বাংলাদেশে জিন্নাহর আরাধনা- কী বিস্ময়কর!
জিন্নাহর বিরুদ্ধে দুটি বড় অভিযোগ ছিল—প্রথমত তিনি দাঁড়িয়ে প্রশ্রাব করতেন এবং দ্বিতীয়ত তিনি নামাজ পড়তেন না৷ এমন কি তাঁর ফ্যাশনদূরস্ত দ্বিতীয় স্ত্রী অগ্নিউপাসক জরযুস্ত্র রত্তন বাঈ রুটীও নামাজ পরতেন না৷ ধর্মে তাদের বিশ্বাসও ছিল না৷
একবার বিপাকে পড়ে জিন্নাহকে মসজিদে যেতে হয়৷ জিন্নাহ তাঁর সাথের একজনকে জানালেন, নামাজ কীভাবে পড়তে হয় তা তিনি জানেন না৷ তিনি বলেন, স্যার চিন্তা করবেন না৷ আমি যা যা করি আপনি তা তা করবেন৷ কিন্তু সমস্যা হল সেজদায় গিয়ে...
এক দুপুরে জীন্নাহ ও তাঁর এক সময়ের আইনি সহকারী মহম্মদ আলী করিম চাগলা এক রেস্তোরায় বসে কফি ও শুকরের মাংসের সসেজ খাচ্ছিলেন৷
এক বৃদ্ধ তার ১০ বছর বয়সী নাতিকে নিয়ে আসলেন জিন্নার সাথে দেখা করতে৷ শিশুটি প্লেট থেকে শুকরের সসেজ খুব তৃপ্তিসহ খেতে থাকে৷ তারা চলে গেলে জিন্নাহ রেগে চাগলাকে বলে, 'চাগলা তোমার লজ্জা পাওয়া উচিৎ৷ ওকে সসেজ খাওয়া থেকে আটকালে না কেনো?
.png)
চাগলা হেসে বলল, 'স্যার, আমি ভাবলাম আপনার সসেজ আপনিই বাঁচাবেন৷ তাছাড়া আমি কেনো ওই ছোট ছেলেটিকে বলতে যাবো যে তার কায়েদে আজম শুকরের মাংস খাচ্ছেন৷
চাগলার আত্মজীবনী 'রোজেস ইন ডিসেম্বর'-এ বিস্তারিত পাবেন। চাগলা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন৷ 'রোজেস ইন ডিসেম্বর' (Roses in December) হলো ভারতের প্রখ্যাত বিচারক, কূটনীতিবিদ এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এম. সি. চাগলা (মহম্মদ আলী করিম চাগলা)-এর বিখ্যাত আত্মজীবনী।
জিন্নাহ ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রুটী খুবই অভিজাত জীবন যাপন করতেন৷ তাঁরা উচ্চমানের ফ্রেঞ্চ ওয়াইন ও স্কচ হুইস্কি পান করতে পছন্দ করতেন৷ তারা দুজনেই ছিলেন অবিশ্বাসী ও নাস্তিক৷ বিলিয়ার্ড ও সিগারও তাদের পছন্দ ছিল৷ স্ত্রী রুটীও ছিলেন বোম্বাইয়ের অত্যন্ত ধনী ও আধুনিক পরিবারের কন্যা৷ জিন্নাহ ও রুটী আমৃত্যু মদ্যপান করে গেছেন৷
স্ট্যানলি ওপার্টের 'জিন্নাহ অব পাকিস্তান'-এ বিস্তারিত পাবেন। স্ট্যানলি ওলপার্ট (Stanley Wolpert) রচিত 'জিন্নাহ অব পাকিস্তান' (Jinnah of Pakistan) গ্রন্থটি পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর জীবন ও রাজনীতির ওপর লেখা অন্যতম সেরা এবং বস্তুনিষ্ঠ জীবনীগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।
জিন্নাহ কংগ্রেস করতেন৷ একসময় গান্ধীর সাথে মতানৈক্যে তিনি লন্ডন গিয়ে আইন পেশায় নিয়োজিত হন৷ তখন আল্লামা ইকবাল চিঠি লিখে মুসলিম লীগের হাল ধরতে অনুরোধ করেন৷ এরপর লিয়াকত আলী খান ও তাঁর স্ত্রী রানা লিয়াকত লন্ডনে জিন্নাহর বাড়িতে গিয়ে মুসলিম লীগের দায়িত্ব নিতে রাজি করান৷
কী বিস্ময়কর—একজন ঘোরতর নাস্তিক একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের কর্ণধার হলেন এবং একটি ধর্মভিত্তিক দেশের জাতির পিতা হন!
অবশ্য ভারতের সাভারকারও নাস্তিক ও যুক্তিবাদী ছিলেন৷ স্রষ্টা বা দেবতায় বিশ্বাস করতেন না৷ তিনিই হয়ে উঠেন হিন্দু মহাসভার কর্ণধার৷ তাঁর দেখানো পথে হেঁটেই আজ বিজেপি ক্ষমতায়৷
আজ যারা বাংলাদেশে জিন্নাহর আরাধনা করছেন তারা হয়তো ভেবেই নিয়েছেন—জিন্নাহ বিরাট ইসলামি নেতা, বিশাল বুজুর্গ৷ যদি জানতেন জিন্না নাস্তিক এবং শুকর, ফ্রেঞ্চ ওয়াইন ও স্কচ হুইস্কি ছাড়া তাঁর চলতোই না—তাহলেও কি এমন আরাধনা চালাতেন? অথচ এটাই আধুনিক জিন্নাহ এবং তাঁর স্ত্রী রুটী আরও আধুনিকা!
লেখক : মুজিব রহমান, লিখেছেন- মুন্সীগঞ্জ থেকে।
- ** মতামত লেখকের নিজস্ব, মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়