ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বইমেলা ]

অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে বইমেলা এলাকা জলমগ্ন

আরিফ জাওয়াদ, ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:২৫, ১৪ মার্চ ২০২৬
অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে বইমেলা এলাকা জলমগ্ন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফাল্গুনের আকাশে গুমোট আবহাওয়ার শঙ্কা সত্যি হলো রাত ৮টার দিকে। হঠাৎ নামা ঝড়ো বৃষ্টিতে মুহূর্তেই ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে অমর একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। নিমিষের মধ্যে পাঠক-দর্শনার্থীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকেন। অন্যদিকে স্টলের বিক্রয়কর্মীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন বই পলিথিন দিয়ে মোড়াতে। বই বাঁচাতে গিয়ে অনেকের স্টল ভিজে যায়।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টায় বইমেলার দুয়ার খোলে, যা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলা শেষ হতে যখন আর প্রায় এক ঘণ্টা বাকি, তখনই আবহাওয়ার আচমকা পরিবর্তনে কালবৈশাখী ঝড়ের মতো দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় মেলা প্রাঙ্গণ। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে ঝুম বৃষ্টির সঙ্গে কয়েক দফায় ছোট-বড় শিলাও পড়ে।

বৃষ্টি কিছুটা কমলে মেলা ঘুরে দেখা যায়, কেউ স্টল ঠিক করছেন, আবার অনেকে বৃষ্টিতে ভেজা বই মুছে শুকানোর চেষ্টা করছেন। বই মুছতে মুছতে আহসান পাবলিকেশন্সের স্বত্বাধিকারী মো. ফয়সাল বলেন, বৃষ্টির পানিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার বই ভিজে গেছে।

Advertisement

তিনি বলেন, বই আগুনে বা পানিতে ভিজে গেলে আর ঠিকভাবে রক্ষা করা যায় না। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এমনিতেই এবারের মেলায় বিক্রি কম, তার ওপর এই অতিরিক্ত ক্ষতি।

আগের মেলাগুলোতে এমন ঝড় দেখেননি উল্লেখ করে ফয়সাল বলেন, আগে বৃষ্টি হলেও এভাবে ঝড়ের সঙ্গে হয়নি। ঝড়ো হাওয়ার কারণে ক্ষতি বেশি হয়েছে। বিশেষ করে মেলার শেষের দিকের স্টলগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন যতটা সম্ভব ভেজা বই মুছে আবার সাজিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।

পথিক প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী বেলাল হোসেন বলেন, আগে থেকে কিছু প্রস্তুতি থাকায় তাদের বই ভেজেনি। তবে স্টলের ভেতরে কিছু পানি ঢুকে পড়েছিল।

এদিকে আগামী প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমিরুল ইসলাম জানান, সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও পানি ঢোকা ঠেকানো যায়নি। ফলে তাদের বেশ কিছু বই ভিজে নষ্ট হয়েছে।

রাত ৯টার পর বৃষ্টি থেমে গেলে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায় অনেক স্টলের সামনে পানি জমে আছে। ছন্নছাড়া মেলায় তখন বই বিক্রি প্রায় বন্ধ থাকলেও ব্যতিক্রম ছিল হকাররা। তারা আশ্রয় নেওয়া মানুষদের ভিড়ের মধ্যে ঘুরে ঘুরে ঝালমুড়ি, চকলেটসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করছিলেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের মাঝের সড়কে বসা অস্থায়ী দোকানগুলোও সরিয়ে নেওয়া হয় মেট্রোর পিলারের নিচে। সেখানে বেচাকেনাও চলতে থাকে। মেলার ভেতরের আড্ডার অনেকটাই তখন সরে আসে এসব দোকানের সামনে।

প্রসঙ্গত, ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অমর একুশে বইমেলা ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারেন না। ছুটির দিনে মেলা চলে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এবারের মেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১০১৮টি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/AS
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!