শনিবার (১৪ মার্চ) বাংলা একাডেমির জনসংযোগ দফতরের ও বই মেলার তথ্যকেন্দ্র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, শনিবার মেলার ১৭তম দিনে আসা ১৫৭টি বইয়ের মধ্যে গল্পের বই ছিল ২৮টি, উপন্যাস ২৫টি, প্রবন্ধ ১৫টি, কবিতা ৪৬টি, গবেষণা ৩টি, ছড়া ১টি, শিশুসাহিত্য ৫টি, জীবনী ৮টি, মুক্তিযুদ্ধ ১টি, ভ্রমণ ৪টি, ইতিহাস ৩টি, রাজনীতি ৪টি, স্বাস্থ্য ১টি, ধর্ম ১টি, অনুবাদ ২টি এবং অন্যান্য ১০টি।
.png)
যা ছিল মেলার আজকের আয়োজনে: এইদিন সকাল ১১টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবিতা আবৃত্তি। কবিতাপাঠে অংশ নেন প্রায় ৩০জন কবি ও আবৃত্তিশিল্পী এবং ২টি আবৃত্তি সংগঠন (এনামুল হক জুয়েলের পরিচালনায় জাতীয় আবৃত্তি পরিষদ এবং মো. রবিউল আলম রবির পরিচালনায় শিশুনন্দন)।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবর্ষ : মুসলিম সাহিত্য সমাজ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোরশেদ শফিউল হাসান। আলোচনায় অংশ নেন মমতাজ জাহান। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
মোরশেদ শফিউল হাসান বলেন, সাহিত্যিক সংগঠন বা গোষ্ঠী হিসেবে মুসলিম সাহিত্য সমাজের যাত্রা শুরু হয়। বাংলা ভাষায় সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্য নিয়েই ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম সাহিত্য সমাজ। মুসলিম সাহিত্য সমাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেখকেরা মূলত সে সময়কার প্রচলিত সাহিত্যিক বাংলাতেই তাদের লেখালেখি করেছেন, যে ভাষাতে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবাই সাহিত্যচর্চা করতেন। বাঙালি মুসলমানের জন্য বাংলা ভাষা চর্চা কিংবা শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে এ ভাষার অপরিহার্যতার বিষয়টি গোড়া থেকেই মুসলমান সাহিত্য সমাজের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের চিন্তায় গুরুত্ব পেয়েছিল। তারা মনে করতেন মাতৃভাষার মধ্য দিয়েই জগতের ভাবধারার সঙ্গে সমাজকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত, তা হলেই আমাদের পক্ষে উন্নতির পথে অগ্রসর হওয়া সহজ হবে। বাঙালি মুসলমানের বৃদ্ধিবৃত্তিক ও আর্থিক দারিদে্র্যর জন্য তারা মাতৃভাষা নিয়ে বাঙালির দ্বিধান্বিত অবস্থান ও হীনম্মন্যতাকে দায়ী করেছিলেন।
মমতাজ জাহান বলেন, মুসলিম সাহিত্য সমাজ তথা শিখা গোষ্ঠীর সদস্যরা আমাদের চিন্তাচেতনা জগতে বিস্ময়কর প্রভাব রেখে গেছেন। তারা সবাই ছিলেন উচ্চশিক্ষিত, যার ফলে শিখা গোষ্ঠীর মধ্যে আধুনিক চেতনা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। তারা নারীশিক্ষার ওপরও জোরারোপ করেছিলেন। ভাষার প্রশ্নে তারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে মাতৃভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, শিখা গোষ্ঠী এর সমসাময়িককালে অসামান্য আধুনিকতা এবং আমাদের জন্য দিগ্দর্শনমূলক ভূমিকা পালন করেছে। এই গোষ্ঠীর লেখকদের রচনাগুলোকে যদি আমরা ঐতিহাসিকভাবে এবং পরিপ্রেক্ষিতের মধ্যে স্থাপন করে পাঠ করতে পারি, তাহলে তা আরো ফলপ্রসূ হবে।
এদিকে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন কবি জাকির আবু জাফর, কথাসাহিত্যিক-অনুবাদক শাকির সবুর, প্রবন্ধিক রাজীব সরকার এবং গবেষক খান মাহবুব।
বিকেল ৪টায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন অলোক কুমার সেন, দেবিকা রানী পাল, সিনথিয়া, শারমিন সুলতানা। এছাড়াও ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদ’ এবং জহির আলীমেরর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন আবদুল আলীম ফাউন্ডেশনের পরিবেশনা।
আগামীকাল মেলার সমাপনী দিনের সময়সূচি, আয়োজনে যা থাকছে: আগামীকাল রোববার (১৫ মার্চ) অমর একুশে বইমেলার সমাপনী দিন। মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
এতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’—এর সদস্য-সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি।
শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার, সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হবে। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।