বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘মনে করি না বাংলাদেশ জিতবে, সিরিজ জিতবে ভারত। তবে ভারত অবশ্যই বাংলাদেশ থেকে ভালো ও কঠিন লড়াই আশা করবে। কারণ, তারা পাকিস্তানে গিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসছে।’
সাদা পোশাকের ক্রিকেটে টিম ইন্ডিয়ার সঙ্গে পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছে না। দলটির বিপক্ষে ১৩টি টেস্ট ম্যাচ খেললেও এখনো জয় নেই। তবে পাকিস্তান সফরের আগেও দলটির বিপক্ষে ১৩ টেস্টে টাইগারদের জয় জয় ছিল না। সেই ইতিহাস পাল্টানোর অনুপ্রেরণা শান্তরা ভারত সফরেও নিয়ে যেতে পারলে জমজমাট সিরিজের আশা করাই যায়।
.png)
অতিথি দলের প্রশংসা করতে মোটেও কার্পণ্য করেননি প্রিন্স অব কলকাতা। তবে বাস্তবতা কেমন সেটিও স্পষ্টভাবেই জানালেন। তার ভাষ্য, ‘পাকিস্তানে গিয়ে তাদের হারানো কখনো সহজ নয়, সুতরাং অভিনন্দন বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। তবে ভারতে ভারত খুবই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। ঘরে হোক বা বাইরে, ভারতের ব্যাটিং বিভাগ খুবই চমৎকার ও শক্তিশালী।’
চেন্নাইতে ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। যেখানকার উইকেট প্রথাগতভাবে স্পিন সহায়ক। এ বিষয়ে সৌরভের মন্তব্য, ‘চেন্নাইয়ে স্পিনাররা সুবিধা পাবে। ঐখানে বাউন্স বেশি। রবীচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যটেল ও কুলদীপ যাদব এখন বিশ্বের সেরা চার স্পিনার। তাই ওদের বিপক্ষে খেলা সহজ হবে না। ভারতের মাটিতে তারাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।’
পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের পেসাররা দাপট দেখালেও স্পিনাররা দলের প্রয়োজনে রেখেছিলেন ভূমিকা। সিরিজসেরা মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতে ছিলেন উজ্জ্বল। প্রথম টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিবের স্পিন রাখে বড় ভূমিকা। তাদের সঙ্গে স্কোয়াডে থাকলেও খেলার সুযোগ না পাওয়া তাইজুল ইসলাম ভারত সফরে হয়ে উঠতে পারেন ট্র্যাম্প কার্ড। চেন্নাইয়ের উইকেটে সফরকারীদের স্পিনাররা সেরাটা দিতে পারলে একপেশে লড়াই হয়তো দর্শকরা দেখবেন না।
এদিকে, পাকিস্তানের ক্রিকেটের পড়তি অবস্থা নিয়েও নিজের প্রতিক্রিয়া জানান সৌরভ গাঙ্গুলি। দলটির ধারাবাহিক ব্যর্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি দেশটিতে প্রতিভার অভাব দেখতে পাচ্ছি। পাকিস্তানকে নিয়ে যখনই ভাবি, আমাদের মনে আসে মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম, ওয়াকার, সাঈদ আনোয়ার, মোহাম্মদ ইউসুফ ও ইউনিস খানের কথা। আমাদের কাছে পাকিস্তান দলের স্মৃতি এটাই।কিন্তু তারা তো আর এখন জেতাতে পারবে না।’
‘প্রতিটি প্রজন্মে ভালো ক্রিকেটার প্রয়োজন। কিন্তু ভারতের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-২০ বিশ্বকাপ এবং তারপর বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের যে খেলা দেখলাম, সেটা থেকেই প্রমাণিত পাকিস্তানের ক্রিকেটার উঠে আসছে না। তাদের এই দিকে নজর দেওয়া উচিৎ। পাকিস্তানের খেলার জগতের মানুষদের এ অবস্থার দিকে নজর দিতে হবে। আমি এটা অসম্মান করে বলছি না। অতীতে পাকিস্তান দলে অনেক গ্রেট ক্রিকেটার ছিল, এই দলে আমি সেটা দেখি না।’