ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

নাম পাল্টে হত্যা-ডাকাতি, ১০ বছর পর ফাঁসির আসামি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
নাম পাল্টে হত্যা-ডাকাতি, ১০ বছর পর ফাঁসির আসামি গ্রেফতার
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন র‍্যাব-৪ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

২০১২ সালে রাজধানীর শাহ আলী এলাকায় বিরোধের জেরে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হন বাসু নামে এক ব্যক্তি। ঐ ঘটনায় করা মামলায় ২০২১ সালে ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।

এ মামলার প্রধান আসামি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. আলকেসকে শুক্রবার বরিশাল শহর থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। জামিন নিয়ে প্রায় ১০ বছর পলাতক ছিলেন আলকেস। বাসু হত্যার পর ঢাকার সাভার এলাকায় নিজের নাম ঠিকানা গোপন করে বসবাস শুরু করেন। তবে একস্থানে বেশিদিন থাকতেন না তিনি। কখনো বাসচালক, আবার কখনো দিনমজুরের কাজ করতেন। পরে ট্রলার ডাকাতিতেও জড়ান।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

Advertisement

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত আলকেস মামলার বাদী চিনু মিয়া ও ভিকটিম বাসু মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা। চিনু মিয়া ও বাসু মিয়া আপন ভাই। বিরোধের জেরে ২০১২ সালের ১৪ মে বিকেলে আলকেস, আজগর, রাজু, খলিল, সেলিম, কদর আলী, লেদুসহ অজ্ঞাত ৬-৭ জন আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে বাসু মিয়ার ওপর আক্রমণ করে। এক পর্যায়ে আলকেস তার কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করলে বাসুর মাথায় লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঐ ঘটনায় নিহতের ভাই চিনু মিয়া বাদী হয়ে আলকেসসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে শাহ আলী থানায় মামলা করেন। ঐ মামলায় গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আলকেস। পরে জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।

মামলার তদন্ত শেষে ১৪ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল হলে আদালত বিচারকার্য শেষে ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর আলকেস, আজগর, খলিল, সেলিম ও রাজুকে মৃত্যুদণ্ড এবং কদর আলী ও লেদুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়।

এদিকে জামিনে থাকা অবস্থায় আলকেসের সঙ্গে আজাহার ও সানুর মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভ থেকে আলকেসের হামলায় আজাহার ও সানু নিহত হন। এই ডাবল মার্ডারের প্রধান আসামিও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলকেস। ঐ মামলা বিচারাধীন।

আত্মগোপনে পেশা-নাম বদল
বাসু হত্যা মামলায় চার মাস হাজতবাস করে জামিন নিয়ে এলাকায় অবৈধ বালুর ব্যবসা শুরু করেন আলকেস। ঐ সময় আজাহার ও সানু হত্যার দায়ে সাভার থানায় ওয়ারেন্ট জারির পর পালান তিনি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং সংরক্ষণ করার অপরাধে পরিবেশ অধিদফতরের করা মামলার আসামিও আলকেস। এছাড়া শাহ আলী থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি তিনি।

সব মামলার চাপে আত্মগোপনে চলে যান আলকেস। গত ১০ বছর ধরে আলকেস ঠিকানা পরিবর্তন করে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় নিজের নাম-পরিচয় ও পেশা বদলে ফেলেন। প্রথমে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকের কাজের পাশাপাশি হত্যা, ডাকাতি করতেন। পরে বরিশাল গিয়ে ট্রাকের হেল্পার ও পরে চালক হিসেবে কাজ করেন। বেপরোয়াভাবে বাস চালানের সময় সিলেটে তার বাসের নিচে পড়ে একজন নিহত হয়। ঐ ঘটনায় মামলা হলে তিনি পুনরায় পালিয়ে কুয়াকাটায় মাছ ধরার ট্রলারে কাজ শুরু করেন।

র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে মাছ ধরার পাশাপাশি সাগরে বিভিন্ন ট্রলারে ডাকাতি করতেন বলে স্বীকার করেছেন আলকেস। গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত গত দেড় বছর একটি দূর পাল্লার পরিবহনের চালক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!