ঢাকা,  রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ কৃষি ও প্রকৃতি ]

প্রকৃতির মাইক্রোক্লাইমেট নিমগাছ

এস এম মুকুল
প্রকাশিত: ১২:০৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকৃতির মাইক্রোক্লাইমেট নিমগাছ
আপনার বাড়ির চারদিকে ঘুরিয়ে যদি নিম গাছ লাগাতে পারেন, তাহলে সেটা একটা সবুজ বেল্ট এর মতো কাজ করবে। যার কারনে আপনার বাসার ভেতরে একটা "মাইক্রোক্লাইমেট" তৈরি হবে। তাহলে হবে কী, আপনার বাড়ির তাপমাত্রা আশপাশের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি কমে যাবে।

নিমের কার্বন ডাই-অক্সাইড ফিক্সেশন করার ক্ষমতা অন্যান্য গাছের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি। এটি প্রতি সেকেন্ডে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ১৪ টি মাইক্রোমোল ( প্রতি বর্গ মিটার) ঠিক করতে পারে। নিম গাছের পত্র পৃষ্ট সর্বাধিক কার্বন ডাই-অক্সাইড ফিক্স করার জন্য একটি ভাল বিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং অন্যান্য দূষণ উপাদানগুলির বিরুদ্ধে একটি ঢাল প্রদান করে বিশেষ করে সালফার ডাই-অক্সাইড।

একটি পরিপূর্ণ নিম গাছ প্রায় ১০ টন এসির সমপরিমাণ ঠান্ডা রাখে তার চার পাশের বাতাসকে। গবেষণায় দেখা গেছে একটি নিম গাছের অর্থনৈতিক রিটার্ন বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ( ২৭ লক্ষ থেকে ৩৩ লক্ষ টাকা)।আপনি কি জানেন, একটি পূর্ণবয়স্ক নিমগাছ একসাথে ১০টি এসি চালানোর সমান কাজ করে। আর নিমগাছের ছায়াতলে তাপমাত্রা বাইরের পরিবেশের চেয়ে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম থাকতে পারে।

Advertisement
  • নিম গাছ আসলে একটি ব্লেসিং! এটি পরিবেশগতভাবে যেমন উপকারী , তেমনি এটি অনেক বেশি মাত্রার দূষণও সহ্য করতে পারে। নিম গাছের পাতা প্রচুর পরিমাণে সীসা শোষণ করে।

ধূলিকণা, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার অক্সাইড এবং নাইট্রোজেনের মতো দূষক শোষণ করার ক্ষমতাও নিম গাছের রয়েছে। পরিবেশ শীতল আর বিশুদ্ধ করতে নিমগাছের তুলনা হয় না আসলে!

নিম গাছ পরিবেশগত ভাবে খুবই উপকারী । এটি খুব বেশি মাত্রার দূষণ সহ্য করতে পারে এবং শুষ্ক মৌসুমে পাতা পড়ে গেলেও সেগুলোতে তাড়াতাড়ি নতুন পাতা চলে আসে । নিম গাছের পাতা তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণে সীসা শোষণ করে। ধূলিকণা, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার অক্সাইড এবং নাইট্রোজেনের মতো দূষক শোষণ করার ক্ষমতা নিম গাছের রয়েছে। 

১৯৯৬ সালে ভারতের ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট দ্বারা করা নতুন দিল্লির বিভিন্ন স্থানের একটি সমীক্ষা ইঙ্গিত দেয় যে  নিম গাছ শিল্প এলাকায় ও শহুরে দূষণ দূর করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রজাতিগুলির মধ্যে একটি এবং এটি পরিচিত হট স্পটগুলিতে সবুজ বেল্টের মত কাজ করে। 

উচ্চ বায়ু দূষণের জন্য ইতিহাস থেকে জানা যায় সম্রাট অশোক, খ্রিস্টের পূর্বে ৩য় শতাব্দীতে, নিমকে অন্যান্য বহুবর্ষজীবী, টেমারিন্ডাস ইন্ডিকা এবং মধুকা লাতিফোলিয়ার সাথে রাস্তার হাইওয়ে এবং রাস্তার ধারে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

একটা পূর্ণ বয়স্ক নিম গাছ ৮০টন এসির সম পরিমান বাতাস ঠান্ডা করতে পারে। তো আপনার বাড়ীর  চারদিকে ঘুরিয়ে যদি নিম গাছ লাগাতে পারেন তাহলে সেটা একটা সবুজ বেল্ট এর মতো কাজ করবে, যার কারনে আপনার বাসার ভেতরে একটা "মাইক্রোক্লাইমেট" তৈরি হবে। 

মাইক্রোক্লাইমেট কী? 

ধরুন আমাদের দেশের একটা ক্লাইমেট আছে, এখন সেটা গরম। তবে আপনি যদি চান এইখানেই আপনি কিছুটা যায়গা নিয়ে আলাদা এক রকম ক্লাইমেট তৈরি করতে পারবেন, আপনার ইচ্ছে অনুয়ায়ী।  

  • ধরুন আপনি চাইলেন একটা নির্দিষ্ট যায়গার তাপমাত্রা আশপাশের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি কম রাখবেন, সব সময়ে যেনো শীতল লাগে, সেটা সম্ভব, এবং সেটা মাইক্রোক্লাইমেট তৈরির মাধ্যমেই সম্ভব। মাইক্রোক্লাইমেট সৃষ্টির জন্যে অনেক গুলো বিষয় নজর রাখতে হয়, এই যেমন সুনির্দিষ্ট গাছ, জলাধার, সঠিক স্থানে স্পেস তৈরি ইত্যাদি। 

আপনার বাড়ির চারদিকে ঘুরিয়ে যদি নিম গাছ লাগাতে পারেন, তাহলে সেটা একটা সবুজ বেল্ট এর মতো কাজ করবে। যার কারনে আপনার বাসার ভেতরে একটা "মাইক্রোক্লাইমেট" তৈরি হবে। তাহলে হবে কী, আপনার বাড়ির তাপমাত্রা আশপাশের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি কমে যাবে।

বাড়ির আশেপাশে নিমগাছ লাগিয়ে মাইক্রোক্লাইমেট তৈরি করে প্রাকৃতিক এসির ফিল নেওয়ার সময় এখনই। বেশি বেশি নিমগাছ লাগিয়ে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য ইনভেস্ট করা হতে পারে সেরা একটা আইডিয়া!

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!