সৈকতের এক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা এখনো হয়নি শেষ। যশস্বী জয়সওয়ালকে তার আউট দেওয়া নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত ক্রিকেট বিশ্ব। রিকি পন্টিং, রবি শাস্ত্রী, সাইমন টফেল সৈকতের পক্ষ নিয়েছেন। তবে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার ও বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা সরাসরি বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন।
বিতর্কের মাঝেই স্নিকো পদ্ধতির আবিষ্কারক সংস্থা বিবিজি স্পোর্টসের বক্তব্য এসেছে। প্রযুক্তিটির প্রতিষ্ঠাতা ওয়ারেন ব্রেনান কোড স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপকালে জয়সওয়ালের আউট নিয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
.png)
বিবিজি স্পোর্টসের প্রযুক্তি প্রধানের দায়িত্বে থাকা ওয়ারেন ব্রেনান বলেন, ‘স্নিকো হালকা স্পর্শ বা আলতো আঘাতের বিষয়টি সব সময় ধরতে পারে না। এই শটটাও তেমনই একটা শট, যেটায় কোনো শব্দ হয়নি। স্নিকোও তাই কোনো শব্দ (তরঙ্গ চিহ্ন) দেখায়নি। আমি অডিও পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও বলেছেন, কোনো শব্দ হয়নি। সম্ভবত হট স্পটই এ ক্ষেত্রে সমাধান দিতে পারতো।’
চলতি বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে ব্যবহৃত হচ্ছে না হট স্পট প্রযুক্তি। অস্ট্রেলিয়া ২০১৩ সালে অ্যাশেজে এটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সব সিরিজে ব্যবহার করে না। হট স্পট ও স্নিকো প্রযুক্তির উদ্ভাবক বিবিজি স্পোর্টস।
এর আগেও বিভিন্ন সময় স্নিকো নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। কখনো বল না লাগলেও স্নিকোতে আওয়াজ ধরা পড়েছে, আবার কখনও ব্যাটে বল লাগলেও তা ধরা পড়েনি। এই প্রযুক্তি কতটা সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
তবে জয়সওয়ালের ক্ষেত্রে আরেকটি যুক্তি প্রযোজ্য। স্নিকোর মাইক থাকে স্টাম্পের পিছনে মাটির নিচে। উইকেটের উচ্চতায় বল থাকলে সেই আওয়াজ যতটা সহজে ধরা পড়ে, সেটা বেশি উচ্চতা থাকলে সম্ভব নয়।
জয়সওয়ালের উচ্চতা ৬ ফুট। বল তার মাথার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। অর্থাৎ স্টাম্প মাইক ছিল অন্তত ৬ ফুট নিচে ছিল। সেই কারণে গ্লাভসের মতো নরম জিনিসে বলের স্পর্শ ধরা নাও পড়তে পারে স্নিকোতে। তাই তৃতীয় আম্পায়ার তাঁর পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে তাই অনেকেই সাহসী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।