বিগত ২ সপ্তাহ ধরে মানুষে মুখরিত প্যারিসে এখন বিষাদের সুর। হৈ-হুল্লোড়ের পরিবর্তে এখন সেখানে বিরাজ করছে নিরবতা। অলিম্পিক সমাপনী অনুষ্ঠানের ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই পুরোনো রূপে ফিরতে শুরু করেছে ভালোবাসার নগরী।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি কমতে শুরু করেছে। স্বাভাবিক হচ্ছে যান আর জনচলাচল। খুলে ফেলা হচ্ছে রাজধানীর অস্থায়ী ভেন্যু ও বিভিন্ন স্থাপনা। আর বিগেষ্ট শো অন আর্থের প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সের অর্থনীতিতে।
.png)
ব্যাংক অব ফ্রান্সের প্রত্যাশা, বছরের তৃতীয় কোয়ার্টারে দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ বাড়তে পারে অর্থনীতির পরিধি। ইতিবাচক ছোঁয়া লেগেছে পর্যটন খাতেও। শুধু প্যারিসের জাদুঘর ও রেস্টুরেন্টগুলোতে বেড়েছে ২৫ শতাংশ দর্শনার্থী ও ভোজন রসিক।
পর্যটকের ঢেউ লেগেছিলো সেইলিং ও ফুটবলের ভেন্যু মার্শেই আর বাস্কেটবল ও হ্যান্ডবলের ভেন্যু লিঁলেতেও। শুধু গেমসের প্রথম সপ্তাহেই ঐ দুই শহরে বিক্রি হয়েছে প্রায় দেড় মিলিয়ন টিকিট।
আসর চলাকালে গেলো বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে পর্যটকের সংখ্যা। ফুটবল হয়েছে আরেক শহর নিসেও। সার্ফিংয়ের জন্য তাহিতি ও সেইন্ট এতিয়েনে ছিলে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।
রাজনৈতিক সঙ্কট পাশে রেখে অসংখ্য প্রতিকূলতা জয় করে সফল অলিম্পিক আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, বছরের পর বছর অনেকেই বলে এসেছে এটা সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, বছর, মাস, সপ্তাহ এমনকি প্রতিদিনই অনেকেই বলেছে এটা বাস্তবসম্মত নয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা পাগলামি, নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব নয়, শেন নদীতে সাঁতার কাটা সম্ভব নয়, ফ্রান্স শীর্ষ পাঁচে থাকতে পারবে না। আপনারা যা সম্ভব করেছেন, তা বিশ্বের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ বলেছে অসম্ভব। তাই ধন্যবাদ আপনাদের। কারণ আপনারা তা করে দেখিয়েছেন। অভিনন্দন।
ধুম পড়েছিল প্যারিস অলিম্পিকের মাস্কট বিক্রিতেও। গেমস চলাকালে তিন লাখের বেশি মাস্কট বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। এদিকে অলিম্পিক শেষে এ মাসে আবারও ক্রীড়াযজ্ঞে মাতবে প্যারিস। ২৮ অক্টোবর শুরু হবে প্যারালিম্পিক। এবার নজর সেদিকেই।