ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

[ খেলা ]
জন্মদিনে ম্যারাডোনাকে স্মরণ

শতাব্দীর সেরা গোল ‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে: যা স্মরণীয়

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:২৫, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শতাব্দীর সেরা গোল ‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে: যা স্মরণীয়
দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা ।। ছবি: সংগৃহীত

মাঠে ফুটবল নিয়ে কিছু মুহূর্ত থাকে, যা সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না। বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নতুন করে আলোচনায় আসে। দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার নাম উঠলে এমন দুটি মুহূর্তের কথা সবার আগে মনে পড়ে। একটি বিতর্কিত, অন্যটি অবিশ্বাস্য শৈল্পিক সৌন্দর্যে ভরপুর।

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে করা সেই দুই গোলই ফুটবল ইতিহাসে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

৩০ অক্টোবর ছিল এই কিংবদন্তি আর্জেন্টাইন ফুটবলারের জন্মদিন। ১৯৬০ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসের কাছে জন্ম নেওয়া ম্যারাডোনা বেঁচে থাকলে আজ ৬৬ বছরে পা দিতেন। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর পৃথিবী ছেড়ে গেলেও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে তিনি আজও জীবন্ত। তার পায়ের জাদু, প্রতিপক্ষকে বোকা বানানোর অসাধারণ দক্ষতা আর মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তাকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে জায়গা দিয়েছে।

১৯৮৬ সালের ২২ জুন। মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ম্যাচটি শুধু ফুটবলের লড়াই ছিল না, ফকল্যান্ড যুদ্ধের ক্ষত তখনো দুই দেশের মানুষের মনে তাজা। সেই আবহে মাঠের লড়াই পেয়েছিল বাড়তি মাত্রা।

দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে বলের দখল নিতে লাফ দেন ম্যারাডোনা। তবে মাথার বদলে বাঁ হাত দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। গোলটি বৈধ মনে করে রেফারি আলি বিন নাসের সেটি অনুমোদন করেন। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করলেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি।

পরে এই গোলের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, বলটি তার মাথার সামান্য অংশ এবং ঈশ্বরের হাতের স্পর্শে জালে গিয়েছিল। সেখান থেকেই গোলটির নাম হয়ে যায় ‘হ্যান্ড অব গড’ বা ‘ঈশ্বরের হাত’।

প্রথম গোলের মাত্র চার মিনিট পর, ম্যাচের ৫৫ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যান ম্যারাডোনা। একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে তিনি ঢুকে পড়েন প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে। এরপর গোলরক্ষক শিলটনকেও পরাস্ত করে বল পাঠিয়ে দেন জালে।

প্রতিপক্ষের একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে প্রায় ৬০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে করা গোলটি পরে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ফিফার বর্ণনায়, এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের নিদর্শন।

দুটি গোল যেন ম্যারাডোনার দুই বিপরীত পরিচয়কে তুলে ধরে। প্রথমটি তাকে বিতর্কের কেন্দ্রে রেখেছে, দ্বিতীয়টি তাকে দিয়েছে ফুটবলীয় মহত্ত্বের অনন্য স্বীকৃতি।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি আর্জেন্টিনা জেতে ২-১ গোলে। ইংল্যান্ডের হয়ে গ্যারি লিনেকার একটি গোল করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। সেদিনের ম্যাচে ম্যারাডোনার অবদান কেবল গোলসংখ্যায় সীমাবদ্ধ ছিল না; পুরো খেলায় তার প্রভাব ছিল অসাধারণ।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপ্টার হিসাবে, ওই আসরে আর্জেন্টিনার করা ১৪টি গোলের ১০টিতেই সরাসরি অবদান ছিল ম্যারাডোনার, গোল করে কিংবা সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৫টি গোল করেন এবং ৫টি গোলে সহায়তা করেন। এক আসরে গোল ও গোলে সহায়তা, দুই ক্ষেত্রেই ৫ বা তার বেশি অবদান রাখা বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার অনন্য কীর্তি।

ম্যারাডোনার ফুটবলযাত্রা শুরু হয়েছিল আর্জেন্টিনার দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে। মাত্র ৮ বছর বয়সে তিনি আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের যুব দল লস সেবোলিতাসে যোগ দেন। সেখানেই তার অসাধারণ প্রতিভা সবার নজর কাড়ে।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় তার। এরপর বোকা জুনিয়র্স, বার্সেলোনা ও নাপোলির হয়ে খেলেছেন তিনি। বিশেষ করে নাপোলিতে তার সময়ে ক্লাবটির ইতিহাস বদলে যায়।

আর্জেন্টিনায় ফিরে বোকা জুনিয়র্সের হয়েও খেলেছেন তিনি। পরে ১৯৯৭ সালে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!