সহ-সভাপতির পদে শূন্যতা থাকায় সভাপতির অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নেয়ারও কেউ নেই। এ অবস্থায় দাবি উঠেছে বিসিবির পুনর্গঠনের। পাপনের অবর্তমানে বিসিবি পরিচালনায় সরকারি হস্তক্ষেপ নিষেধাজ্ঞায় ফেলতে পারে দেশের ক্রিকেটকে। তবে নিয়মের ভেতরে থেকেও সংস্কার সম্ভব।
বোর্ডে যেসব পরিচালক রয়েছেন তারা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন। কাজ চালিয়ে যাওয়া কিংবা পদত্যাগ, যে নির্দেশনাই আসুক তা মেনে নিতে সবাই প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন বোর্ড পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু।
.png)
সম্প্রতি বিসিবির সাত পরিচালক সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যারা সেদিন গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু।
আম্পায়ার্স কমিটির দায়িত্বে থাকা এই পরিচালক জানান, ভবিষ্যতে বোর্ড কীভাবে চলবে সেই নির্দেশনা পাওয়ার অপেক্ষায় সবাই রয়েছেন। তবে বোর্ড পুনর্গঠনের পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টরা নিয়মের ভেতর থেকেই করতে চাইছেন। সরকারের নির্দেশনা এলে পদত্যাগ করতে সবাই প্রস্তুত আছেন বলে মন্তব্য করেন।
বেসরকারি এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিঠু বলেন, ‘উনারা (সরকার) যদি চায় যে এই বোর্ড নিয়ে কাজ করবেন তাহলে ভালো। আর যদি উনারা আমাদের পদত্যাগ করতে বলেন, আমরা সব পরিচালকরা প্রস্তুত আছি। এখন বিসিবির গঠনতন্ত্র আর আইসিসির নিয়ম মেনে আমাদের ক্রীড়া উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেবেন।’
আগামী অক্টোবরে টি-২০ নারী বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টিও ভাবছে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা। তবে নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্বকাপের আয়োজন করতে জাতিসংঘের মাধ্যমে শেষ চেষ্টা করছে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব জয় শাহ জানিয়েছেন, আইসিসি এরইমাঝে বিশ্বকাপের আয়োজনের জন্য ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। অবশ্য সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে বিসিসিআই। জয় শাহ’র বক্তব্য, অক্টোবরে নারী টি-২০ বিশ্বকাপ আয়োজনে রাজি নন তিনি।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ কয়েকদিন আগে বলেছিলেন, ‘কিছু দেশের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই আমরা জাতিসংঘের সঙ্গে কথা বলবো। নিরাপত্তা ও অবকাঠামো সংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়েছে এবং আমরা এ বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূসের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা) সঙ্গে কথা বলবো। তিনি একজন ক্রীড়াপ্রেমী। আশা করি তিনি বিষয়টির সমাধান করতে পারবেন।’
আসিফ মাহমুদের সেই কথার সঙ্গে সুর মেলালেন ইফতেখার রহমান মিঠু। বহির্বিশ্বে প্রধান উপদেষ্টার ভাবমূর্তি কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করা সম্ভব বলেই তিনি মত দেন।
‘উনার মতো ভাবমূর্তি শুধু বাংলাদেশের নয়, বহির্বিশ্বেই কম। উনি যদি কাউকে বলেন, আমার মনে হয় না কোনো সমস্যা হবে। অবশ্যই উনি আমাদের জন্য, দেশের জন্য সহায়ক হবেন।’
দেশের পুরুষ, নারী, এ দল, এইচপি ও অনূর্ধ্ব-১৯ এসব দলের কার্যক্রম পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলবে। তবে বিসিবির নিজস্ব কাজগুলোতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে বড় ঝুঁকিতে পড়েছে বিপিএলের আগামী আসর। বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সবাই পর্দার আড়ালে। সেই সঙ্গে সাত ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দল পরিচালনা করতে পারবে কয়টি প্রতিষ্ঠান, সেটি নিয়েও রয়েছে বড় শঙ্কা।
এ প্রসঙ্গে ইফতেখার রহমান মিঠুর ভাষ্য, অবশ্যই চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। আমরা ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে ফাংশন করবো, এই দিক-নির্দেশনা পেলেই যেসব কাজ পিছিয়ে পড়েছে, কোনটা বাতিল করতে হবে কোনটা করবো এসব সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারবো।