৫ লাখের পর ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে হাতুড়ি পেটা
পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক পেয়েও তৃপ্ত হননি। দাবি ছিলো আরো। অবশেষে ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে তার মায়ের সামনে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে স্বামী রকিবুল গাজী (৪০)।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বাবরা হাচলা ইউপির উড়শীতে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার সিআইডি বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সিআইডি জানায়, ঘাতক স্বামী রকিবুল গাজী যৌতুকের ৫ লাখ টাকা নেয়ার পর আরো ১০ লাখ টাকার দাবি করেন। এ নিয়ে ঝামেলা তৈরি হলে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, ছয় বছর আগে ভিকটিমের সঙ্গে আসামির বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আসামি যৌতুক হিসেবে নগদ পাঁচ লাখ টাকা নেয়। আসামি কিছুদিন পর আবার ১০ লাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা তা দিতে অস্বীকার করে। এরপর থেকে ভিকটিমের ওপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন।
তিনি বলেন, ভিকটিমের মা তা জানতে পেরে বসতবাড়ি বিক্রয় করে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দেয়। এ টাকা দিয়ে আসামি বাড়ি, ফার্নিচারের দোকান, কাঠের ডিজাইন করার মেশিন কেনে। এরপর আসামি পুনরায় চার লাখ টাকা দাবি করে। এ টাকা আদায়ের জন্য ভিকটিমের ওপর আবারো নির্যাতন শুরু হলে ভিকটিমের মা বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য মেয়ের বাড়িতে আসে।
তিনি আরো বলেন, পরবর্তিতে এ বিষয় নিয়ে কলহের জেরে আসামি রকিবুল ভিকটিমের মা এর সামনে হাতুড়ি দিয়ে ভিকটিমের মাথায় আঘাত করলে মাথার খুলি ফেটে মগজ বের হয়ে যায়। আশেপাশের মানুষ চিকিৎসার জন্য পল্লী চিকিৎসককে ডেকে আনলে সে জানায় যে, ভিকটিম মারা গেছে।
পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ব্যাপক আলোচিত হয়। এরপর হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামির সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকবার সব স্থানে অভিযান চালায় সিআইডি। যার ধারাবাহিকতায় সিআইডির একটি চৌকস টিম আত্মগোপনে থাকা পলাতক আসামি রকিবুল গাজীকে সাভারের ধামসোনা হতে গ্রেফতার করে।
আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। দ্রুত সময়ে হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে মনে করেন সিআইডির এ বিশেষ কর্মকর্তা।