চাকসুর কার্যক্রমের স্মারক হয়ে থাকছে দুই গ্রন্থ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) উদ্যোগে ‘নবদিগন্ত’ ও ‘চাকসু নির্বাচিত প্রবন্ধসমগ্র’ নামে দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নবদিগন্ত’ গ্রন্থে বিজ্ঞান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনা স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে ‘চাকসু নির্বাচিত প্রবন্ধসমগ্র’ গ্রন্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাদের লেখা প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। এসব প্রকাশনার মধ্য দিয়ে চাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম ও সৃজনশীল উদ্যোগ সংরক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রন্থ দুটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব, লাইব্রেরি ও পাঠাগার সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মাহবুব পাটোয়ারীসহ সংসদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
অনুষ্ঠানে চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, কোনো কাজে বিনিয়োগের পর তার সুফল দৃশ্যমান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সেই ফলাফল স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা না গেলে তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। মানুষের জীবনে যেমন সব সময় আনন্দ কিংবা সংকট থাকে না, তেমনি সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। অতীতে অনেক সুলতান, নবাব ও জমিদার পরিবারের অস্তিত্ব হারিয়ে গেলেও তাদের সৃষ্টি ও কর্মের কিছু নিদর্শন এখনো টিকে আছে।
গ্রন্থ প্রকাশনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কাজের মাধ্যমে স্থায়ী কিছু রেখে যাওয়া তার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়। কোনো তথ্যচিত্র বা প্রকাশনা মানুষের কাছে পৌঁছে দিলে সেখান থেকে অনেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিতে পারেন। চাকসুর কার্যক্রমের শুরু থেকেই প্রতিটি সম্পাদককে এমন উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যা দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, এমন কিছু কাজ রেখে যেতে হবে, যা ২০ বা ৫০ বছর পরও মানুষ দেখতে পারবে এবং চাকসুর কার্যক্রমের স্মারক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবে।
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক অনুষ্ঠান, কোর্স ও সেমিনার আয়োজনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। এসব কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও ব্যাপক চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সনদ ও মাইগ্রেশন সনদসংক্রান্ত কার্যক্রমে অটোমেশন চালুর বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশে পড়তে যাওয়া কিংবা বিদেশ থেকে ফিরে আসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের সনদসংক্রান্ত কাজ সহজ করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সাঈদ বিন হাবিব বলেন, আগের সরকারের আমলে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিরোধী মতের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, মারধর ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ছিল। বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ক্লাস করতে বাধা দেওয়া এবং হল ও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও বিভিন্ন ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
চাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মাহবুব পাটোয়ারী বলেন, বর্তমান সংসদ কাজের মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা চলছে। আয়োজিত কোর্সগুলোতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য পাঁচ হাজার, দুই হাজার ও এক হাজার টাকা পুরস্কারের পাশাপাশি সনদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের চাহিদা বিবেচনায় ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কম্পিউটার ল্যাব চালু করা হয়েছে। ল্যাবটি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী করে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আবারও আলোচনা করা হবে।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের কার্যক্রমের সঙ্গে তুলনা করে মাহবুব পাটোয়ারী দাবি করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে চাকসুর উদ্যোগগুলো উল্লেখযোগ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) বিজ্ঞানবিষয়ক কার্যক্রমের সঙ্গে তুলনা করলে চাকসুর উদ্যোগের পরিসর স্পষ্ট হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে চাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।