ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজনীতি ]

দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ জনের কী কী সম্পত্তি, দাম কত

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:৩৯, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ জনের কী কী সম্পত্তি, দাম কত
ছবি: এআই জেনারেটেড

গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। 

Advertisement

রায়ে পাঁচজনের সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। তারা হলেন—ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

তাদের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার আদেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুজন হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। মোট সাত আসামির মধ্যে বর্তমানে সবাই পলাতক।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর একই অপরাধে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। তাদেরও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।

ওবায়েদুল কাদেরের সম্পদ-সম্পত্তি
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী-৫ আসন থেকে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন। হলফনামায় ঘোষিত সম্পদের তথ্য অনুযায়ী, তার হাতে নগদ ৮০ হাজার টাকা; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা; সঞ্চয়পত্র প্রায় দেড় কোটি টাকার; গাড়ি একটি, যার দাম ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা; ২৫ তোলা সোনার দাম দেড় লাখ টাকা; ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাব দেখানো হয়।

সব মিলিয়ে ওবায়দুল কাদেরের অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। তার স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে শুধু ঢাকার উত্তরায় ৫ কাঠা জমি দেখানো হয়েছে; এই জমির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ওবায়দুল কাদেরের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

নাছিমের সম্পদ-সম্পত্তি
২০২৪ সালের নির্বাচনে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ঢাকা-৮ আসন থেকে অংশ নিয়েছিলেন। তখন জমা দেওয়া হলফনামায় সম্পদের মধ্যে হাতে নগদ ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা; ব্যাংকে ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা; বিভিন্ন কোম্পানিতে মালিকানা, অর্থাৎ শেয়ার এবং বন্ডের মূল্য ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা; সঞ্চয়পত্র ৬০ লাখ টাকার; দুটি গাড়ি, দাম প্রায় ৬৫ লাখ টাকা; ২৫ ভরি সোনার দাম সাড়ে ৩ লাখ টাকা; ইলেকট্রনিস সরঞ্জাম ও আসবাবের দাম সোয়া ১০ লাখ টাকা দেখান।

নাছিমের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। তার স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। অকৃষি জমি রয়েছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে; যার পরিমাণ ১৫৩ শতাংশ। জমির মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

এ ছাড়া নাছিমের রাজধানীর উত্তরায় একটি ভবন রয়েছে, যার দাম ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। রাজধানীর মিরপুরে রয়েছে একটি ফ্ল্যাট, যার দাম ৪৫ লাখ টাকা। তার মোট স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার।

আরাফাতের সম্পদ-সম্পত্তি
আলী আরাফাত ২০২৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে অংশ নেন। এরপর আরাফাত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার নামে স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। হলফনামায় এর মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ ছাড়া তার নামে অন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তির তথ্য নেই।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আরাফাতের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ শেয়ারে। ৯টি কোম্পানির শেয়ার রয়েছে তার নামে, যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী দেখান হলফনামায়।

সব মিলিয়ে আরাফাতের নিজের নামে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

নিখিলের আছে জমি, গাড়ি ও এফডিআর
ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হলফনামায় স্থাবর সম্পত্তির তালিকায় কৃষি ও অকৃষি জমির তথ্য রয়েছে। একটি কৃষিজমি প্রায় সাড়ে ৬ একর, যার মূল্য ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আরেকটি কৃষিজমি ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

নিখিলের তিন কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা। এ ছাড়া বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট শ্রেণিতে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার সম্পত্তির তথ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে তার ঘোষিত স্থাবর সম্পত্তির দাম প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

নিখিলের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। নিজের নামে ১ কোটি টাকার একটি এফডিআরও (ব্যাংকে স্থায়ী আমানত) রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেয়ারের মধ্যে নাবিল প্রোপার্টিজে ৮ লাখ টাকা এবং নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। তিনটি যানবাহন আছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবের দাম প্রায় দুই লাখ টাকা। তার সাড়ে ৫ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

তবে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সম্পত্তির পরিমাণ জানা যায়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!