ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

[ ক্যাম্পাস ]

সমাবর্তন ফি কমানোর দাবিতে জবি প্রশাসনকে আল্টিমেটাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৫১, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সমাবর্তন ফি কমানোর দাবিতে জবি প্রশাসনকে আল্টিমেটাম
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি কমানোর দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা। আগামী রোববার দুপুর ১২টার মধ্যে ফি কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা না হলে উপাচার্যের ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে মাসুদ রানা বলেন, দীর্ঘদিন পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এ আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে পরিমাণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অযৌক্তিক। হলবিহীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ফি বহন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বিষয়টি উপাচার্যকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং তাঁর নীরবতা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

মাসুদ রানা বলেন, আগামী রোববার দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সমাবর্তন ফি কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা না হলে উপাচার্যের ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের সমর্থন ও সংহতি প্রত্যাশা করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের দীর্ঘ পথচলা শেষে সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা। তবে দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য নির্ধারিত নিবন্ধন ফি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁদের অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনাবাসিক হওয়ায় মেসভাড়া, খাবার ও যাতায়াতসহ দৈনন্দিন ব্যয় বহন করতে হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সমাবর্তনের ফি অনেক শিক্ষার্থীর সামর্থ্যের বাইরে বলে মনে করছেন তাঁরা। কারও কারও মতে, এ ফি তাঁদের প্রায় এক মাসের খরচের সমান। ফলে অর্থাভাবে সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে এ সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে সমাবর্তনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা ও নিবন্ধন ফি উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক (সম্মান), বিবিএ বা সমমানের ডিগ্রিধারী এবং ২০১৬-১৭ থেকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর, এমবিএ বা সমমানের ডিগ্রিধারীরা সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন। এ ছাড়া এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী এবং প্রফেশনাল বা সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের যেসব শিক্ষার্থী বা গবেষক অন্তত একটি ডিগ্রি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেছেন, তাঁরাও নির্ধারিত শর্তে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য স্নাতক (সম্মান), বিবিএ ও সমমানের ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা। এর সঙ্গে মূল সনদের জন্য দিতে হবে আরও ৫০০ টাকা। স্নাতকোত্তর, এমএ, এমএসএস ও সমমানের ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ছয় হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা।

এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ছয় হাজার ৫০০ টাকা এবং মূল সনদ ফি এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাস্টার্স পর্যায়ের প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ৮০০ টাকা। ক্ষেত্রবিশেষে এর সঙ্গে সার্ভিস চার্জও যুক্ত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশগ্রহণের ফি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রথম সমাবর্তনে স্নাতক ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ছিল তিন হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ৪০০ টাকা। স্নাতকোত্তর ও এমবিএ ডিগ্রিধারীদের জন্য নিবন্ধন ফি ছিল চার হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ৪০০ টাকা। এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ছিল চার হাজার ৫০০ টাকা এবং মূল সনদ ফি ৪০০ টাকা। সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ছিল ছয় হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ৮০০ টাকা। এর সঙ্গে নিবন্ধন ও মূল সনদ ফির মোট অর্থের এক শতাংশ সার্ভিস চার্জ যুক্ত ছিল।

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫৩তম সমাবর্তনে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাংক চার্জসহ মোট ফি ছিল তিন হাজার ৩২০ টাকা। সেই হিসাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে স্নাতক পর্যায়ের নিবন্ধন ও মূল সনদ ফি মিলিয়ে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি।

ফি বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সদ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন অনেকে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মুজাহিদ বিল্লাহ এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সমাবর্তনের খরচ এবার বেশি। সমাবর্তনের টুপির জাহাজ আটকে গেছে, তাই টাকা বেশি লাগবে।’

সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বিতীয় সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে আমার এক মাসের খরচ হয়ে যায়। এ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করব, নাকি মেসের খরচ চালাব? অনার্স শেষ করার পরপরই সমাবর্তন পাচ্ছি। কিন্তু এতে অংশ নেওয়াটা বুঝি স্বপ্নই থেকে যাবে।’

সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘আমরা দফায় দফায় কথা বলেছি, আমাদের দাবিগুলো জানিয়েছি। এমনকি সরাসরি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছি। তারপরও যদি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্ব না পায়, তাহলে আর কতবার, কতভাবে বললে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়গুলো আমলে নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে হবে, তাঁদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনায় নিতে হবে এবং সমাবর্তনের ফি শিক্ষার্থীবান্ধব পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ বিষয়টির সুরাহা অবশ্যই করতে হবে।’.

সিন্ডিকেট ও সমাবর্তন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করবে প্রশাসন
সমাবর্তনের ফি পুনর্বিবেচনার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন  বলেন, ‘বিষয়টি আমিও বুঝতে পারছি। সদ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটু কষ্টসাধ্য। তবে সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সিন্ডিকে ও সমাবর্তন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তা ছাড়া আমরা সমাবর্তনের গাউন ও টুপি দিয়ে দেব। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেচনায় এটি খুব বেশি হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে সিন্ডিকেট ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উপাচার্যের এ বক্তব্যের পরও নির্ধারিত ফি কমানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের মধ্যে নতুন করে আল্টিমেটাম দিয়েছেন জকসুর এজিএস মাসুদ রানা। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর শিক্ষার্থীদের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জবি/একেকে
Durga Puja
ক্যাম্পাস জনপ্রিয় খবর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!