ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ মতামত ]

বাংলাদেশে জিন্নাহর আরাধনা- কী বিস্ময়কর!

মুজিব রহমান
প্রকাশিত: ১৮:১২, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে জিন্নাহর আরাধনা- কী বিস্ময়কর!
কী বিস্ময়কর—একজন ঘোরতর নাস্তিক একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের কর্ণধার হলেন এবং একটি ধর্মভিত্তিক দেশের জাতির পিতা হন!

জিন্নাহর বিরুদ্ধে দুটি বড় অভিযোগ ছিল—প্রথমত তিনি দাঁড়িয়ে প্রশ্রাব করতেন এবং দ্বিতীয়ত তিনি নামাজ পড়তেন না৷ এমন কি তাঁর ফ্যাশনদূরস্ত দ্বিতীয় স্ত্রী অগ্নিউপাসক জরযুস্ত্র রত্তন বাঈ রুটীও নামাজ পরতেন না৷ ধর্মে তাদের বিশ্বাসও ছিল না৷

একবার বিপাকে পড়ে জিন্নাহকে মসজিদে যেতে হয়৷ জিন্নাহ তাঁর সাথের একজনকে জানালেন, নামাজ কীভাবে পড়তে হয় তা তিনি জানেন না৷ তিনি বলেন, স্যার চিন্তা করবেন না৷ আমি যা যা করি আপনি তা তা করবেন৷ কিন্তু সমস্যা হল সেজদায় গিয়ে...
এক দুপুরে জীন্নাহ ও তাঁর এক সময়ের আইনি সহকারী মহম্মদ আলী করিম চাগলা এক রেস্তোরায় বসে কফি ও শুকরের মাংসের সসেজ খাচ্ছিলেন৷ 

এক বৃদ্ধ তার ১০ বছর বয়সী নাতিকে নিয়ে আসলেন জিন্নার সাথে দেখা করতে৷ শিশুটি প্লেট থেকে শুকরের সসেজ খুব তৃপ্তিসহ খেতে থাকে৷ তারা চলে গেলে জিন্নাহ রেগে চাগলাকে বলে, 'চাগলা তোমার লজ্জা পাওয়া উচিৎ৷ ওকে সসেজ খাওয়া থেকে আটকালে না কেনো? 

Advertisement

চাগলা হেসে বলল, 'স্যার, আমি ভাবলাম আপনার সসেজ আপনিই বাঁচাবেন৷ তাছাড়া আমি কেনো ওই ছোট ছেলেটিকে বলতে যাবো যে তার কায়েদে আজম শুকরের মাংস খাচ্ছেন৷ 

চাগলার আত্মজীবনী 'রোজেস ইন ডিসেম্বর'-এ বিস্তারিত পাবেন। চাগলা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন৷ 'রোজেস ইন ডিসেম্বর' (Roses in December) হলো ভারতের প্রখ্যাত বিচারক, কূটনীতিবিদ এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এম. সি. চাগলা (মহম্মদ আলী করিম চাগলা)-এর বিখ্যাত আত্মজীবনী।

জিন্নাহ ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রুটী খুবই অভিজাত জীবন যাপন করতেন৷ তাঁরা উচ্চমানের ফ্রেঞ্চ ওয়াইন ও স্কচ হুইস্কি পান করতে পছন্দ করতেন৷ তারা দুজনেই ছিলেন অবিশ্বাসী ও নাস্তিক৷ বিলিয়ার্ড ও সিগারও তাদের পছন্দ ছিল৷ স্ত্রী রুটীও ছিলেন বোম্বাইয়ের অত্যন্ত ধনী ও আধুনিক পরিবারের কন্যা৷ জিন্নাহ ও রুটী আমৃত্যু মদ্যপান করে গেছেন৷ 

স্ট্যানলি ওপার্টের 'জিন্নাহ অব পাকিস্তান'-এ বিস্তারিত পাবেন। স্ট্যানলি ওলপার্ট (Stanley Wolpert) রচিত 'জিন্নাহ অব পাকিস্তান' (Jinnah of Pakistan) গ্রন্থটি পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর জীবন ও রাজনীতির ওপর লেখা অন্যতম সেরা এবং বস্তুনিষ্ঠ জীবনীগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

জিন্নাহ কংগ্রেস করতেন৷ একসময় গান্ধীর সাথে মতানৈক্যে তিনি লন্ডন গিয়ে আইন পেশায় নিয়োজিত হন৷ তখন আল্লামা ইকবাল চিঠি লিখে মুসলিম লীগের হাল ধরতে অনুরোধ করেন৷ এরপর লিয়াকত আলী খান ও তাঁর স্ত্রী রানা লিয়াকত লন্ডনে জিন্নাহর বাড়িতে গিয়ে মুসলিম লীগের দায়িত্ব নিতে রাজি করান৷

কী বিস্ময়কর—একজন ঘোরতর নাস্তিক একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের কর্ণধার হলেন এবং একটি ধর্মভিত্তিক দেশের জাতির পিতা হন! 

অবশ্য ভারতের সাভারকারও নাস্তিক ও যুক্তিবাদী ছিলেন৷ স্রষ্টা বা দেবতায় বিশ্বাস করতেন না৷ তিনিই হয়ে উঠেন হিন্দু মহাসভার কর্ণধার৷ তাঁর দেখানো পথে হেঁটেই আজ বিজেপি ক্ষমতায়৷ 

আজ যারা বাংলাদেশে জিন্নাহর আরাধনা করছেন তারা হয়তো ভেবেই নিয়েছেন—জিন্নাহ বিরাট ইসলামি নেতা, বিশাল বুজুর্গ৷ যদি জানতেন জিন্না নাস্তিক এবং শুকর, ফ্রেঞ্চ ওয়াইন ও স্কচ হুইস্কি ছাড়া তাঁর চলতোই না—তাহলেও কি এমন আরাধনা চালাতেন? অথচ এটাই আধুনিক জিন্নাহ এবং তাঁর স্ত্রী রুটী আরও আধুনিকা!

লেখক : মুজিব রহমান, লিখেছেন- মুন্সীগঞ্জ থেকে।

  • ** মতামত লেখকের নিজস্ব, মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়
ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!