সেই থেকে পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে অলআউট হওয়া পর্যন্ত একের পর এক বাজে শটে উইকেট বিসর্জন দিয়ে এসেছেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা। যার প্রেক্ষিতে আড়াই দিনের টেস্টেও লজ্জার ষোলকলা পূরণ করে হেরেছে টাইগাররা।
কানপুর টেস্টের প্রায় আড়াই দিন বৃষ্টির কারণে খেলা হয়নি। তৃতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৪৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল মাত্র ৯৫ রান। যা ৩ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
.png)
অথচ ড্র'কেই এই টেস্টের পরিণতি মনে করা হচ্ছিল। তবে গতকাল বাংলাদেশকে ২৩৩ রানে অলআউট করে ভারত ব্যাট করতে নেমে টি-২০র মতো করে খেলে মাত্র ৩৪.৪ ওভারে ৯ উইকেটে ২৮৫ রান তোলে।
ম্যাচে রোমাঞ্চের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল তখনই। কিন্তু পঞ্চম দিনে ম্যাচটা বাংলাদেশ ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে নিজেদের বাজে অভ্যাসের জন্যই। এই টেস্টে ধারাভাষ্যকার হিসেবে থাকা তামিম ইকবাল মনে করেন, মুমিনুল-শান্তরা আউট হয়েছেন ‘স্ট্রেঞ্জ’ শট খেলে।
পঞ্চম দিনে প্রথমে বিদায় নেন মুমিনুল হক। সকালে নেমে প্রথম বলেই সুইপ শট খেলেছিলেন তিনি। পরের বলেও। এরপর যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, সুইপ শটই খেলে গেছেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই শটেই লেগ স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন।
মুমিনুলের চেয়েও বেশি বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন অধিনায়ক শান্ত। সাদমানের সঙ্গে তার জুটিতে ভালোই লড়ছিল টাইগাররা। কিন্তু তিনি জীবন দিয়েছেন রিভার্স সুইপে। জাদেজার লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে যান তিনি। কিন্তু ব্যাটে নাগাল পাননি।
অর্ধশতক পূর্ণ করেই সাদমান গালিতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। লিটন ধরা পড়েন কিপারের হাতে। আর সাকিব ঠেকাতে গিয়ে জাদেজাকে ফিরতি ক্যাচ দেন। এতসব কাণ্ড হয়েছে অল্প কয়েক ওভারের মধ্যেই। রানের হিসেবে ৩ রান যোগ করতে এই চার ব্যাটার ফিরে গেছেন।
সাকিবের আউটের সময় ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন রবি শাস্ত্রী। এই ভারতীয় ধারাভাষ্যকার প্রশ্ন তুলেছিলেন টাইগারদের আউট হওয়ার ধরন নিয়ে।
শান্তর আউট নিয়ে তামিমকে প্রশ্ন করলে তামিম বলেন, ‘স্ট্রেঞ্জ শট খেলে আউট হয়েছে, ভালো একটা জুটি হতে চলেছিল। এই সময়ে এই সব শটের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে তুমি ভালো সুইপ খেল কি না, ভালো রিভার্স সুইপ খেল কি না। এরপরও এমন সময়ে এই ধরনের শট নিশ্চয়ই তুমি খেলবে না। আর এক ম্যাচে সব ধরনের শটই বা কেন খেলতে হবে!’