অসাধারণ সৌন্দর্যের সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রস্তুত বিপিএল উন্মাদনার জন্য। আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ সিলেটে শুরু হবে বিপিএলের দ্বিতীয় পর্ব। যা চলবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
সিলেট পর্বের খেলাকে সামনে রেখে বুধবার থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ভিন্নরকম উন্মাদনা বিরাজ করছে। তবে অন্যবারের মতো এবারের বিপিএলে সিলেট পর্বে তেমন কোনো প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়নি। রয়েছে টিকিট নিয়েও নানা অভিযোগ। তবে সবকিছু ছাপিয়ে চলমান আসরে সিলেট স্টাইকার্স ভালো কিছু করবে বলে আশা করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
.png)
এবারের আসরে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ খেলেছে সিলেট স্ট্রাইকার্স। তবে দুটি ম্যাচেই হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল। ঢাকা পর্বে খেই হারালেও নিজেদের মাঠে অবশ্য ভালো কিছু করার প্রত্যাশা নিয়ে দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনেই মাঠে নামবে সিলেট। সেইসঙ্গে পয়েন্ট টেবিলের তলানি থেকে নিজেদের নাম ঘুচিয়ে আনতে চায় স্বাগতিকরা।
চায়ের দেশে বিপিএলের দ্বিতীয় পর্বকে ঘিরে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সিলেট নগরীর রিকাবিবাজারস্থ জেলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। এদিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে টিকিট বিক্রির বুথগুলোর সামনে ভিড় জমান ২৬ জানুয়ারির ম্যাচের টিকিট কিনতে আসা দর্শকরা। টিকিট বিক্রি শুরুর আধাঘণ্টার মধ্যে ২০০ টাকা দামের টিকিট শেষ হয়ে যায়। টিকেট পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অনেকেই। আবার কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে আক্ষেপও করেছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
সিলেট নগরের শাহী ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা আবুল ফজল বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে আমরা লাইনে দাঁড়িয়েছি কিন্তু টিকিট পাইনি।’
এদিকে সিলেট পর্বকে কেন্দ্র করে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে উত্তেজনা থাকলেও সিলেটে বিপিএলকে কেন্দ্র করে তেমন কোনো প্রচারণা নেই। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এলাকায় কিছু বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। এছাড়া শহরের আর কোনো স্থানে বিপিএল নিয়ে কোনো প্রচার লক্ষ্য করা যায়নি। সেইসঙ্গে সিলেটে আরো খেলা বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা।
সিলেট নগরের মদিনা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা শাকিলা ববি বলেন, ‘সিলেটে খেলা আরো বাড়ানোর দরকার। কারণ সিলেটের মানুষজন ক্রিকেট পাগল। এখানে বিপিএল হয়েছে আর দর্শক হয়নি এমন নজির খুবই কম। বিপিএলের খেলা বৃদ্ধির পাশাপাশি সিলেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচও বাড়ানো দরকার।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘এবার কিন্তু বিপিএলে আমাদের দিন এবং ম্যাচের সংখ্যা বেশি। আমি মনে করি অন্যবার দর্শকদের যে হতাশা থাকত এবার এই জায়গায় বিসিবি অনেক সদয়। আমরা বিসিবির গভর্নিং বডির কাছে বারবার বলেছি; সেই হিসেবে তারা এবার সিলেটে খেলার সংখ্যা বাড়িয়েছে।’
বিসিবির এই পরিচালক আরো বলেন, আমরা সবসময়ই দেখি সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দর্শকের কোনো অভাব হয় না। এবার টুর্নামেন্টের মূল প্রাণ দর্শকরা মাঠে আসবেন। তারা খেলা উপভোগ করবেন। টিকিট নিয়ে যে হাহাকার, এই যে ম্যাচের সংখ্যা বাড়লো এই চাহিদা পূরণ হবে। মাঠ এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক সম্পূর্ণরুপে প্রস্তত। আমাদের সব প্রস্তুতিই এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।