
নিজের আরেকটি রেকর্ডকে বড় করেছেন মেসি। যেকোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে এখন ৩৭ গোল তার, খেলেছেন ৫০ ম্যাচ।
গত বছর ক্যারিয়ারের অষ্টম ব্যালন ডি'অর জিতেছেন মেসি। ফুটবলের অন্যতম সেরা এই পুরস্কার তার চেয়ে বেশি জেতেননি কেউ। এই পুরস্কারে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পুরস্কার ৫টি।