বইমেলাতে দৃষ্টি কেড়েছে গ্রামীণ আবহে নির্মিত ‘বাড়ি’
এবারের বইমেলায় সবমিলিয়ে অংশ নিয়েছে ৬৩৫টি প্রকশনা প্রতিষ্ঠান। এর ভেতর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে আকাশ প্রকাশনীটির স্টল মেলায় আগত পাঠক-দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। তবে নজর কাড়লেও এই স্টলটিতে উপস্থিতির তুলনায় পাঠক সংখ্যা কম, যারা কি’না এখান থেকে বই কিনছেন। তারপরেও বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট রয়েছে এই স্টলের বিক্রয়কর্মীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনের চাল এবং কাঠে নির্মিত বাড়ি। যেখানে রয়েছে দরজা-জানালা। আকৃতিতে বাড়ি হলেও এমন অভিনব পন্থায় নির্মিত বইয়ের স্টল। পুরো বাড়ি জুড়ে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন প্রকার বইয়ে। আকাশের স্টলে আসছেন, বই উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে দেখছেন চলে যাচ্ছেন কেউবা বইও কিনছেন।
রাজধানীর বাসাবো থেকে এসেছে চন্দ্রিমা বিশ্বাস বলেন, মেলার আকাশের স্টলটি বেশ ভালো লেগেছে। সাধারণ এই বাড়িগুলো মুন্সীগঞ্জ এলাকাতপ দেখেছি। তবে ওই এলাকাতে দেখা হলেও মেলাতে অনেক কাছ থেকে দেখার সুযোগ হলো। কিছু ছবি তোলা হয়েছে সঙ্গে মোসাদ নামে একটা অনুবাদ গ্রন্থ কেনা হয়েছে, মনে হচ্ছে বইটি ভালো হবে।
.png)
এদিকে চন্দ্রিমা বই কিনলেও অধিকাংশই স্টলে এসে ছবি তুলে চলে যাচ্ছেন। তেমনটাই ডেইলি বাংলাদেশকে জানিয়েছেন প্রকাশনীটির বিক্রয়কর্মী আবু রায়হান। তিনি বলেন, আমাদের স্টলে উপস্থিতি বেশ ভালো। তবে লোকসমাগম হলেও পাঠকের তুলনায় দর্শনার্থী বেশি। তারা অনেকেই আসছেন শুধু ছবি তোলার জন্য। তারপরেও আমাদের বিক্রি বেশ ভালো।
মহিমা ফেরদৌস নামে প্রকাশনীটির আরেক বিক্রয়কর্মী বলেন, যেহেতু আমারা অনুবাদ নিয়ে বেশি কাজ করি। অনুবাদ নিয়ে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি ল্ এছাড়া মেসাদ, মাফিয়া, গড ফাদার, চাণক্য, সমরেশ মজুমদারের বেশ কিছু বই আমাদের ভালো বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি মেলাতে এবার ভালো সাড়া পাবো।
উল্লেখ্য, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি ইউনিট অর্থাৎ মোট ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৯৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৭টি (একাডেমি প্রাঙ্গণে ১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি) প্যাভিলিয়ন রয়েছে। সব মিলিয়ে অংশ নিয়েছে ৬৩৫টি প্রকশনা প্রতিষ্ঠান।
ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১শে ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেলা শুরু হবে সকাল ৮টা এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।