‘সর্বনাশা আগুন সব স্বপ্নগুলোকে পুড়ে ছাই করে দিলো’
‘গত বছর ব্যবসা তেমন হয়নি। এর আগে গেছে করোনার ধাক্কা। এবার বেশ জমে উঠেছিল ব্যবসা। লাভও হচ্ছিল। ভেবেছিলাম গত বছরগুলোর ক্ষতি কাটিয়ে উঠবো। কিন্তু সর্বনাশা আগুন সব স্বপ্নগুলোকে পুড়ে ছাই করে দিলো। আমার ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।’
আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন নিউমার্কেটের পোশাক ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, নিউ মার্কেটে তিনি খুচরা পোশাকের ব্যবসা করতেন। শার্ট, প্যান্ট ইত্যাদি ছিল দোকানে। প্রথমে ভেবেছিলেন আগুন লাগবে না তার দোকানে। কিন্তু বিধি বাম। সর্বনাশা আগুন থেকে শেষ রক্ষা হলো না তার দোকানের।
জাহিদুল বলেন, ৩০ লাখ টাকার মতো মালামাল ছিল দোকানে। কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। ১৪-১৫ জন কর্মচারী কাজ করে আমার দোকানগুলোতে। ওরা সবাই বেকার হয়ে গেল। কী হবে এখন আমাদের?
জানা গেছে, জাহিদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরে। বসবাস করেন ঢাকার আজিমপুরে। ২০ বছর ধরে ব্যবসা করছেন নিউ মার্কেটে। ২০ বছরের সাজানো ব্যবসা যেন চোখের সামনে ছাই হয়ে গেল।
তিনি জানান, করোনার ধাক্কা তো ছিল আগের বছরগুলোয়। গত বছরও ব্যবসা হয়নি। এবার আশানুরূপ হচ্ছিল। আগুন লাগার আগের দিন শুক্রবারে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার মালামাল বিক্রি হয়েছিল দোকানে। ভেবেছিলাম আগের সব ক্ষতি কাটিয়ে উঠবো। কিন্তু তা আর হলো না।
জাহিদুল আরো জানান, ২০ বছরের ব্যবসা আমাদের। আমরা আর কিছুই শিখিনি। এটাই কর্ম। এখন তো অন্য পেশায় যেতেও পারবো না। আমরা ১৫টা পরিবারের রিজিক আসত এই দোকান থেকে। এ আগুন আমাদের নিঃস্ব করে দিলো। কী করে চলবো, কী খাবো আমরা কিছুই জানি না।
দোকানের এক কর্মচারী বলেন, আমাদের স্ত্রী, পরিবার, বাচ্চারা সবই নির্ভরশীল ছিল এই দোকানগুলোর ওপর। চোখের সামনে আমাদের স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন আমাদের কী হবে? আমরা তো সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসলাম।
ব্যবসায় কোনো ঋণ ছিল কিনা জানতে চাইলে জাহিদ বলেন, ব্র্যাক ব্যাংক আর সিটি ব্যাংক থেকে ২৭ ও ১৫ লাখ টাকার ঋণ নিয়েছিলাম। আস্তে আস্তে ব্যবসা করে ঋণ কাটিয়ে উঠছিলাম। এরইমধ্যে সব শেষ হয়ে গেল।
বারবার কেন এতো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে; এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সবই আল্লাহর ইচ্ছা। কেন এমন হচ্ছে কিছুই বুঝতেছি না। আমাদেরও সতর্কতা প্রয়োজন।
সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রণোদনা প্রত্যাশা করেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার সাহায্য করলে ভালো। আমাদের তো আর কিছু নেই। লসের পর লস দিয়ে ব্যবসা করেছি। এখন তো মূলধনও গেল।
ভবিষ্যতে আবার ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বড় ক্ষতি হয়তো হয়ে গেছে, তবুও আল্লাহ চাইলে আবার ব্যবসায় নামবো। আল্লাহ নিয়ে গেছে, আল্লাহই আবার দিবে। ইনশাআল্লাহ আবার ঘুরে দাঁড়াবো। তবে তাতো আর দু-চারদিনে তা সম্ভব না। অনেকটা সময় লেগে যাবে।