ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]
গাবতলী হাট

বৃষ্টির বাগড়ায় কমেছে পশু বেচাবিক্রি

আসমাউল মুত্তাকিন
প্রকাশিত: ০১:৪৬, ২৮ জুন ২০২৩
বৃষ্টির বাগড়ায় কমেছে পশু বেচাবিক্রি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মঙ্গলবার সকাল ৭টা। আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। এরমধ্যে শুরু হয় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। কখনো জোরে, কখনো ধীরে। সকাল থেকে দুপুর। এরমধ্যে বৃষ্টি দেখায় তার কয়েকটি রূপ। এই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাটে নিজের প্রিয় গরুকে নিয়ে হাজির হাজারো বিক্রেতা। হাটে এসে বিক্রেতারা দেখলেন উল্টো চিত্র। ক্রেতার উপস্থিতি কম। যারা হাটে আছেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম বলছেন না কেউ কেউ।

গাবতলী হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। বৃষ্টির ভোগান্তি মাথায় নিয়ে হাটে প্রবেশ করেছেন কেউ কেউ। ঈদের বাকি একদিন। এরমধ্যে নাড়ির টানে বাড়ির পথে যাচ্ছেন অনেকেই।  যার কারণে রাজধানীর গাবতলী পরিণত হয়েছিল যানজটে। পরিবহনে চলাচল হয়েছিল কঠিন। তবুও সবকিছু উপেক্ষা করে রাজধানীর বাইরে থেকে শতশত ট্রাকবোঝাই হাজার হাজার গরু প্রবেশ করেছে গাবতলীর পশুর হাটে। কোরবানির পশু বেছে নিতেই হাট এসেছেন ক্রেতারা। সকাল থেকে ক্রেতার সংখ্যা তেমন একটা চোখে না পড়লেও দুপুরের পর থেকে সংখ্যা কিছুটা বাড়তে থাকে। তবে হাটে আসা ক্রেতাদের নজর মাঝারি আকারের গরুর প্রতি। লাখ টাকার গরু কেনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অনেক ক্রেতারাই।

একটু ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে লক্ষ্মীপুরের ‘সম্রাট’। যার দাম রাখা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। গরুর মালিক খামারি আবুল হোসেন। মূলত চার বছর ধরে গরুটি তিনি লালন-পালন করেছেন। এখন বিক্রি করতে ঢাকায় এনেছেন।

Advertisement

ডেইলি বাংলাদেশকে এই খামারি বলেন, গরুটি ব্রিক্রি করতে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলাম। কেউ তেমন একটা দাম বলেনি। একজন এসেছিল গতকাল। দুই লাখ টাকা দাম বলেছিল। কিন্তু আমি দেইনি। কাছাকাছি দাম বললে গরুটি দিয়ে দিতাম। কিন্তু বলেনি। তাই দেইনি।

এদিকে মাঝারি আকারের গরু নিয়ে পাবনা থেকে গাবতলীতে এসেছেন মনসুর আলী। ঢাকায় আছেন চারদিন ধরে। গরু নিয়ে এসেছিলেন ১৪টি। বিক্রি করেছেন ৯টি। সবগুলো মাঝারি আকৃতির গরু। আজও দুটি বিক্রি করেছেন।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশডেইলি বাংলাদেশকে মনসুর আলী বলেন, আমি ১৪টি গরু নিয়ে এসেছিলাম। মোটে বিক্রি হয়েছে ৯টি। এরমধ্যে একটি গরুর দাম ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। ওটাই আমার সবচেয়ে বেশি দামি গরু ছিল। তাছাড়া কয়েকটা গরুর দাম লাখ টাকা পার হয়েছে। এখন কয়েকটা লাখ টাকা দাম চাইছি। তবে ৮০ কিংবা ৯০ হাজার টাকা হলে ছেড়ে দিবো। তবে হাটে বড় গরুর চেয়ে আমাদের ছোট গরু কিনছে সবাই। আশা করছি কালকের মধ্যে বাকিগুলো বিক্রি করে বাড়ি ফিরব।   

এদিকে হাট সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের আগে আজই সবচেয়ে বেশি বেচা-কেনা হওয়ার কথা। বিষয়টি মাথায় রেখে আগে থেকে হাটে এসেছেন বিক্রেতারা। হাটে গরুর কোনো সংকট নেই। একের পর এক ট্রাক ঢুকছে। 

এমন প্রমাণ মিলছে গাবতলীর পশু হাটের মূল ফটকে। জায়গাটি নিচু হওয়ায় ট্রাক থেকে গরু নামানোর ফলে স্থানটি কর্দমাক্ত হয়েছে। যার কারণে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ পথ ধরে হাঁটতে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা। 

কল্যাণপুর থেকে গাবতলী হাটে আসা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বৃষ্টি হয়েছে। চারিদিকে কাদা। খুবই খারাপ একটা পরিবেশ। হাঁটা যাচ্ছে না। পুরো এলাকা কাদা কাদা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!